নীল আকাশের ওপারে

নীল আকাশের ওপারে খুব দুরে
নক্ষত্রের পাশে নক্ষত্র হয়ে
কেমন আছিস তুই?

মানুষের বিশ্বাসের স্বর্গে তোর বসবাস, আর
আমি বলেছিলাম
তোর বসবাস সময়ের আর এক পৃষ্ঠায়।

আর তাই ওরা আমাকে নাস্তিক বলেছিলো।

যুঁথি,
তোদের ওখানেও কি মেঘের দালান
কোঠা ভেঙ্গে তুমুল বৃষ্টি হয়?

তোদের ওখানেওকি
কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে পাল্লা দিয়ে
বেড়ে ওঠে মনের ডালপালা?

ওখানেও কি মনের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা
জোছোনা হয়ে পাড়ি দেয় দিগন্ত সমুদ্র?

ওখানেও কি ভাঙ্গে মানুষের ইচ্ছেমত সাধ-সংসার আর
তাসের তাজমহল?




ওই ভুবনে তুই কি এখনো উড়তে পারিস,
অথবা হাসতে?
কিংবা হাঁসের মত পা দুলিয়ে ভাসতে?

আমার এখানে কেবল
খিটখিটে রোদ।

আমি এখোনো সেই ইন্দিরা রোডের
এগারো নম্বর বাসায় থাকি,
রোজ ছাদে উঠি,
পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখি।

অথচ বদলে গেছে আর সব,
তোর অভাবে,
তোর বোনা গোলাপ গাছটিও আজ
বড় বেশি কাতর।

বদলে গেছে অনেক কিছুই,
বদলে গেছে রাস্তা ঘাট,স্বপ্নের চারিপাশ,
রৌদ্রের রঙটাও আজ বড্ড বেশি চুপ করে থাকে।

আর আমি,
এখোনো সেই নষ্ট পাড়ার খামখেয়ালি ছেলে।

যুঁথি,
আমি এখনো গলির মোড়ে বখাটে ছেলেদের
সাথে দাঁড়িয়ে
গলা ছেড়ে গান গাই।

জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি
তোর জানালায় পর্দাটা আজও নামানো।




না, তোকে দেখিনি,
আজকে,
কালকে,
অগনিত গতকাল ধরে।

এই ঠিকানা বিহীন স্বপ্নের শহরে
দু-একটা শুন্যস্থান নিয়ে
কেটে যাচ্ছে জীবন।

যুঁথি,
জোছোনা রাতে,
ছাদের আঙিনায় এসে
নিয়ে যাস
তোকে লেখা এই চিঠি।

0 comments:

Post a Comment