হয়তো অন্য কেউ

এই তীব্র স্থিতির মাঝেগতিটাকেই কেমন
বেখাপ্পা লাগে।

ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও
কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?

আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের
ছড়িয়ে থাকা কত!

তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয়
না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ
বয়ে নেয় না।

ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই,
আমি হেরে যাই।

এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন,
বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই
অসহায় হয়ে?

অদৃশ্য পিঞ্জরের এপাশে আমার একলা বসবাস
অহর্নিশ।

জানি এই ফেলে যাওয়া দুপুর আর কোনদিন
আসবে না।

জানি এই কার্তিকের সন্ধ্যার বিষাদের কবর
এখানেই।

জীবন খুবই ক্ষুদ্র, যে যায়, যারা যায়; চিরতরেই
যায়।

হাজারবার ভেবেছি জীবনে এই তো শেষ, এই
তো!

এই মহাকাব্যের যেন শেষ নেই। প্রতিটি শব্দ
বয়ে যায়
তপ্ত অশ্রুধারা আর বক্ষপিঞ্জরের
ভেতরে অগ্ন্যুৎপাতের পর।

এ আমার অনুভূতিমালা, আমার নিঃশব্দ বচন,
নিশ্চুপ কোলাহল।


বলো তো, বছরের পর বছর ধরে বলা আমার
শব্দগুলো
কেমন করে এতটা অর্থহীন বোধ হতে পারে?

কী গভীর যন্ত্রণা সে প্রতিটি শৃঙ্খলাবদ্ধ
আবেগের প্রকাশে
তার হিসেব হবে কোন খাতায়? কবে, কোথায়,
কেমন করে?

শূণ্য দিয়ে পূর্ণ করি আমার রিক্ততার ডালা।

অঘ্রাণে সেই মেঠো পথের গন্ধে আমার
জীবনটা,
পরাবাস্তব জগতের স্বপ্নগুলো, তিক্ত আর কটু
স্বাদ;
অনবরত মুচড়ে ওঠা বুক, হেসে ভুলে যাওয়া।

এমনি করে ভুলে যেতে যেতে ক্লান্ত হই, তবু
উন্মত্ত হতে পারিনা।

হাসিমুখ পথ চলি, কিছুমিছু জোগাড় করার
ন্যুনতম প্রচেষ্টা।

আমি রিক্ত ছিলাম, আছি, থাকবো হয়ত।

আমার রিক্ততা
আমাকে করেছে পড়ে থাকা মেরুদন্ডহীন কেঁচোর
মতন।


হয়ত একদিন মানুষ হবো, একজন সত্যিকার
মানুষ।
ক্ষতবিক্ষত দেহ-প্রাণের আমি নই, সেই
শৈশবের আমি।

মেঠোপথে ভেজা শিশিরে পা গলিয়ে ধনেপাতার
ক্ষেতে পাশে
মায়ের
আঙ্গুল ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলা সেই
আমার মতন কেউ…

হয়ত সে কেবলই স্মৃতি, অথবা বিভ্রম?
অথবা আমি নই! সে হয়ত অন্য কেউ…

0 comments:

Post a Comment