অচেনা চোখের কোনে জল

অনন্ত বিথীকার মতো কোনো স্নিগ্ধ যেনো- 
একা, 
বিষন্ন এলোকেশী হয়ে বিবর্ণ সুখের 
মতো ছুঁয়ে গেছে পৃথিবীর 
কোনো একা রাজকন্যার মতো; 
প্রণয়-সুখের 
মিহিন উল্লাসে;
 এখানে ভালোবাসা লীন 
চোখের তারায় ভরে ওঠে ব্যবলিনের 
শূন্যোদ্যান।

হায়- কতো হাজার বছরের
শূন্যতা এই জীবনের
চৌকাঠে জমেছিলো- যেনো আকাশের
ঘুমভাঙা রোদের শরীরে বড়ো বেশি ক্লান্ত
হয়ে মিশেছিলো পশ্চিমের লাল রোদ।

অমন
চোখের চোখে চোখ রেখে- কতোকাল
কেটে গেছে কোনো এক না-
পড়া কবিতা বুকে নিয়ে; এই চোখ দুটো-
কোনো এক স্বপ্ন আর তার
হৃদয়ে মিশেছিলো বহুকাল তারপর হৃদয় বারান্দার
ধার ঘেঁষে চোখ দুটো কথা কয় যেনো একান্ত
সখির মতোন; শুধায় পরস্পরেরে- কেমন আছো?
কী ভালোবাসো? আছে কী নূতন
কোনো ঠিকানা?


চোখ
দুটো ঘিরে থাকে কালো টিপের চাদরে, টিপের
দেয়ালে ঝোলানো আছে শার্ল বোদলেয়ারের
ছবি ‘এক প্রতিভাস’ সেখানে রাজ্য গড়ে বিচিত্র
আদরে ঠোটের কিনারায় বাক্রুদ্ধা মাধুকরীর
মতো শেক্সপীয়রীয় সনেট।


অতএব- যাপিত
জীবনের অনেকটুকু খরচ হয়ে যাবার কষ্ট
আবারো জেগে ওঠে বুকের আকাশে; কাঁঠালচাঁপার
গন্ধে আমাদের অনুভূতির তীব্রতা মিশে যায়,
মিশে যায়, মিশে যায়.. .. পড়ে থাকে অবসাদ দুয়ারের
ছায়া- আমি তুমি সে ছায়ার বুকে সুর। ঠোঁটের
আরশিতে ও কী! ও কী!

 কেমন বিচিত্র খেলে যায়
দেখো পদার্থবিজ্ঞানের গূঢ় রহস্য-
তুমি প্রাঙমুখী- সত্তা আমার- আমার
প্রেয়সী বৃষ্টির সাহানা সুরের মতোন তোমার
হাসি- ওই
দেখো বাঁচিয়ে তুলেছে কতো কতো মৃত
মহাত্মাদের  তুমি জানো না বুঝি?


এরপর
চৈতালি বিকেলে হাজার গল্প ওই দুটো চোখের
ক্যানভাসে কোটি বৎসরের বায়না নিয়ে ভিড়
করে টিপের সন্ন্যাসে এরপর কণ্ঠে তোমার
কাজরীর বাসর- বৃষ্টিতে বেঁচে ওঠা, চোখের
তারায় মল্হার আসর তুমি- তোমার ওই
দুটি চোখ- চোখেদের মাঝখানে টিপের
বিলাসী অলঙ্কার- রবীন্দ্রসাহিত্যের
মতো ওষ্ঠ থরোথরো আধুনিক বাঙলা কবিতার
মতো অধর আর হাসি- অনন্ত
নক্ষত্রলোকে ঝড় তোলা সেই হাসি হাজার
রাগের বারতাঘেরা হাসি-
আমি ছুঁয়ে যেতে চাই,
আমি ছুঁয়ে যেতে চাই, আমি ছুঁয়ে যেতে চাই।


শুদ্ধ
সুন্দরে লীন হওয়া একমাত্র মানুষ হতে চাই।

0 comments:

Post a Comment