সুতপা যেদিন নিজেই লাল কৃষ্ণচূড়া হয়ে যায়

লাল লাল ফুল সমেত কৃষ্ণচূড়া
বরাবরই খুব প্রিয় ছিল
সুতপা’র। বলতো,
আর কোন ফুল দেখতে এর থেকেও সুন্দর হয়,
দাদা?
আর কোন গাছ পারে নিজের শরীরে এমন করে
আগুন লাগাতে?

আমি শুনতাম। শুনতাম আর হাসতাম।

ধুর, পাগলী! এর থেকে বাগানবিলাসের ঝোপ কত
সুন্দর দেখতে!

ওই যে পিকলুদের পেছনের বাগানে ফুটে আছে
নীল অপরাজিতা?
সেটাই বা কম কিসে!

সুতপা আমার বোন। তখন রোজ বেণী করে
স্কুলে যায়।
স্কুল শেষ হলে, আমিই গিয়ে নিয়ে আসি রোজ।
স্কুলের মাঠে লাগানো
কৃষ্ণচূড়া গাছটা দেখিয়ে রোজই একই কথা বলে,
আর কোন ফুল দেখতে এর থেকেও সুন্দর হয়,
দাদা?
আর কোন গাছ পারে নিজের শরীরে এমন করে
আগুন লাগাতে?

আমি রোজই শুনি। শুনি আর হাসি।

এককালে বেণী দুলিয়ে স্কুলে যাওয়া ছোট্ট সুতপা
একসময়
ভার্সিটি যায়। সেই ছোট্ট সুতপা। যে বলতো,
আর কোন ফুল দেখতে এর থেকেও সুন্দর হয়,
দাদা?
আর কোন গাছ পারে নিজের শরীরে এমন করে
আগুন লাগাতে?

ভার্সিটি বন্ধ। সুতপা আসছে।
পরের দুইদিনই হরতাল। মর্জি হলে তার পরের দুইদিনও।
তাই দেরি না করে সুতপা আজকেই আসছে।
চারটের ট্রেনে। একাই।
সুতপা এখন অনেক বড়।
সেই ছোট্ট সুতপা, যে আমার বোন, লাল কৃষ্ণচূড়া যার
বড়ো প্রিয় ছিল।
সুতপা-কে নিয়ে আসাটা আমার অনেক দিনের অভ্যাস।
অন্তত স্টেশন থেকেও তো নিয়ে আসা যায়!
রিক্সা না নিয়ে হেঁটেই রওনা দিই। সৃষ্টিছাড়া
কৃষ্ণচূড়া কি আর দোকানে কিনতে পাওয়া যায়!


স্টেশনে পৌঁছুতে দেরি হয়ে যায়। প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে
থাকা
সুতপা’র ট্রেন তখন জলন্ত অঙ্গার। গাছ না পারলেও
মানুষ তো পারে, নিজেদের শরীরে এমন করে
আগুন লাগাতে!
সুতপা আর আসেনি।

সেই সুতপা, লাল কৃষ্ণচূড়া যার বড়ো প্রিয় ছিল। যে
বলতো,
আর কোন ফুল দেখতে এর থেকেও সুন্দর হয়,
দাদা?
আর কোন গাছ পারে নিজের শরীরে এমন করে
আগুন লাগাতে?
সেই ছোট্ট সুতপা, যে ছিল আমার বোন,
যে লাল কৃষ্ণচূড়ার কথা ভাবতে ভাবতে একদিন নিজেই
লাল কৃষ্ণচূড়া হয়ে গিয়েছিল।






0 comments:

Post a Comment