টুকরো টুকরো আমি ছড়িয়ে আছি

কোলাহলে কিংবা নির্জনে, নৈঃশব্দে কিংবা গর্জনে, স্বপ্নে কিংবা জাগরণে, প্রলয়ে কিংবা সৃজনে, খুঁজি ফিরি নিজেকে একান্ত আমার আমি-কে। নীল জলের টানে দিগন্তের দিকে ঝুঁকে পড়েছিস তুই। জীবন ধেয়ে বেড়ায় তোমাকে আর আমায়। অতঃপর কিছু রঙ নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়নি গাছেদের নিজস্ব ক্যানভাসে। নরম আলোর বৃত্তে আমরা পরস্পর ছায়া এবং দৃশ্যাবলি... বৃত্তের বাইরে আছি আমরা, চালাঘর আর রংচটা চায়ের কাপ, চুমুর জায়গায় চুমুক রেখে পোড়ামাটির জীবনশৈলী লিখে রাখি সেরামিক্সের কথকথায়।
ট্রেন চলে গেছে ছেড়ে। ফিরে আসবেনা আর বৃষ্টির মরসুমে। কেউ ফিরে যায় বাস্তবে আর কেউ ওয়েটিংরুমে। চশমার ফাঁকে কবেকার জল, আজও থেকে গেছে একা। নদীতে গাছের ছায়া,
শেওলা পড়া পাঁচিল… সব ছিল একা, তোর মত একা।

ঢের ভাল ছিল আমার বিষণ্ণতা… বিষ বুকে এখন আমি স্বপ্নের মত বোকা… নীলের আভায় রক্ত মাখিয়ে রোজ ছবি আঁকি মানুষের ভীড়ে। ভাঙ্গা পাঁচিল,শকুন,অন্ধকার আর তার মাঝখানে আমি রঙহীন-একা। এর চেয়ে ঢের ভাল ছিল তোর মত বিষণ্ণতা।
আসবে যত পাতার কথাও - কে কখন চেয়েছিলো শীতের কবিতা - বলেছিলো - কথা দাও-
আজও সে কথামালা আছে তোলা অবাক খাতার 'পরে - আজ আবার হয়তো হবে খোলা।
হয়তো হবেনা - আহা - না ঝর্ণা - না বর্ষাবেলা - পদচিহ্নময় বাংলার রূপোলি খেলা - খেলা ফেলে চলে যাওয়ার নৌকো জীবনে ফেরেনা। নোঙরের দাগ পড়ে রয় ঘাটে - তবু সে অচেনা।

দেখি - ঝকঝকে সব মুখ - চকচকে স্নানঘর - অর্ধচেনা - অর্ধজানা - আশপাশের নতুন কলস্বর।
ওই মুখ, ওই ঘরদোর আমাদেরই পাড়ায় ছিলো -
আগে তা তেমন করে নজর পড়েনি - আজ হঠাত পড়লো। এইমাত্র রাস্তায় দেখা নতুন মুখকে মনে করে - হয়তো কবিতা হবে - কিংবা গল্প। পাতারা রাখবে ধরে।

রাতের অন্ধকারেও নাকি লুকিয়ে থাকে কিছু গল্প। আমি তাই চোখ মেলে অন্ধকারের উপস্থিতি মেপে অপেক্ষায় আছি। দাও, তোমার গল্পের কিছু প্রান, তা দিয়েই আমি রচনা করবো অসহায় আত্নসমপর্ণে হারিয়ে যাওয়া কোন গানের শেষ দু'লাইন।
একঝাঁক মানুষের মধ্যে খুব একা হয়েছিলাম আজ বিকেলেই। শেষ বিকালের সূর্যটা কারন। এই রকম সূর্যাস্তের কাছে গেলে মন যে কেমন করে।
একটা ছোট্ট মেয়ে বালিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। আমি প্রজাপতির মত সেই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। জীবনের সুখগুলো ওর ফ্রকের ভাজে ভাজে দোল খাচ্ছিল। অস্ত যাওয়া সুর্যের আলোতে
ওকে কি দারুণ যে দেখাচ্ছিল। ডিজিটাল ক্যামেরার ক্লিক এ সেই বিকেলের সূর্যটা আমার
কাছে বন্দী হলো।
এক রাশ কলকাকলির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমার নিজস্বতায় সূর্যকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলাম।
কি আশ্চর্য এক অনুভব, এখানের অস্ত যাওয়াটা সূর্যটা ওখানে মায়ের চোখে আলো দিচ্ছে।

কেউ চলে যাবে,হয়তো কেউ- অনেক কাছে থেকেই ভুলে যাবে। তবু ধরে রাখতে ইচ্ছে করে,
তবু পাশে থাকতে ইচ্ছে করে… রাশি, রাশি গল্প বলা রাত- হয়তো একদিন ভোর হবে,
জানি আর কখনোই ফিরবে না সেই রাতের-ই টানে।
আমার এই ছোট শহরে যারা ছিল-সবাই আছে, এখনো পদ্যে খুঁজি,গদ্যে আঁকি, ভুল করে হলেও তোমাতে হারাই। একলা ঘর,কিছু পুরনো স্মৃতি এলোমেলো তোমার প্রিয় বই- একলা জ্বলা মোমবাতি,

ধুলো জমা সেই গিটারে- বিষাদী সূর বাজে।
এখনো আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি পড়ে, এখনো আমি ভিজি…

বৃষ্টির শহরে বিষন্ন বিকেলের রঙ পালটে দিয়েছিল সে চায়ের টেবিল। লুচি-ডালের অদ্ভূতুরে সময়ের আড্ডাবাজি আর গতিপথে উড়ে আসা সহস্র বৃষ্টিকণার 
ভেতর পূণর্বার জেগে উঠা অতীত দিনের বিচ্ছিন্ন সব সুরের আকস্মিক খোঁজ। 
আমাদের বেঁচে থাকা জলমগ্ন দুঃস্বপ্নের মত অথচ বৃষ্টি জল ফেরায় নিখোজ হয়ে যাওয়া মগ্নতার দিন। মায়ের আচলের সেই সে ওম। মাকড়শার জালের ভেতর থেকে কবিতা বুনার আশ্চর্য সব সূত্র আর 

পৃথিবীর কোথাও দুঃখরা থাকে, তা অস্বীকার করার দীপ্ত সাহস। 
অথচ তুমি আমি ভালো করেই জানি, শহরের দুঃখভার অধিক হলে বৃষ্টিরা নামে, মেঘেরা ধারণ করে গভীর যত কালো।



0 comments:

Post a Comment