“তোর সাথে নদী পথে শেষ আলো মাখা”

Image result for light windআজ বা কাল, অনেকটা ধুয়ে গেছে মন। বার বার ভুলে গেছে ভুলে যাওয়া। জানি অনেক লেখার মতন এ লেখাও পাবে না তোর ছোঁয়াচ। তবু আজ মন বড় টলটলে দিঘী। ডুব জলে সেই কবে আনমনা অবগাহন। ভালো লাগা পলির মতন জমে নদীর মোহনায়। সেই পলি ছেঁচে নিয়ে চোখ আঁকে ভালোবাসা দেবতা ছলে। এখন এই সব দিনে একা হওয়া তুই আর আসিস না ছাতের সে কার্ণীশ বেয়ে। মেঘেরা তবু রোজ একবার করে এ শহরের শার্সীর আর্শীতে আর্জি জানিয়ে যায় তোকে ভেজাতে চেয়ে।


 ভিজে যায় তোর মন-চোখ-শরীর।
তবু সে চোরাবালি পথে এখনও অনেক উত্তাপে প্লাবনও বাষ্প হয়ে উবে যায়, উড়ে যায়  অজানায়।


সেদিন, হঠাৎ পথের বাঁকে, কি জানি কার ডাকে,  দেবদারু খুঁজে দিয়ে গেছে নিজেকে। অনেক আলোর দিনেও, সে দেবদারুর পাতার গন্ধ-ছায়ায় তোকেই খুঁজেছে উত্তপ্ত নিঃশ্বাস। সেদিনেও গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টিরা এসেছিলো নিয়ে যেতে তোকে, বাধা পেয়ে জল-চোখে মিলিয়েছে পারাপারে। দৃষ্টির এতটুকু আকাশ, চাইতে গিয়ে গুটিয়ে গিয়েছি নিজের কোলের ভিতরে।


Image result for light windরাতের পর রাত নিজের কোলে কোল পেতে নিজেকে ঘুম পাড়াই আমি। তুই এখন অগুন্তি তারার গাঢ় পর্দার ওদিকে। আস্তে আস্তে বড় হয় দীর্ঘশ্বাস। একটু একটু করে নীল রঙা রাতভোর। আর শিশির ভেজা শিউলির গন্ধের মতন একটু একটু করে রোদ পেয়ে মুছে যাস তুই। কেউ বোঝেনা জানিস। কেউ না। আমার এইসব হেঁয়ালির মতন উদবৃত্ত হয়ে যাস তুইও। উপাচারে যেমন অসম্মানিত ঈশ্বর, অবহেলায় তেমনি তোর বিসর্জন।


এখনও আমি নদী খুঁজি রোজ। দেবদারু পাতাদের কানে কানে রোজ বোলি, নদী ডাক বারিষ। নদী খুঁজি রোজ, চুপি চুপি আনমনে, শহরের পথে পথে, মনে মনে, বিসর্জনের সময় এসেছে বোধে-অবোধে। তোকে কি চেয়েছে কেউ? বা আমি? পাঁজরের খাঁচার একটা একটা করে আগল উপড়ে নিচ্ছি রোজ। আর একটু একটু করে তোকে রোজ ভাসান দিচ্ছি ঘোলা জলে।

 বৃষ্টির সামনে রোজ হাঁটু গেড়ে বসি, দুহাত পেতে ভিখারির বেশে বলি , “নদী দে, আরবার একবার নদী দে”।

জানি তোকে দুহাত দিয়ে আগলে রেখেছে সকলে।
তবু কেউ জানবেনা, এখন, ঠিক এই সব মূহুর্তেরা বড় বেশি নিঃসঙ্কোচে নিঃসঙ্গ। “একলা হবি বন্ধু?”, ফিসফিস চুপিসাড়ে কান পাতাপাতি খেলার দিন। হাতের মুঠি খুলে গেলো হঠাৎ হাওয়ার টানে। এলোমেলো এক পলকে সব বোঝাবুঝি। আঙুলের আলগা হল ফাঁক। একে একে চলে গেলি তুই, এক পা এক পা করে; এই আজ সকালে কেউ বোঝেনি, কেউ না, আমিও বুঝিনি, তোর শেষ আকার টুকুন মিশে গেলো ছায়াপথে।


অনেক ক্ষণ তারপর থেকে, হঠাৎ একা হয়ে যাওয়া। সেই কবে জন্ম মূহুর্ত থেকে ধরে রেখেছিলি, ধারণ করেছিলি মায়েরই মতন। ছুটির দিনের মতন অনেকখানি আরামের সোহাগ তুই।

 নাহ, এখন এই চাঁদ-রঙা সন্ধ্যেতে, প্রতিটা কোনে, মনের প্রতিটা আলপথে, ছাতের সেই সব কার্ণিশের আনাচে কানাচে, ছলছলে আর্শীতে, অপলকে চেয়ে থেকেছি, যদি পাই তোকে। তুই নেই, আর। এখন অনেকখানি কাজ জড়ো হয়ে গেছে শুধু। যে শব্দেরা কোথায় উড়ে গেছিলো তোর ডানা হয়ে, আজ তারা হাওয়া পথে ফিরে এসে ঘিরে আছে আমায়।


শব্দেরা আজ থেকে মাতৃ জঠর; হাঁটু দুটো বুকের কাছে নিয়ে এসে মাথা রেখে জড়িয়ে নিয়েছি নিজেকে, আচমকা নিজের কাছে বড় বেশি বেয়াব্রু আমি।

 কষ্টের গল্পটা সকলেই জানতে চায়, তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে তোর ক্ষরণ। ফোঁটা ফোঁটা লবণাক্ত হয় যখন সময়, ‘অস্ফুটে বলে ফেলা স্বীকারক্তি’ কেউ হতে পারে না, তোর মতন করে।

তবু জানি, আমি বেঁচে থাকি। এ এক অন্যরকম বাঁচা, অন্য জীবন, তবু আমি বাঁচি। জীবনের প্রতি এ আমার অন্তহীন সন্ন্যাস। সে গেরুয়া তুই ধারণ করে আমিকে আমার হাতে ছেড়ে চলে যাস; বোধিসত্ব তুই এখনও নিষ্ঠুর, আজ থেকে আমি বরং তোর প্রারব্ধ কর্ম।

0 comments:

Post a Comment