চৌকাঠ


নাহ! ঈশ্বরকে দেখিনি আমি। তোর চোখ বলে  দেয় এই বুঝি আশে পাশে ধূপ আর কর্পূরে মিশে-ভেসে, গাছে বসা সবুজ টিয়াটিকে রঙ দেন সবুজ।
তোর মন চেয়ে থাকি রোজ। কোথা থেকে আলো এসে ফিরোজা রঙে ধোয় আকাশ।

তারপর?


তারও পর, অনেক সময় পার হয় নদী। স্বপ্নের দেবদারু পাতা ঝরায়, পাতা সাজায়। আরো একটু ছোঁয়া পায় আকাশ। আর আরো একটু ঘুমে থামি আমি।


এখন বুঝি দুপুরে ওম। ঠিক যেন আফিঙের নেশা নেশা রোদ। ধুলোতে পায়ের পাতা খসখসে। আঙুলের ফাঁকে লাল রঙ।


কোথা থেকে গন্ধ এলো আমের মুকুলের। কি যে হয় আমার! অথচ দেখ এই ঠান্ডার ঘেরাটোপে আসবার কথা নয় সে ঘ্রাণের। তবু এলো, তোকে মনে আসার মতন করে।


একটাও শব্দ নেই বাতাসে এখন। জানিস, কান পেতে নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনতে চেষ্টা করেছি কতবার। বড় বেশি নিস্তব্ধ চারপাশ।

শব্দেরা তরঙ্গে তরঙ্গে তবু, আঙুলের ডগা বেয়ে ছুঁয়ে যায় মন, চোখ। অনেকটা অবকাশ হয়ে যাস কোন ফাঁকে আলগোছে।


তোকে দেখি, মনে মনে, আলতো আড়াল রেখে। রোজ রোজ ভাবি, পুড়ে যেতে বড় বুঝি সুখ। ঝলসে ঝলসেও কি আরামে থাকিস তুই!


একটু একটু করে আরেকটু অন্যরকম হয়ে যায় সময়। তবুও অনেকটা চলা বাকি থেকে যায়। এই এত দূর থেকে আনমনে ভাবি, পুড়ে যাওয়া মন থেকে কি করে ভাসাস চন্দনের গন্ধ?
এই গন্ধ, আর এই সোঁদা সোঁদা দিন, এই সব আজকাল নতুন।


সেই দিন যেই দিন, ঈশ্বরও নেমে আসেন তোর হাতে হাত রেখে পথে, আমিও ডিঙিয়ে যাই চৌকাঠ।

নিষ্পাপের অভিমানে, ভালো থাকিস তুই।

0 comments:

Post a Comment