আমি আর আমার সেই বন্ধুটি, যে জোনাকি ভালবাসতো

প্রিয় রংপেন্সিল,
আছিস কেমন রে ?

অনেকদিন পর
তোকে লিখলাম।

জানিস আমাদের বাড়ির
পাশে সেই ডোবাটা আজো আছে।
কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময় তার
অস্তিত্ব বোঝা যায় না,শুধুমাত্র
বর্ষাকাল ছাড়া।

বর্ষা এলেই এটা হয়ে যায়
ব্যাঙ্গের অভয়ারন্য।
সারারাত ব্যাঙ্গের ডাকাডাকি।ভালই
লাগে রাতে ঝিঁ ঝিঁ পোকা ও শেয়ালের
ডাকের
সাথে ব্যঙ্গের এই ঐকতান।

তুই আসিস আমি তোকে শোনাব।জানিস
বাড়ির পাশের ঝোপটা নাকি পরিস্কার
করে ফেলবে।শুনে আমি কি যে মন খারাপ
করেছি তা তুই ভাবতেও পারবি না।কারন
তুই ভাল করে জানিস
আমি জোনাকি ভিষন পছন্দ করি।

তোর
কি মনে আছে আমি একবার
জোনাকি ধরে ছোট্ট
শিশিতে বন্দি করে রেখেছিলাম
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার
আলো দেখব বলে, কিন্তু সকালে সেই
জোনাকিটা মরে গিয়েছিল,আর আমি ভিষন
মন খারাপ করে ছিলাম।তারপর তুই এক
রাতে অনেক
গুলো জোনাকি পোকা পলথিনে বন্দি করে
এনে দিয়েছিলি, তাপর দুজন
সেগুলো আবার ছেড়ে দিয়ে খুব
মজা করে ছিলাম।

এখনো ঝোপটা আছে,
এখনো সেখানে রাতের বেলায় অনেক
জোনাকি জ্বলে।তুই আসিস আবার দুজন
মিলে জোনাকি পোকার আলো খেলা দেখব।

তাড়াতাড়ি আসতে হবে তা না হলে ঝোপটা
হয়ত কেটে ফেলবে।
তখন দুজন মিলে জোনাকির
আলোখেলা দেখতে পারব না।তুই
এলে আমাদের কোনের জমিটায়
নিয়ে যাবো , যেখানে বর্ষায় জল
আসে এবং অনেক মাছের ঝাঁক আসে।

অনেকদিন যাবত বর্ষা এলেও মাছের
ঝাক আসে না।সম্ভবত তুই নেই তাই
মাছের ঝাক আর আসে না।তুই আসিস দুজন
মিলে আবার
গামছা দিয়ে মাছের ঝাক ধরব।তুই
আসবি তো?

তোর প্রতিক্ষায় রইল অন্ধকার রাতের
জোনাকি,শীতে ক্ষেতের আইলের ঘাসের
উপর জমা শিশির, কোলা ব্যঙ্গের
ডাক,মাছের ঝাক,বৃষ্টির পর
মাটির সোদা গন্ধের সাথে খড়ের গাদার
এক অদ্ভুত গন্ধ আর প্রতিক্ষায় থাকব
আমি।

0 comments:

Post a Comment