ঘূনপোকা

বুকের বাঁ পাশে অস্পষ্ট চিনচিনে একটা ব্যথা
আর অবিরত নিজের সাথে কথা বলা
এসব নাকি বুড়িয়ে যাবার লক্ষণ!
কোন এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় কান পাতি
কোথায় জানি একটা ক্ষয়ে যাবার শব্দ…
কুরররর…কুরররর…
সময়ের? নাকি আমার?
ছেলেবেলার আপ্ত বাক্য, “সময় কারো জন্য থেমে থাকে না…”
নাকি, মানুষ কারো জন্য থেমে থাকে না?
ভোঁতা মস্তিষ্কের ভেতর সেই শব্দটা জানান দেয়,
“আমি আছি, তুমি একলা নও।”

খাঁ খাঁ রৌদ্রে, দাঁড়িয়ে যাই তপ্ত পিচের ওপর।
শব্দটা বলে ওঠে, “হেঁটে যাও, আমি তোমার নিয়তি, অথবা পরস্পরের”
ঘরের সমস্ত কিছু আঁতিপাঁতি করে খুঁজি,
কোথায় শব্দের উৎস
কেরোসিন, মোমের মিশ্রণে শব্দের উৎসটাকে খুন করবার চেষ্টা।

তবু প্রতিরাতে টের পাই, আমারই মতো নির্লিপ্ততায় অন্য কেউ
ক্ষয়ে দিচ্ছে ভেতরটা, মোমবাতি জ্বেলে বসে থাকি, আমি আর ছায়া।
আর সেই শব্দটা……কুররর…কুররর…
খোলসটা নিপাট রেখে হারিয়ে যাচ্ছে ভেতরটা
আমার ক্ষয়িষ্ণু বাকি জীবনটার একমাত্র বোধ
“ঘুণপোকা”

এর মাঝে শীর্ষেন্দুর “ঘুণপোকা” এর ছায়া খুঁজে পাওয়া খুব স্বাভাবিক, কারণ গল্পটা আমাকে অনেক বেশি নাড়া দেয়, এখনো……


0 comments:

Post a Comment