বৃষ্টির কাছে খোলা চিঠি

মানবীয় জীবন-যাপন;  এরকম কিছুই না, শুধুই গালে হাত দিয়ে ভাবছিলাম- উড়ছে যখন রেণু; উড়ছে তার শপিং ব্যাগ উড়তে থাকা সুতোয় বাঁধা চিঠিতে লিখি-  -আসন্ন শীতে ওর পরিচিত গন্ধটা আমার চাই-      আজ প্রবাসের বিজন বেলায় মেঘের আনাগুনা দেখে হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল সেই গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে যখন স্কুল থেকে ফিরতাম, তুমি প্রায় আমার বই খাতা ভিজিয়ে দিতে। সেই খাতা উনুনের কাছে দিয়ে কত শুকিয়েছি। বৃষ্টি সে সব স্মৃতি এখন থাক। ইঠ পাথরের পরবাসে তোমার নরম স্পর্শ কমই পাই বলতে গেলে। কেমন আছো বৃষ্টি? 

 নিশ্চয় তুমি তেমন ভাল নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের হাওয়ায় তুমি ও এখন মত পালটিয়েছ। আষাঢের দিন তারিখ মেপে নাকি তুমি আর আসনা আমার সুজলা বদ্বীপে? যখন তখন নাকি তুমি আর হেসে লুটোপুটি খাওনা? শ্রাবনের ভর যৌবনেও তুমি নাকি মাঝে মাঝে নিরুদ্দেশ? 

হ্যাঁ বৃষ্টি তোমাকে মিস করছি খুব। এখানে তোমার সেই জংলী ভালবাসার রূপ খুব কম। একটু একটু তুষার পাতের ন্যায়, যা মনে হয় অভিমানের কান্না তোমার । এই যা কয়েক ফোটা!!মুষলধারে যে তোমাকে আজ দেখছি না অনেক বছর। বৃষ্টি তোমার সাথে আমার যেখানে প্রথম পরিচয় সেই শ্যামলিমায় যাই এখন আবারো। জান বৃষ্টি, তুমি আসলেই আমার কদম ফুল গাছটা কেবল হাসে। 

তোমাকে সে এত পছন্দ করে কেন বুঝতাম না। মাঝে মাঝে আমি পাগলামি করে তপ্ত রোদে যখন ঘেমে যেতাম তখন তোমাকে ডাকতাম । এমনকি বৈশাখে ও। মাঝে মাঝে দেখতাম তুমি অসময়ে ও চলে আসতে। তুমি যখনই আস তোমাকে স্বাগতম জানাতে তখন আমার বাবুনিরা, তুলতুলরা বারান্দায় বসে বসে ছড়া কাটত-- আয় বৃষ্টি ঝেপে,ধান দেব মেপে, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান" আর দাদা বাবু চলে যেত "আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম........ শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম"শ্রীকান্তের গানের সুরে।

তোমার আগমনে মাছেরা ও কি খুব খুশি হয়? খায় ডিগভাজি? আচ্চা রিমঝিম, তোমাকে আমার খুব গায়ে মাখতে ইচ্ছে করে কেন খুব?শহরে যখন তুমি আসতে আমি তখন চুপি চুপি বাসার চাদে চলে যেতাম মনের সুখে ভিজব বলে। ডাঃ বাবু, মা সবার কথা তখন মনে থাকত না। কেবল তোমার সাথে ছিল মাখামাখি। আহা কি আনন্দ!!! আমার বুক যখন ফেটে চৌচির হয়,বোশেখ যখন আমাকে পাগল করে তোলে, আমার সবুজ যখন কেঁদে কেটে নুয়ে পড়ে, ধুসর হয়ে যেতে চায়,তুমি কেমনে যেন গোপনে জেনে যাও সবুজের কথা, চাতক পাখির কথা। তুমি এসে দাও তাদের মনে দোলা, প্রানে প্রানে আবার তোল জীবনের সুর। 

আচ্ছা বৃষ্টি, আকাশ তোমাকে খুব কষ্ট দেয় তাই না? তুমি একটু চন্চল হলেই তোমাকে পাঠিয়ে দেয় আবারো আমার কাছে। কিন্তু আমি যখন দেখি তুমি আকাশকেই ভালবাস, আকাশের বুকেই তুমি শুভ্র মেঘ হয়ে ভেসে থাকতে চাও, তখন আমি কেবল অভিমান করতে পারি।আমার অভিমান গুলো ও ভাসিয়ে দিই পরিযায়ী পাখির মত তোমার ভেসে বেড়ানোর সুখে। তুমি যখন পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আস আবারো আমি ও ভুলে যাই তাবৎ অভিমান। যদিও তুমি আকাশের সাথে মাঝে মাঝে খুব রাগারাগি করে অনেক দিন থেকে যাও, ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমার কিছু সম্বল তবু ও আমি প্রতীক্ষায় থাকি তোমার আগমনী পথে,আমার প্রতিটা সবুজ, দোয়েল, কোয়েল কষ্ট জেনে ও তোমাকে আহবান জানায় ডানা ঝাপটিয়ে, প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে।

 বৃষ্টি ভাল থেকো তুমি, তোমার যখন ইচ্ছে এসে পড় এই মন ভুমে, নিঃস্ব কর আপত্তি নেই, তবু ও মাঝ রাতে, খাঁ খাঁ ঘুঘু ডাকা নির্জন দুপুরে, শ্রাবন সন্ধায় আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব কয়েক গোছা কদম হাতে। ইতি তোমার কান্না টুকু যেখানে রাখ প্রতি নিয়ত যেখান থেকে তুমি সেজে গুজে চলে যাও আকাশের বাড়ী সেই আমি সর্বংসহা ধরনী।।

0 comments:

Post a Comment