কোন এক হেমন্তের গল্প


সে এক হেমন্ত আকাশের গল্প। বিমোহ গোধূলিতে যার অমেয় সৌন্দর্য আঁকা হয়েছিলো নবাগত ভোরের এক ফোঁটা শিশিরের স্নিগ্ধতা দিয়ে। সেই গোধূলি ছাপা আকাশের বা পাশটায় একটা চাঁদ জুড়ে গিয়েছিল। আকাশটার নীল ভেঙে ভেঙে চাঁদটা একটা ডাহুক পাখির মত তার ডানাজোড়া মেলে দিয়েছিলো। আমি কবিতা লেখা শিখে গিয়েছিলাম তারপর থেকে। মেঘ বৃষ্টি কিংবা অলস রোদ্দুরের কাছ থেকে ধার নিতে শিখেছিলাম কবিতার ছন্দগুলোকে। আমার কলম ঘেমে গিয়েছিলো সেই কবিতা লিখতে গিয়ে। যেভাবে একটা নাক ঘেমে যায় সহসা লজ্জা পাওয়ার পর। 

তারপর অনেকগুলো মুহুর্তের গল্প। জীবন্ত হয়ে উঠে আরো জীবন্ত হওয়া। আমি এইসব যান্ত্রিক দিনের ইনফিরিওরিটি ভুলে যেতাম। চোখেমুখে স্বপ্ন জুড়ে যেতো আমার। আবহ তৈরির জন্য ধার নিতাম
টুকরো মেঘের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে পড়া জ্যোৎস্নাবেলাকে। এইসব ছোটখাটো মায়ার মত প্রকৃতি আমায় একটা সুখী মানুষ করে দেয় যখন তখন। আর সেই প্রকৃতিতে উপজীব্যের মত তার সকাল বিকেল অবারিত আটকে থাকা। বিকেল নেমে পাখিগুলোর ডাক বেড়ে গেলে আমি মুখে হাত দিয়ে আকাশ দেখতে থাকি। আমার চিন্তাবেলা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে একটা সে এসে। কখনোও বা চাঁদের পাশে মেঘ জমে গিয়ে সে হয়ে যায়। আমি ঠোটের উপর একটা তৃপ্তির রেখা টেনে দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। তার শব্দে একটা লম্বা জাদু এটে দেওয়া আছে। বুঝতে পারি চুপচাপ করে সপ্তর্ষি মন্ডলের দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে। উদাস বিকেলের শ্রান্তি ছেড়ে যাওয়া শরীরে অথবা চ্যাপ্টা গলির মাঝে দাঁড়িয়ে চায়ের চুমুকে খোঁজ করি তার। খোঁজ করি বিভুই দেশে ভুল-ঠিকের পাশ কাটিয়ে। 

হেমন্তের আকাশগুলো সুখী। রং মাখানো বিকেলের গল্পে আমার ডিপ্রেশনের ঘুম কেটে যায়।

0 comments:

Post a Comment