নাগরিক জীবনের আর্তনাদ

জানি না, ভরা জোছনায় আবার কবে ফিরবো আমার সেই গাঁয়ে।
পুকুরপাড়ের কাদামাটিতে খালিপায়ে হেঁটে বেড়াবো কবে।
জানি না আমি আবার কোনদিন সুস্থ হবো কিনা।
দীঘির পাড়ে বসে আবার কোনদিন বকুলের পাতা ছিঁড়তে ছিঁড়তে
আর গুনগুন গাইতে গাইতে রাত পেরিয়ে যাবে কিনা।
অপবিত্র নোংরা এই আত্মাকে সঙ্গে করে
প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকাকে
আমার আর আশাপ্রদ কিছু মনে হয়না।
আজ আমি শহরের অধিবাসী তাই
সকালে সন্ধ্যায় নগরের ঘাম-ধুলো-গন্ধের সাথে মিশে যাই,
মিশে যায় নগরবাসীর পাপগুলো আমার দেহে।
তারপর তাদের আলিঙ্গন করে আপন করে নিই অজান্তেই।

ক্রমাগত পাপের মাঝে ডুবে চলেছি আত্মাকে গলা টিপে ধরে,
রাতের নৈঃশব্দে শয়তানের আহবানে সচকিত হই।
বিমর্ষ বিবেক আকুল নয়নে চেয়ে থাকে আমার শ্বদন্তগুলোর দিকে
আমি স্মিত হেসে তাকে নখরবিদ্ধ করি উপর্যুপুরি কয়েকবার।
তারপর নিশ্চিন্তে আবিষ্কার করি পশুত্বকে।
আমাকে কেউ রক্ষা করতে আসেনা, আসেনা স্তব্ধ করতে।
পথে বেরিয়ে আমার চাইতে ভীষণ কদাকার হিংস্র শ্বাপদদের দেখে নিশ্চিন্ত হই।
আমার পথ তো বহুদূর!
গলার গোড়ায় তিতকুটে স্বাদ নিয়ে দিনের আলোতে ঘুরে বেড়াই আবার
মিশে যেতে থাকি পাপের রাজত্বে, বদলে যেতে থাকি।
অশান্তির গ্রাসে হারিয়ে যেতে থাকি প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ
প্রবল থেকে প্রবলতর হতে থাকে দুঃখবোধ, অসহায়ত্ব।

আমার খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করে ছেলেবেলায়।
মুক্তির অপাংক্তেয় স্বপ্নে তাই ভেসে যাই।

0 comments:

Post a Comment