এসেছি তোর মনেরই ছায়ায়…

আমার পড়ার টেবিলে এক মুঠো ফাল্গুন মাস ছিলো কোথায় যেন চলে গেছে ঘরের মধ্যে, দুপুরের পরে, একজন জীবনানন্দ হাঁটাহাঁটি করতেন তিনিও এখন ব্যস্ত অন্য কাজে আলমারির শেষ তাকে কিছু স্বপ্ন এনে রেখেছিলাম ক'দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছি না এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি... এলোমেলোঅনেকদিন তোকে নিয়ে কিছু লেখা হয় না, তুই ভাবছিস হয়তো তোকে ভুলেই গেছি…

একদমই তোকে ভুলিনি, তুই বল, তোকে ভুলি কিভাবে? ভুলে যাওয়ার প্রথম পাঠ যে তোর কাছেই শেখা…

অনেক কিছুই ভুলে গেছি, হারিয়েছি তার থেকেও বেশি; হারিয়েছি ছেলেবেলার বৃষ্টি, হারিয়ে গেছে তেপান্তরের মাঠ, আজও বৃষ্টিরা একা একা পায়ে হেটে বাড়ি ফেরে; গতকাল নদী'টাও ফিরে গেছে তার কিশোরী বেলায়; আমি এখনও বসে আছি তোর ফেলে যাওয়া পথে।


তোর অজস্র বসন্ত বিকেল থেকে, শুধু একটা বিকেলে আমাকে ধার দিস। ডানা ভাঙ্গা পাখির দল তোমার
আর আমার হারিয়ে যাবার  স্বাক্ষী !
আমি তো হারিয়ে যাবো ঠিক ই, অজানা অহংকারে , মিছে দাম্ভিকতায় আর  অর্থহীন জেদে !

ডানাভাঙ্গা পাখিরা ঠিকই মনে রাখবে !

আমি একটা বিষন্ন রাতের গল্প , যার  তারাগুলো বিষাদের সুরে কাতর ! বাতাসে গভীর শুন্যতার ছায়া !

আমি লিখতে বসেছি অতৃপ্ত আত্মার গল্প সঙ্গী আঁধার আর  মন খারাপ করা রাত !!

বসন্তের স্নিগ্ধ বিকেলের  হাওয়ায় সবুজের আলোড়ন ,  যান্ত্রিক অবয়বে তোর আগমনে প্রকৃতিতে উচ্ছ্বাস ছিলনা ! আমার নিস্তব্দ
সাঝবেলায় তখনো হাওয়ার ছাট লাগেনি !

ধীরে ধীরে মনোজগতে তোর অদৃশ্য দখলদারি। আমার পাখিদের সুর তুই বুঝিস , আমার
বিকেলের রোদ তোর হয়ে যায় , আমার নদীর বাকে তোর ছোট্ট  কুটিরে জোছনা বিলাসের  সমস্ত অধিকার তোর ই কেবল !

তারপর একদিন তোর
চোখে আমি অপ্সরী ছায়া দেখতে পাই…

আমার নদীর জল , আমার বিকেলের হাওয়া , আমার পাখিদের গান তোকে উপহার দিই রোজ ! বিনিময়ে পাই তোর আকাশের মেঘের ছায়া , তোর
স্নিগ্ধ সকাল !

একদিন ঝুম বৃষ্টি নামলো আমার জানালার
টুকরো আকাশ থেকে ! দু ফোটা বৃষ্টি জল আমায়
ছুঁয়ে গেল ! তোর আকাশে তখনো কালো মেঘ !

বিষন্ন আকাশের হুংকার !

পাখিদের ওড়াওড়ি নেই , আমি জানিনা তোর আকাশ কি এখনো থমকে আছে বিষন্নতায় ??

আমার জানালার কান্না বন্ধ হলে আমি তাকাই তোর আকাশে !

কিন্তু হায,়
আমি দেখতে পাইনা তোর আকাশ , তোর স্নিগ্ধ সকালের মায়াবী রোদ ! আমার নদীর বাকে কুড়েঘরে জমে থাকা অভিমান !

নদীতীরে বসা একটা নিঃসঙ্গ চিলকে পাঠাই তোর খবর
আনতে , সে চিল আর ফিরে আসেনা !

আরো চাপা অভিমান  বুকে বাসা বাধে ! তারপর এক সাঝ বেলায় মৃত্যু এসে ভর করে আমার ঘুমে ! নিরস
দেহটা পড়ে থাকে , মৃত্যূ হয়  অভিমানী আত্বার !

আমি দেখতে পাই আমার মুঠোফোনে তোর অজস্র ডাক , দেখতে পাই মুঠোফোনে তোর পাঠানো কথা মালার আগমন !

আমি যে স্পর্শ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি , আমি সে কথামালা জানতে পারিনা , পারিনা জানিয়ে দিতে আমার  অভিমানী আবেগ !

খুব
জানতে ইচ্ছে করে কি হয়েছিল তোর , খুব
জানিয়ে দিতে ইচ্ছে করে অভিমানী মেঘের  যে মরণ হয়েছে!

একটা চিল
উড়ে যায় তোর বাড়ির দিকে ,
আমি তাকে বলে দেই আমার
হাওয়া হয়ে যাবার খবর !

0 comments:

Post a Comment