ব্যক্তিগত কথাকাব্য-৩

পাঠ্য বই আর ড্রয়িং রুমের
টিভিতে যখন বন্ধী হয়ে যাচ্ছিল
আমার শৈশব,তখন এক সন্ধ্যায় কেউ
একজন শুনিয়েছিলও আমায়
"চলতে শিখতে চাও?

চাইলে মানুষ
দেখ ,মানুষ । কেননা একেকটা মানুষ
যে একেকটা মহাকাব্য। "

তারপর থেকে কেমন জানি এই মানুষ
দেখার প্রেমে পড়ে গেলাম।মানুষ
দেখতে শুরু করলাম। মন খারাপ হলেই
ষ্টেশন রোড চলে যেতাম,মানুষ দেখার
জন্যে।

অদ্ভুত হলেও সত্যি মানুষ
দেখতে দেখতে এক সময় ভুলেই যেতাম
'মনটা খারাপ ছিল কি জন্যে'।


আমি খুব
অল্পবয়সে বাস্তবতা দেখে ফেলেছি,তাই
ইঁচড়েপাকা ট্যাগ পেয়েছি। অপ্রিয়
সত্য বলে ফেলতাম তাই
বখাটে হয়ে গেছি।

আর আমি মানুষ দেখেছি,তাঁদের
বুঝতে চেষ্টা করেছি , এখনও করেই
যাচ্ছি । তবে মহাকাব্য বুঝার
ক্ষমতা অর্জন করতে পারি নি।

প্রতিদিন ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার
পথে ভূগর্ভস্থ রেলওয়ের
প্ল্যাটফর্মে এক কোণে আমি ভিন্ন-
দুটি মানুষ দেখি।

-"gucci"ব্যাগ কাঁধে ঝুলানো,আইফোন
হাতে ফর্মাল ড্রেসে এক তিরিশ ঊর্ধ্ব
পুরুষ। এক দেখাতেই
মেয়েরা যাকে আদর্শ পুরুষ
বলে লালা ঝরাবে।সে একটু পর পর
কাঁধে,পেটে হাত দিয়ে অদৃশ্য ময়লা দূর
করার চেষ্টা করে।
- ময়লা ফিতা ঝুলানো এ্যাকোস্টিক
হাতে জীর্ণ শরীরের এক বৃদ্ধ। হ্যাঁ,
সে ভিক্ষা করে।গীটারের ছয়
তারে বারো রকমের সুর
উঠিয়ে ট্রেনের এক বগি থেকে অন্য
বগিতে হেঁটে চলে এ্যাকোস্টিক
হাতে হাসি মুখে............

আমি হলফ করে বলতে পারি অর্থের
অভাবে হাতপাতা বৃদ্ধ, ঐ সুট
পরা সুপুরুষের চেয়ে বহু গুনে সুখে আছে।
সে তার মত করে বেঁচে আছে আনন্দ
নিয়ে।

মানুষের ভিড়ের
ভাপসা গরমে যে গন্ধ তৈরি হয়
তা থেকে বাঁচার জন্যে সুট,টাই
লাগানো নাক চেপে ধরা তাঁদের
দেখলেই আমার হাসি লাগে,
আহারে কি কষ্টেই না বেঁচে আছে ২,৫
কোটি মানুষের এই শহরে পরিচ্ছন্ন
মানুষ গুলো।

ভিড়
ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া কিংবা মেট্রো-
ট্রেনের এক
কোনে ট্যাটুতে ভরা শরীরের
মেয়েটা যখন লেপটে বসে চকলেট বার
চিবাতে থাকে তাঁরে দেখলে মনটা ভরে উঠে।

সুখ তো মনে হয় তারেই বলে, শত মানুষ
মাঝে যে নিজেকে নিয়ে নিজের মত
বেঁচে থাকে।

F**k সোসাইটি, F**k মরালিটি :-)

0 comments:

Post a Comment