ব্যাক্তিগত সব বনভুমি

তোর শর্করা বেড়ে গেছে শুনেছি সেই কবে… জেনেছি আজ মুঠোফোনে। আমি মুক্ত ডানায় ভর করে পেছনে তাকাই, আমাদের স্বর্নালী দিনগুলি বিমর্ষ মনে হেঁটে হেঁটে আসে।মূল গল্পটা আসলে সাদামাটা ছিল না কখনই। জটিল যতো রহস্য নিয়ে এখনও বয়েই চলছে। ঘনঘন চেক-ইন, সুখী-সুখী স্ট্যাটাসের, আঁকাবাঁকা সেলফিতে কত কিছু লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে,লোক দেখানো হাসি হাসছে। তাই বলে এমন না, তারা সুখে আছে। এখনও রোজ সকালে রাশ রাশ বিষণ্ণতা বুকে নিয়ে ঘুম ভাঙ্গে। তারা দল বেঁধে সব ভালো থাকার নামে, "ভালো থাকার" অভিনয় করে।
এপাশ ওপাশ জুড়ে ভেঙে চুরে ফেলা গল্পের ধ্বংসাবশেষ, নেপথ্যে কবিতার শেষ দুটো লাইন।
জানালা,রাজপথ, চায়ের কাপ ,আর, আকাশ ছাড়া এনগরে সব অসামাজিক। বড্ড অসামাজিক।

যেদিন আর কথা থাকবেনা বলার, সেদিন দেখা হবে পথের মোড়ে। একটা একটা বাতি জ্বলে উঠবে ল্যাম্পপোষ্টে, আর আঁৎকে উঠে হাতড়াবো কথার হাতবাক্স, বড্ড বিব্রত হয়ে হয়তোবা বলেই ফেলবো,
"চিরকুট সব নিজের ডানা এঁকে পালিয়েছে, কিছু বলো," দোহাই সেদিন ও ফের হেসোনা, বড্ড বিব্রত হবো, থমকে চুপ হয়ে যাবো, মুহুর্ত ছুটে পালাতে পালাতে বলে যাবে শেষ সন্ধ্যায়, "কথা হয়ে গেছে।"
কোনো পরিযায়ী পাখি নই আমি বৃহস্পতিতে এলাম শনিতে ফুড়ুৎ । আমি তোমার বারোমাসের আহ্নিকে আছি উড়েউড়ে ঘুরেঘুরে, আদরে, অবহেলায়, তোমার বুকের বাম অলিন্দে।

না, এবার শীতেও তুমি মরবে না। শুধু চোখে এসে ঠাণ্ডা হাওয়া ঝাপ্টে পড়বে,তুমিও শতজন্মের পাপ ধুয়ে নোনাজলে শুদ্ধ হওয়া চেষ্টা করো, করিডরের  মতো রাস্তাটা ধরে হেঁটে হেঁটে যেও, যেখানে
ল্যাম্পপোস্ট আমার আত্মা হয়ে ঝুলে গেছে সরকারি দালানে দালানে। কিছু কিছু অচেনা অভিমান আমাকে মাঝেমাঝে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে যায়। ঘুমের ঠিক মাঝামাঝিতে ভুতের মত এসে হাজির হয় বেওয়ারিশ হয়ে যাওয়া আমার কিশোর দিনের
স্বপ্নরা। আমাকে তাদের পাগলামিতে জাগিয়ে তুলে, আমাকে আষাঢ়ের গল্প শোনায়, শরতের সাদাটে ছন্দ বোঝায়, ম্যাজিকের গোপন রহস্য দেখায়। আমায় ফিরিয়ে নিতে চায় সেইসব দিনরাত্রিতে যেথায় আমার মাঝে ছিল শরতের সাদা আকাশের স্থায়ী ঠিকানা, ছিল কাশফুলের পরিকল্পিত সাজানো সংসার। আমিও তার সাথে আনন্দ চিত্তে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।
কিন্তু খেলাঘর থেকে যখন সুমিষ্ট আহবান এসে আমার ঘরের দরজার কড়া নাড়ে, তখনি বুঝি আমার বুঝি আর যাওয়া হবে না ।

0 comments:

Post a Comment