স্মৃতি


বুড়ো হয়ে যাচ্ছি দিনকে দিন।
একেকটা মুখ এসে স্মৃতির দরজায় টোকা মারে।
উপমা নামের মেয়েটা আমার সাথে পড়তো, সেই
ছোটবেলায়, ক্লাস ওয়ান-টু, নামটা মাথায়
ঢুকে পড়ে আছে। আমি ফার্স্ট হবো, না সে -
এরকম একটা প্রতিযোগিতা ছিলো বোধহয়।
কিংবা জিমি, যার সাথে একবার চিনিকলের গাড়ির
পেছনে ঝুলে পড়ে আখ চুরি করে খেয়েছিলাম।
হাফপ্যান্ট বয়েসের কথা, অজ-মফস্বল শহর পট
হয়ে আছে যে ছবিতে।

করতোয়া নদী চিরে গেছে যার বুক।

উপমার বাবার প্রশাসনে বদলির চাকুরি ছিলো,
তারপর উপমাকে খুঁজেছিলাম বড় হয়েও,
যদি কোথাও দেখা হয়ে যায়, আরে! তুই সেই
পিচ্চিটা নাহ? টাইপের আবিষ্কারের আশায়।
যেমনটা দেখা হয়ে গিয়েছিলো ফয়সলের সাথে,
ক্লাস থ্রিতে ছেড়ে আসা প্রাইমারী স্কুলের নীলু-
দেখা হলো কলেজের
সামনে হঠাৎ একদিন, যন্ত্রপাতির কলেজে
ভর্তি হতে এসে।
আরে, তুই তো সাইজে বাড়িসনি - চিৎকার্
করে ওঠা, নতুন ধরনের দেখা হয়ে যাওয়া।
কিংবা অনির্বাণ, সেই বিশালদেহী বন্ধুটা, যার
নিষিদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডার ছিলো আমাদের কিশোর
বয়সের বিস্ময়, ক্লাস
সিক্সে চলে গেলো বাংলাদেশে - ইঁচড়েপাকা,
আমাদের সাথে পড়ার জন্যে একটু বেশি বয়েস
ছিলোই বোধহয়। বংকিম, অনির্বাণ, আবার
যদি দেখা হতো তোর সাথে রে!
অথবা ইমন, কতোদিন পরে তোকে খুঁজে পেলাম,
চলে গেছিস কোথায় যে! পৃথিবীর অন্ধকার
অংশে থাকিস - ২ ঘন্টা সূর্যের আলোর দিনও
পার করিস নাকি- একদিন বলেছিলি। গুগল
টকে তোকে দেখি মাঝেমধ্যে - নক করার সাহস
হয় না কেন যেনো!

স্বপনটার সাথে তো আর দেখাই হলো না। ওর
সাইকেলের ক্যারিয়ারটা বরাদ্দ ছিলো আমার
জন্যে। দূরত্ব বাড়ার শুরু কলেজ থেকেই - তারপর
ছিটকে পড়া।
সব মুখ একসাথে ঘুরপাক খায় এই জীবনটায়। সব প্রতারক
আর ভন্ড।

এই লগ্নে হারানো সূচি, যে ছেড়ে যায় এই
কাটখোট্টা জীবনের দুঃস্বপ্নদের
মাঝে আমাকে একা ফেলে রেখে, সবকিছু পায়ের
নিচে ফেলে। স্বার্থপর!
কেউ কথা দিয়ে কথা রাখেনা।
কেউ নাহ। আমার অভিমানের আকাশটা বড়
হতেই থাকে। আবার দেখা হবে - কথাটাও মিথ্যে।

দেখা হয় না কারো সাথে।

আমি অপার হয়ে বসে থাকি তোদের জন্যে।
ইচ্ছে হয়, চিৎকার করে বলি - তোরা কেউ
কথা রাখিস নি।

রিনরিন বেজে যায় কান্না আমার
ছিঁচকাঁদুনে হৃদয়ের কোণে।
"বন্ধুয়ারে, পরাণ যে কান্দে তোরো লাগিয়া!"
আবার যদি দেখা হতো তোদের সাথে রে।

0 comments:

Post a Comment