চুপচাপ অস্তিত্বের বিকেলগুলো

আন্তর্জালিক মেঘে জমিয়ে রাখছি <br />আমার সব বাষ্পকণা,<br />এদের সবার নাম দিয়েছি ইচ্ছামৃত্যু |<br /><br />এবং কবির সঙ্গে মেঘেদের যে অসমযুদ্ধ,<br /><br />তাতে জিতে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দানা বাঁধছে।<br /><br />শুধু টাইপ করা বাকি-<br />"পাতাটি ব্যাক্তিগত অথবা অপসারিত হয়েছে"।<br /><br />“তুই খালি আমারও বই খাতায়
আবারও ভুল করে কাটাকুটি খেলায়
তোর কিছু বানানো নাম ধরে
আমিও ভুল করে দেখে ফেলি তোকে”
আমার জীবনে বিশেষ কোনো দিন নেই, আমার জীবনে সব দিনগুলোই সাধারন, বড্ড বেশি সাধারন। গল্প গুলো বড়ই একঘেয়ে; তারপরেও আমি তোকে বলে যাবো আমার এই সাদামাটা সাধারন জীবনের এক অসাধারন গল্প। সেথায় ময়ুরাক্ষী নদীর গল্প আছে, জোনাকিরা আছে আর খুব বেশি করে আছিস তুই, তোর গন্ধ। 
এইতো সেদিন আমার শহরে এসেছিল বৃষ্টি, কিন্তু তুই হয়তো জানিস না বৃষ্টি খুব হিংসুক, তোর গল্প শোনাতেই তার সে কি রাগ, ভাসিয়ে নিয়ে গেল আমার এতো আদরের চিলেকোঠা, আর চিলেকোঠা ভর্তি তোর গল্পেদের। বৃষ্টি কিন্তু জানেনা, তোর গল্পগুলোকে আমি জমা রেখেছি আমার বাড়ির নেবুগাছ গুলোর কাছে। মাঝরাতে ওদের কাছে আমি তোর গল্প বলি আর ওরা ভিরু চোখে তোর গল্প শুনে যায়; আমার সাধারন জীবনে তুই যে কি ভীষন রকমের অসাধারন তুই জানবি না কখনও। 

আমার শীতের শহরে সবাই যখন কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমোতে ব্যাস্ত, আমি দেখি তুই হেঁটে বেড়াচ্ছিস আমার ময়ুরাক্ষীর তীরে, তারপর ঝাপসা হতে হতে হারিয়ে যাস। এক দমকা বাতাসে ঝরে যায় শিমুলের পাতা গুলো; ওরাও তোকে ফেরাতে পারে না; তুই যে চিরটাকাল বড্ড অবুঝ।
কোনোদিন হেমন্তের রাতে স্বপ্নের সন্ধানে বেরোবেন ঈশ্বর; চাঁদের আলোয় থোকা থোকা স্বপ্নেরা ঝরে পড়বে আমার বাড়ির উঠোনে; মেঘেরা অবাক চোখে দেখবে এক আশ্চর্য্য মেঘবালক ফিরিয়ে দিচ্ছে তার স্বপ্নেদের হাসনুহানাদের কাছে; আমার হারিয়ে যাওয়া কবিতা, আমার নষ্ট জীবন, আমার বেহিসাবি ভালোবাসা, আলোতে হারিয়ে যাওয়া শহর...মেঘলা আকাশের মেঘ হয়ে ফিরে আসবে তোমারই শহরে। এ গল্পও আমি বলে দেবো, শুধু আমার জন্যে পথ চেয়ে তোমার হলদে জানালা খুলে রেখো; আমি প্রবাসি হয়ে মাইলের পর মেইল হেঁটে এসে বলে দেব সব; তোমার চোখ ভরে দিয়ে যাবো আমার একান্ত পলাতক গল্প। 

ভরদুপুরে ফাকা পাবলিক বাসে ঘামের গন্ধের অভাব যখন আক্ষেপ করে তখন আমার কানে সুনিল তার দলবল নিয়ে প্রেমিকার হাতে খুন হওয়া আততায়ীর গল্প বলে। ছিঁড়ে যাওয়া জিন্সের ভেতরে কেটে যাওয়া হাটুতে জমাট বাঁধা রক্ত দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করি জীবন হয় সুন্দর। রাতগুলোতে হুটকরে হওয়া মন খারাপ; আমি কতকাল ধরে ভালো নেই! রাত্তিরে বাসি রজনীগন্ধার ঘোরে চুপচাপ আঙ্গুলে মাখিয়ে নিই এইসব ফেরিওয়ালা জীবনের ছড়া কবিতা। কাগুজে লেবুর টকে আটকে থাকে আমাদের যত আলসেমি করা শরীর, অথবা এই রাতগুলো অনেক বছরের পুরোনো। আফ্রিকান সিংহের চোখে দেজাভ্যুর মত স্বপ্ন। আমাদের মন কেমন করা মস্তিষ্কে শুধু ধরে যায় অসুখ। আর আমরা শহরের ভুলভাল নিষিদ্ধ গলিতে চুপচাপ খুঁজে চলি একটা বিশুদ্ধ নিষ্পাপ অর্থময় প্রেম।

বকুল, তুমি জানোনা, শহরের সব প্রবেশ মুখের গিঁট খুলে একবার আমি অরণ্যে গিয়েছিলাম; গাছের শরীরে লিখে এসেছিলাম নগর আর নাগরিক জীবনের আত্মকথা, তাঁবুর দরজা খুলে নির্ভয়ে ঘুমোনোর গল্প। আজ অনেক বছর পর একটা ইমেল পেলাম, সেখানে লেখা আপনি মিথ্যুক।
রোদে ঝরা পাতার দল, বটের ছায়ায় বসে বিষন্ন দুপুর, সবুজ ঘাসের উপর উদাসী বিকেল অনর্থক সব; কষ্টের মত জমানো শীত অনেক পেয়েছি। বকুল, আজকাল আমি আর কবিতা লিখিনা মোটেই, কারন আমি কিছু লিখলেই তার সবটাই তুই হয়ে যাস। আমি তো এমনিতেই নিঃস্ব; আজও বিকেল নামে আমার চিলেকোঠায়, পাখিরা তোমার নামের খরকুটো নিয়ে ফিরে যায়; একটুকরো বিকেলের গায়ে লেপটে থাকা কবিতার বই, তোমার মলাটে রেখে দিলাম ঘাসের ডগার মত দুটো ভালোবাসা; তুমি সহস্র বছরের ইতিহাসে রেখে দিও আমার চুপচাপ অস্তিত্বের বিকেলগুলো।।
“ পাখি ডেকে উঠলো সন্ধ্যেবেলা, আর আমার নির্বাসন শুরু হল;
জ্বলে উঠলো ঝুমুরের ঘরে আলো, বেজে উঠলো হারমোনিয়াম,
একফোঁটা চোখের জল উত্তর কোলকাতা থেকে ফিয়াটে চেপে
গড়িয়ে পড়ল দক্ষিন কোলকাতায়; আমার কি তবে
দরজা খুলে এরকমই চুপচাপ বেড়িয়ে যাওয়া? ভাল,
রাস্তার ছেলে আমি; রাস্তায় মরে পড়ে থাকব একদিন
তোমাদের উৎসবের দিনে, তোমাদের গাড়িবারান্দার নীচে।”

0 comments:

Post a Comment