দিগন্তের সঙ্গে দেখা

তুমি কি আমার জন্যে, নদী, আজ শহরে ঢুকেছো ?
...যতিচিহ্ন ভরা আকাশে কবি হয়ে উঠতে কার না সাধ জাগে, তবু কিছু স্বর্ণলতায় ভরসা রেখে গদ্যের তাঁবুতে ঢুকে পড়ি ৷ অবান্তর পত্রগুচ্ছে ঢেকে রাখি এ যাবত দেখা, শরশয্যায় শুয়ে থাকেন প্রপিতামহ, ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় পত্রগুচ্ছ, গঙ্গার চরে শুয়ে কাটিয়ে দেওয়া রাত কোন কবিতার জন্ম দেয় না..

হে আলেখ্য, অপচয় চিরকাল পৃথিবীতে আছে;
এই যে অমেয় জল -- মেঘে মেঘে অনুভূত জল--
এর কতটুকু আর ফসলের দেহে আসে বলো ?
ফসলের ঋতুতেও অধিকাংশ শুষে নেয় মাটি ৷
তবু কী আশ্চর্য দেখো উপবিষ্ঠ মশা উড়ে গেলে
তার এই উড়ে যাওয়া ঈষত্ সংগীতময় হয় ৷
( বিনয় মজুমঅদার )

...আমি যেন ষ্টকারের মত দেখি সামনে রাখা টেবিলে সরে সরে জাচ্ছে বোতল খানা, অদ্ভুত, আমি দেখি, কখোনো ডামাডোলে নিজেকে প্রতিপন্ন করি ম্যাজিশিয়ান হিসাবে, দৃশ্যেরা চলে যায় দৃশ্যের গভীরে, অটোর মধ্যে তার প্রেমিকের সাথে মোবাইল নারী প্রিয় হয়ে পড়েন অচম্বিতে , গন্তব্য ছড়িয়ে চলে যাই, হোঁচোট খাই বাড়ী ফেরার পাথে, যেন অহল্যা মুক্তি পায়...
কেননা বুকের মধ্যে আমি বুক
ক্ষীণ কটিজবরদস্ত পাছার মতন
রেখে সাংগীতিকসাংঘাতিক ফলানো
ফসল ফেলে ছুটে গেছি জেব্রা দৌড়
জীব্রাল্টার প্রণালীর অন্যকোনো নালী
বেয়ে সেই পিয়ালী নদীর গাড়
গভীর তরল রব শুনে তাই
পুর্বার আসা অসম্ভব ৷
( তুষার রায়)

... একদা রজনী প্রাতে শব্দেরা ছড়িয়ে যায় আমার অংক বইএর মধ্যে, সে অক্ষর খালাসিটোলায় অক্ষর-বৃষ্টির মতো, আমির খা ডাক পাঠাচ্ছেন ঘনঘন বেতারে, সন্ধ্যা চূর্ণ দিয়ে সাজাচ্ছি দেবী প্রতিমা, কুমু সব এলোমেলো করে দিচ্ছে, পুণে ছাড়িয়ে পাষাণ, সেই দ্বীপ, কুমু জগদ্ধাত্রী হয়ে যায়...
সন্ধ্যা আরও নি:স্ব হয়,
অবিবৃত জলে সারি সারি
দীর্ঘ আলোবিস্তৃত উজ্জ্বল
ভাবে ডুবছে ক্রমশ,
আমি এ জীবণ থেকে
সরে যাব,হাত রাখো
আমার মাথায়,আমাকে
তোমার কাছে ডেকে নাও,
ছায়াবৃত অন্ধকারে অশব্দ
ঢেউয়ের মতো ভেঙ্গে
ফেলো এই সন্ধ্যাবেলা ৷
( দেবারতি মিত্র )

...অর্জিত দৃশ্যাবলী সাজাতে সাজাতে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করি, তবু নদী তীর, জলে ঝাঁপিয়ে পড়া ব্যঙ, হারষ্টেনের অংক বই তুলে রাখি আলাদা করে, অসাবধানে জীবনানন্দ পড়ে যায় জলে, মাছেদের খেলা তার সাথে আজ, উল্টে যায় বইএর পাতা একে একে, লিখতে হাত কাঁপে কিম্বা লন্ঠনের আলো, হাত বুলাই ব্রেইলের বর্ণপরিচয়ে...
অঙ্গুষ্ঠপ্রমাণ আত্মা ঢেকে নিয়ে হাতের তালুতে
নেমে যাই খাদের ওপারে সৌধ, গম্বুজ নিশান,
হাসাহাসি ৷ আঁধার সুড়ঙ্গ জিড়ে দেহ শেষ,
বর্জিত উদ্ভিদ এখানে আমার কাজ খননের অপসারনের ৷
তেতে উঠি মনস্কামনায়কী সর্বস্ব চিল বা ওপরে,
আলোমালা ! বোতাম সদৃশ এক রতি আত্মপ্রতিকৃতিতাকে
দেখি অবসরে - আর কতদিন ?
নি:শব্দ দোলনে ঢেউ কাঁপে তির তির তিরতির
ছলনদীঅন্ধকারে ভেসে যায় উড়িধান , ঘাস ৷
ভেজা ত্বকে সেঁটে থাক এক রাতি পাথরবোতাম
ফাটুক চাঙড় শুকনো আঁশের পোশাকে
আমি ফাটি মনস্কামনায় ৷
( বিজয়া মুখোপাধ্যায় )

... একদিন জে এন ইউ তে অমিতের ডিপ্লোমা দেখে ইচ্ছা করে সমস্ত চামড়া ছিঁড়ে বিভীষণ হয়ে উঠতে, শংখ বাজে, পদ্ম পাড়ে পুস্করে, দয়িনীতা সামাল দেয় কোনোরকমে, এই আলটপকা মাধ্যমে আর ফাত্না ডোবে না, কেবল অপচয়, হয় না...
পৃথিবীতে যত সরু গলি আছে
এ- বছর দেখা শেষ হবে
কখনো বিকেলবেলা সন্ধেবেলাবন্ধুদের
মত সব বন্ধুদের মুখ মনে পড়ে
ভেতরে শরীর নেই কার জামা
কার জামা ঝুলছে বারান্দায়
ডাক্তারখানায় আজ ভদ্র এক মহিলার চোখে জল
আর নয়া মোটোরবাইকের
ব্রেক ঠিক আছে কিনা দেখে নিচ্ছে
এক তরুণ ( কোথায় যে যাবে )
দিগন্তের সঙ্গে প্রিয় আজো দেখা হলো না আমার
( ভাস্কর চক্রবর্তী)

0 comments:

Post a Comment