হারিয়ে গেল সেই ছেলেটি

গোলাপি রঙা গেঞ্জি আর
খয়েরী লুঙ্গি পরা ছেলেটারে আর
হাঁটতে দেখা যায় না শহরের
অলিগলিতে ।

নদীর ঘাটের শেষ
দিকটাতে যেখানে বাতাসে ভেজা বাঁশের
পঁচা গন্ধে মাথা ধরে যায়, সে দিকের
আড্ডাতে আর
বিড়ি হাতে চশমা ওয়ালা কাউরে খুঁজে পাওয়া যায়
না।

ঝুম বৃষ্টিতে এবারান্দায়-
সে বারান্দায়
ঝাপসা দৃষ্টি খুঁজে ফিরে না লম্বাটে এক
পরিচিত মুখ।

সন্ধ্যার পরে ফ্ল্যাটবাড়ির দরজার
সামনে জুতার উপর জুতা জমে না,বিরক্ত
হয় না আশেপাশের শান্তি প্রিয় মানুষ
গুলো। খুব ভোরে চা খাবে বলে কেউ
দারোয়ানের শেষ রাতের
তন্দ্রা ভাঙাতে যায় না খায়েশ করে।

সব তবুও আগেরই মতো চলছে মসৃণতার
আবরণ মেখে!

শুধু রিক্সার
হাতলে লেগে ছিঁড়ে যাওয়া খয়েরী লুঙির
মতোই নতুন লাগানো ল্যাম্পোস্টার
আলোতে দাঁড়িয়ে থাকা কারও
ভেতরটা ছিঁড়তে থাকে।

আলোতে,অন্ধকারে ছিঁড়ে যাওয়ার শব্দ
মিশে যায় নীরবে।
শত বছর
পেড়িয়ে যাওয়া বুড়ি অপেক্ষা করে না সাইকেলের
ঘন্টার,গাছের অপরিপক্ব
পেয়ারা তোলে রাখে না সিলভারের
পাতিলে।
ব্যাকপ্যাক থেকে বের
হবে না রহস্যময় কোন পুঁটলি, তবে ছাই
অপেক্ষা কিসের?

বিকেল গড়িয়ে যায়,ফুচকার টকে আজ আর
মাখামাখি হবে না আলুভর্তা,জেনে গেছে ছোট্ট
ছেলেটা!
ভ্যাবলা মেয়েটাও আগ্রহ
নিয়ে বসে থাকে না,শুনতে কারও চুল
টেনে দেওয়ার আবদার।
সব তবুও আগের মতোই
চলছে নিয়মমাফিক রুটিনে।

শুধু শত বছর পেড়িয়ে আসা বুড়ির চোখ
দুটোর মতোই জ্বলজ্বল
করতে থাকা কারও চোখে কিলবিল
করে নয়নতারার রূপ!

চোখের মুগ্ধতা ভেসে যায়
বাতাসে হাহাকারের আলোড়ন তোলে।

0 comments:

Post a Comment