কোরিয়ান চলচ্চিত্র (রোমান্টিক)- My Sassy Girl



:) :) :)



মেয়েটাকে প্রথম দেখা রেস্তোরার জানালা দিয়ে বাইরের আলোক বিচ্ছুরণের এক মুহূর্তে , তারপর দ্বিতীয়বার স্টেশনে । একটা অদ্ভুত দায়িত্ববোধ না চাইতেও পূরণ করতে হয় । পাশের সহযাত্রীরা ভাবতে শুরু করে মেয়েটা তার প্রেমিকা । এক অদ্ভুত সম্পর্কে না চাইতে বাঁধা পরে যায় দুজন । একটা মুহূর্ত যেন একটা সম্পর্কের শুরুর অপেক্ষায় ছিল যেন । রেলস্টেশন , পথ , সময় , মানুষগুলো , রাতের আকাশ যেন অপেক্ষায় ছিল দুজন তরুণ-তরুণীর প্রেমের শুরুর ।

হো সিক কিমের নিজের জীবনের কাহিনী নিয়ে একটি বই বের করেন । নিজের এবং তার প্রেমিকার সাথে পরিচয় , তাদের প্রেমের মুহূর্তগুলো উঠে আসে সেই প্রেমের বইয়ে । কোরিয়ার বেস্ট সেলিং সেই বইয়ের গল্প নিয়েই পরবর্তীতে কোরিয়ান ভাষায় "My Sassy girl" চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নির্মাতা ও স্ক্রিপ রাইটার জেই ইয়ংক । আর সেই প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিতে দেখা যায় তেই হুন চে ও জি হুন জুন ।

২০০১ সালে কোরিয়ায় মুক্তি পাওয়া ছবির সমগ্র দৃশ্যপটজুড়েই ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা এক অসংজ্ঞায়িত অনুভব , কথা । ধরা কিংবা স্পর্শের বাইরে থাকা অনুভূতিগুলো কখন যে দরজায় কড়া নাড়ে বোঝানো যায় না,ঠিক বলে কয়ে আসেনা । ভালোবাসা হয়ত এমন-

বুকের ভেতর স্বপ্ন পুষি
তোমায় নিয়ে আমায় নিয়ে ,
বুকপকেটের নিচে আমার হৃদপিণ্ড
তোমার পায়ের শব্দ জানে ।

She’s the nicest girl I’ve met ,তাকে কখনো যেতে দিওনা” , এই লাইনটির পর মনে হওয়া স্বাভাবিক কেউ একজন এরকম থাকলে মন্দ হয়না , মেঘ কিংবা বৃষ্টির এক সাথে হাঁটতে পারলে অন্যরকম হতো সময়গুলো । ভালোবাসা অনুভবের , স্পর্শহীন ।

ছেলেটা আবোল তাবোল মেয়েটা পাগল পাগল অবস্থা যখন এইরকম অবস্থায় তখন একে ভালোবাসা বলা হবে নাকি নিছক ভালো লাগা কিংবা হঠাৎ ভালো লাগা বলা যায় । সিনেমার শুরুটাও ঠিক এরকম অবস্থা ,ছেলেটা যখন বিব্রত কিংবা সিরিয়াস সেখানে মেয়েটির জীবন সম্পর্কে অদ্ভুত মনোভাব । জীবন আসলে কিছুই না , জীবন একটা শুধুই হাওয়াই বাতাস । সেই জীবন দিয়ে আসলে কি হয় , এইরকম একটা মেয়ের সাথেই পরিচয় হয় কেউনও'র সাথে । মায়ের কথায় আন্টির সাথে দেখা করতে যাবে ঠিক এরকম মুহূর্তেই হঠাৎ দেখা মেয়েটির সাথে । ব্যাপারটা যেন এমন ,হঠাৎ দেখা তোমার সাথে ,নাম জানিনা ডাকবো কি নামে !


একটা অচেনা অজানা মেয়ে কিভাবে যেন কেউনও'র মনের ভেতরে বিশাল জায়গা করে নিতে থাকে , সম্পর্কের অনুভূতিগুলো ক্রমান্বয়ে গভীর হতে থাকে । একটা কেমন যেন সূক্ষ্ম দায়িত্বের অনুভূতি , নিজেদের সম্পর্কের এক আনয়ন ডানা মেলতে থাকে নিজেদের পরিচিত বলয়ে । বেঁচে থাকার অর্থ , জীবনের পথ অন্যরকম হয়ে যেতে থাকে একজন কেউনও'র কাছে । যেখানে ভালো লাগা – ভালোবাসার অপর নাম দাঁড়িয়ে যায় দুজনের কাছে অনুভব , দায়িত্বের বিচ্ছুরণ ।


কেউ ভালোবাসার পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত কিন্তু ভালোবাসার মানুষ আসেনা জীবনে , ভালোবাসার কাউকে পায় না । আর কেউ কখনোই ভালোবাসা বুঝে না কিংবা এই বিষয়সব তাকে স্পর্শই করে না, তার কাছে অদ্ভুতভাবে ভালোবাসা নিয়ে কেউ একজন উপস্থিত হয়। আর কেউ সারা জীবন ভালোবাসার মানুষকে ভালো রাখতে নিজেই সারাক্ষণ ছুটে বেড়ায় । অনুভব , স্পর্শের দেয়াল সব এক পিচে ঢাকা রাস্তার ওপর এসে উপস্থিত হয় , হাঁটে।

0 comments:

Post a Comment