সবাই কথা রেখেছে (উল্টো কবিতা)


বাই কথা রেখেছে।
আঠারো বছর কেটে গেলো,
সবাই কথা রেখেছে।

ছেলে বেলায় "উরাধুড়া" ব্যান্ড
বলেছিলো,
পয়লা বৈশাখের দিন
হবে কনসার্ট।

কনসার্টে তারা ঠিকই এসেছিলো,
যেতে পারিনি কেবল আমি।
বরুণার সাথে ছিলো
সেদিন প্রথম ডেটিং।

মামাতো ভাই কুদ্দুস বলেছিলো
"বড় হ গাধা,
তোকে আমি ফায়ার ছবি দেখাতে নিয়ে যাবো"
কুদ্দুস, তুই আমাকে ফায়ার দেখিয়েছিলি।
ভালো কথা!
তবে আমি আজকাল
আরো ডেঞ্জারাস জিনিস দেখি!

একটাও ল্যাপটপ কিনতে পারিনি কখনো
কলেজের বারান্দায় দেখিয়ে দেখিয়ে
ফেসবুকে চ্যাট করছিলো লস্কর বাড়ির ছেলেরা।
ভিখারীর মতো দাঁড়িয়ে দেখিনি।
থাপ্পড় মেরে বলেছি,
কলেজ কি ফেসবুকানোর জায়গা??
তারা আর কোনদিন কলেজে আসেনি
ল্যাপটপ নিয়ে।

সুবর্ণ কঙ্কন পরা ফর্সা তরুণীরা
কত রকম আমোদে হেসেছে।
আমার দিকে তারা ফিরে তাকিয়েছিলো।
মুচকিও হেসেছিলো।
কে জানতো!!

আমার তখন প্যান্টের জিপার খোলা ছিলো!

চোখের সোজা আঙ্গুল রেখে
বরুণা বলেছিলো,
"থাপ্পড় খাবি শয়তান"
বরুণা হয়তো জানতো না,
লবন মরিচ ছাড়া কোন তরকারি আমি খাইনা।
এ জন্যই মনে হয় আমাকে খেতে হয়েছিলো।
আমার বা-গালে এখনো ব্যাথা,
মাঝে মাঝে গালে হাত রাখি।
আর ভাবি--
সবাই কথা রেখেছে।
আঠারো বছর কেটে গেলো,
সবাই কথা রেখেছে।
সবাই কথা রেখেছে।

0 comments:

Post a Comment