তুই তেমনি এক উঠোন হয়ে যা……

মোম-রঙ আলোর শেষটুকু ওর মুখের ওপর চুঁয়ে পড়লে
আমি সন্ধে উঠোনের দিকে চেয়ে থাকি
ছুঁয়ে দেখি বুড়ির হাতে কাঁপা মাটির প্রদীপ যেটুকু আদরে
তারই মত ইতিউতি নোয়ানো আলপনা চুল গাল বেয়ে শুয়ে

যেমন ধুয়ে যাওয়া খি-রিষ ফল,ঘুম নেই অলস ঝিনুক...

অথচ আমার প্রিয় উঠোন সোনা গোবর নিকোয় ভোর আজান
তারই শ্যামলা চোখে আতপ খুঁটে খাই প্রতিদিন 
অনেকটা ভেঙে ওঠা আঁশটে চুবড়ির মত 
মাঝ পুকুরে ভেসে যায় তিরতির মুখ ও আমার প্রিয় উঠোন।

এ ভাবে ফিরে আসিস আবার বৈকালি চন্দন বাটার শব্দে
আজ তেমনই এক পোড়ো মন্দির রঙা পায়রার ঠোঁটে ভুঁই-খর তুই 

দেখে যা জমানো নারকেল পাতায় আর
ভোরের চা ফোটায় না আমার চাঁদ মামা

ঘাস আঁচল খুঁটে বাঁধা কাঁচা আদার গন্ধে
ম ম রূপ দেয়ালে এখন সিঁধেল কাটির ঘুম

আমার উত্তর উঠোন তুই সন্তান ফুল গেঁথে নে এই শেষ নিম রাতে

কাল যেন হারিয়ে ফেলিস বাসি পিয়ারা ফুল শাদার গন্ধ,
অথচ ওইটুকু পেয়ে জাম কিশোরী প্রথম মাটি-ঘাসই এঁকেছিল তো।


তবু উঠোন নিকিয়ে চলবে সত্তরের প্রবাসী বুড়ি, যদিও তা নেই

যেমন ভোঁতা ঝাঁটার শব্দ গেঁথে চলবে এক একটা জল অক্ষর
যেমন দুধ দুইতে আসা লক্ষ্মী-পিসি ফিরে পাবে ফাঁকা গোয়াল

তুই তেমনই এক উঠোন হয়ে যা...

0 comments:

Post a Comment