দু’বেলা দু’মুঠো বিষাদ খেয়ে বেঁচে আছে যে শহর

 এখন যে শহরে থাকি 
সে শহর খুব একাকী একটা শহর। 
শহরের দিনগুলা একা একা রাত হয় 
রাতগুলা একা একা ভোর হয়, 
ল্যাম্পপোস্টের আলো একা একা জ্বলে 
অতঃপর একা একা নিভে যায়। 

এখানের পথ এবং এভিনিউগুলো একা 
পথে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা একা, 
এখানে বাস-ট্রেন একা একা গন্তব্যে পৌছে। 

এখানের উঁচু উঁচু দালানগুলো 
একা একা দাঁড়িয়ে থাকে, 
সেই দালানের দরজারা একা একা খুলে 
সেই দালানের জানালারা একা একা বন্ধ হয়। 

পার্কে বেঞ্চগুলা একা একা বসে থাকে 
পার্কের দোলনা একা একা দোলে। 
বাতাস একা একা উড়ে 
রোদ একা একা পুড়ে। 
শীতকালের স্নো একা একা নাচে 
শরতের রঙ একা একা বউ সাজে। 

এখানে যারা দুর থেকে ফিরে আসে তারা একা 
এখান থেকে যারা দুরে ফিরে যায় তারাও একা। 
গোলাপ অথবা ক্যামেলিয়া একা একা ফুটে 
পাপড়ী অথবা ম্যাপল একা একা ঝরে। 
এখানের ফিউনারেল অনুষ্ঠানগুলো খুব নির্জন এবং 
অনুষ্ঠানের অতিথিদের চোখের জল খুব নিঃসঙ্গ। 

দুবেলা দু’মুঠো বিষাদ খেয়ে 
এই শহর শত বছর ধরে 
একা একা বেঁচে আছে, 
যুগ যুগ ধরে পাখি অথবা মানুষ দুইই 
একা একা ঘরে ফিরছে।




0 comments:

Post a Comment