বৃষ্টি তোকে


এখন আর তোর জন্য দুম করে কিছু লিখতে পারি না আগের মতন। এখন আর তোর জন্য ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ কত্তে পারি না আগের মতন। এখনও মন খারাপ হয়, কিন্তু মন কেমন থাকে না আগের মতন। কিন্তু আজ হঠাত্ই অন্ধকারের বৃষ্টি হঠাত্ বৃষ্টি, আগের মতন। সেই রকম ভেজা ভেজা, মনকেমনের গন্ধওয়ালা, একনাগারে টুপটাপ, ঠিক তোর মতন। এক্কেবারে তোরই মতন।
অফিস থেকে ফেরার পথে আজ বৃষ্টি ভিজলাম খুব। আগের মতোই। অনেকদিন পর। আমার চোখে মুখে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা, শান্ত ভাবে দাঁড়ালে মনে হয়, পিয়ানোর রিডে কারোর আঙুল বোলানোর মতো, আমার চোখে মুখে টিপটিপ সুর তুলছে কেউ। এলোমেলো, কিন্তু সুন্দর।
বৃষ্টি পড়লেই শক্তির একটা লাইন বার বার মনে পড়ে আমার। প্রথম যা শুনেছিলাম, তিতলি সিনেমাটায়। পেয়েও না পাওয়ার একটা মুহূর্তে অপর্ণা সেনের গলায়, অদ্ভুত মনখারাপিয়া সে লাইন, একটাই লাইন, তাতে যেন আমার বৃষ্টি মন খারাপের সবকিছু সাজানো গোছানো অদ্ভুত ভাবে,
“এখানে বৃষ্টি পড়ে বারো মাস, এখানে মেঘ গাভীর মতো চড়ে, পরাঙমুখ সবুজ নালীঘাস, দুয়ার চেপে ধরে”।
দেখছিস, লিখতে লিখতে আরও ঝেঁপ্পে বৃষ্টি। আচ্ছা? তোর ওখানেও কি একইরকম বৃষ্টি পড়ছে আজ, এই মুহূর্তে? কি করছিস তুই? ঘুমোচ্ছিস? নাকি কথা বলছিস অন্য কারো সাথে? নাকি আমার মতোই মনকেমন তোর? কে জানে..
আমার ঘরের খোলা জানলা দিয়ে আলো ছিটকে পড়েছে বাইরের অন্ধকারে। আমার কার্নিস বেয়ে টুপটাপ জল, পড়ার আগে মাঝপথে, চোখে ধরা দিচ্ছে ঘরের আলো লেগে।  চকচক করে উঠছে সে সব একলা অন্ধকারের মধ্যেও। আর আসছে শব্দ। ছাদের পাইপ বেয়ে বৃষ্টি জল পড়ার শব্দ। ঝেঁপে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ। একভাবে সে শব্দে নিজেকে সঁপে দিলে মনে হয়, জীবনের শেষ কিছু মুহূর্তে, শেষতম শব্দ এসব। এরপরেই গলে যাব, ভেসে যাব আমি। রাস্তার নোংরা জলে হবে আমার শেষকৃত্য। ভুত হয়ে থেকে যাব জমা জলে, কবে তোর পা ভেজাব, মুক্তি আমার সে সময়েই।
“আমার সর্ব অঙ্গে জল, সর্ব অঙ্গ ভেজা হবে
এই বৃষ্টি শেষে আমার তোমার সঙ্গে দেখা হবে..”
আমার ঘরের সামনের ছাদের পাঁচিলে সার সার টব। তাতে ফুল, কিছু গাছ। আপাদমস্তক ভিজবে ওরা সারারাত। ওদের বলি, আমার হয়ে খানিকটা বৃষ্টি ভিজে নিতে। বৃষ্টি হলে চারপাশে কিরকম আলো আলো হয়ে যায় দেখেছিস কখনও ভালো করে? তোর মুখে সেই আলো দেখতাম। আজ সেই আলোতে তোকে দেখলাম। আগের মতোই আছিস। একইরকম।
“আমি বৃষ্টি ভালোবাসি, তাই মেঘের কাছে ফিরে ফিরে আসি,
আমি বৃষ্টি জলে শুদ্ধ হতে চাই, আমি তোমার প্রেমে শুদ্ধ হতে চাই”
আবার কখনও এভাবেই বৃষ্টি নামবে একদিন। ভেজা রাস্তায়, জংলা গাছের ভিড়ে এক্কেবারে একলা থাকব দুজন। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বৃষ্টি মানুষ হওয়ার আগে জাপটে ধরবো তোকে। আদরে আদরে বৃষ্টি মাখব জিভে। তোকে বৃষ্টি চুমু খাব। প্রাণপনে..
চুমুর দিব্যি আমার, তোকে বৃষ্টি চুমু খাবো….


0 comments:

Post a Comment