১৫ টাকার ছূতোয় মনের মানুষের সৌন্দর্য্যও দেখে আসা যায়!

- কাকে চাই?
- আপনার মেয়েকে।

- মানে! এই ছেলে কে তুমি?

- ঠিকঠাক কোন নাম নেই। একেকজন একেক নামে ডাকে। তবে সিনথিয়া আমাকে মাঝে মাঝে গাধা, গর্দব, মূর্খ বলেও ডাকে।

- তুমি আমার মেয়ের নাম জানলে কিভাবে? তুমি কি ওর পরিচিত কেউ?

- জ্বী!

- তোমাদের মাঝে কি কোন সম্পর্ক আছে?

- জ্বী না। ঈশ্বরের সাথেও আমার সম্পর্ক নেই। সিনথিয়ার সাথে একটু দেখা করা যাবে?

- তুমি ভিতরে এসে বসো। আমি ডেকে দিচ্ছি।

এই ভদ্রমহিলা ভীষণ সন্দেহ প্রবণ। তা না হলে হঠাৎ দেখা একটা ছেলেকে, নিজের মেয়ের প্রেমিক ভেবে সন্দেহ করতেন না। ঢাকার বালুর রাস্তা দিয়ে আসতে আসতে জুতোর ফাঁকে একগাদা বালু ঢুকে গেছে। পায়ের তালুর ঘামের সাথে বালুগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। সুদৃশ্য ফ্লোরে আমি এখন একটা করে পা ফেলছি আর একটা করে সুন্দর পায়ের ছাপ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। একদম রেডিমেট কারুকার্য। কী সুন্দর দেখাচ্ছে! নিজের পায়ের ছাপ দেখে নিজেই মুগ্ধ হচ্ছি।

- একি! আপনি আমাদের বাসায় কিভাবে এলেন! ঠিকানা কোথায় পেয়েছেন?

- সিনথিয়া তুমি সেদিন আমার কাছ থেকে ১৫ টাকা নিয়েছিলে। আমি সেটা নেওয়ার জন্য এসেছি।

- আ.প.নি! আপনি!! ১৫ টাকা..নি.তে...!!!

- হুম ১৫ টাকা আমার লাগবে।

- আপনি বসুন আমি নিয়ে আসছি।

মেয়েটার হাত থেকে টাকাটা নেওয়ার সময় দেখলাম; ওর চেহারায় বিস্ময়, রাগ আর বিরক্তি মিলেমিশে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য্য তৈরি হয়ে আছে। কোন কবি বোধহয় এই সৌন্দর্য্য দেখেনি। দেখলে এ নিয়ে কয়েকটি কবিতা নিশ্চয়ই লিখতো। কিন্তু লিখেনি। 
আমি বাসা থেকে বের হয়ে আবার হাঁটা ধরলাম। কারো কারো চেহারা মাঝে মাঝে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়। কোন কোন ইচ্ছে পূরণ করতে কিছু ছূতো লাগে। আমার হাতে ১৫ টাকার একটা ছূতো আছে। এই ছূতো এখন চায়ের ধোঁয়ায় আর সিগারেটের ধোঁয়ায় মিলিয়ে দেবো। ১৫ টাকায় কিন্তু চা-সিগারেট পাওয়া যায়। ১৫ টাকার ছূতোয় মনের মানুষের সৌন্দর্য্যও দেখে আসা যায়!

0 comments:

Post a Comment