ঘুমোতে যাওয়ার আগে


হন্তারক গুলিবিদ্ধ হিস্পানি প্রান্তরে পড়ে-থাকা
লোর্কা, তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তিমালা স্তব্ধ মধ্যরাতে
মাথার ভেতরে ডালিমের দানার মতন লাল,
হল্‌দে চকোলেট,
ফিরোজা, বেগুনি গুঞ্জরণ; যেন কেউ কী বিভোর
বাজিয়ে চলেছে এক চন্দ্রিল সিস্ফনি
সত্তা জুড়ে; জানালার কাছে যাই, একটি ব্যাকুল গাছ হাত
বাড়ায় আমার দিকে, বুঝি সখ্য দিতে চায় এই
প্রীতির কাঙালটিকে। মশারির ভেতরে গৃহিণী
ঘুমে কাদা, তার মৃদু নিঃশ্বাস পতনে অতীতের
তরুণীর শরীরের দিলরুবা আর মরূদ্যানের হাওয়ার
ধ্বনি, ঠোঁটে কিছু
স্বপ্নকণা ঝরে, ব্লাউজের বেড়া টপকিয়ে বের
হয়ে আসে স্বপ্নভ্রষ্টতায়
যমজ চাঁদের মতো স্তন, ওর খোলা চুল নিয়ে
খেলা করি, সৌন্দর্য এসেছে যেন ফিরে বেখবর অবয়বে।





রক্তভেজা হিস্পানি প্রান্তর থেকে উঠে
তিনি, লোর্কা, চলেছেন হেঁটে একা দেশদেশান্তরে
দুয়েন্দোর ঘূর্ণিনাচে। মুখের ভেতর থেকে তাঁর
কেবলি বেরিয়ে আসে রঙিন বুদ্বুদ
অবিরত, যায়
দিগন্তের দিকে বাধাবন্ধহীন। ফুটন্তে জিপসি
রমণীর নৃত্যপর ঘাগরা এবং অগ্নি গোলকের মতো
ষাঁড়, বুকে গোলাপ-প্রোথিত মাতাদোর, বৃষ্টিপায়ী
স্তব্ধ ঠোঁটে মৃত্যুর প্রসূন, কাসিদার
স্মৃতি নিয়ে চলেছেন হেঁটে বড় একা।





রক্তভেজা হিস্পানি প্রান্তর থেকে উঠে
তিনি, লোর্কা, চলেছেন হেঁটে একা দেশদেশান্তরে
দুয়েন্দোর ঘূর্ণিনাচে। মুখের ভেতর থেকে তাঁর
কেবলি বেরিয়ে আসে রঙিন বুদ্বুদ
অবিরত, যায়
দিগন্তের দিকে বাধাবন্ধহীন। ফুটন্তে জিপসি
রমণীর নৃত্যপর ঘাগরা এবং অগ্নি গোলকের মতো
ষাঁড়, বুকে গোলাপ-প্রোথিত মাতাদোর, বৃষ্টিপায়ী
স্তব্ধ ঠোঁটে মৃত্যুর প্রসূন, কাসিদার
স্মৃতি নিয়ে চলেছেন হেঁটে বড় একা।





রক্তভেজা হিস্পানি প্রান্তর থেকে উঠে
তিনি, লোর্কা, চলেছেন হেঁটে একা দেশদেশান্তরে
দুয়েন্দোর ঘূর্ণিনাচে। মুখের ভেতর থেকে তাঁর
কেবলি বেরিয়ে আসে রঙিন বুদ্বুদ
অবিরত, যায়
দিগন্তের দিকে বাধাবন্ধহীন। ফুটন্তে জিপসি
রমণীর নৃত্যপর ঘাগরা এবং অগ্নি গোলকের মতো
ষাঁড়, বুকে গোলাপ-প্রোথিত মাতাদোর, বৃষ্টিপায়ী
স্তব্ধ ঠোঁটে মৃত্যুর প্রসূন, কাসিদার
স্মৃতি নিয়ে চলেছেন হেঁটে বড় একা।




যদি কাল ভোরবেলা আমার চোখের পাতা দুটো
পাখির গুটিয়ে-রাখা ডানার মতন
হয়ে যায়, যদি মৃত্যু আমার সত্তার তন্তুজালে
সকালে ফলিয়ে যায় নিরুত্তর হিম, তবে আমি
রোদ্দুরের রেণুমাখা ডুমুর গাছের পাতা, ডালে দোল-খাওয়া
পাখি দেখব না আর; এবং যেসব
কবিতার, দর্শনের বই কিনে সাজিয়ে রেখেছি
থরে থরে বুক-শেলফে, সেগুলো হবে না পড়া আর
কোনো দিন, যার মুখ বার বার দেখেও মেটে না
দৃষ্টি-তৃষ্ণা, তার
মুখশ্রী অদৃশ্য হবে আবছায়া হয়ে চিরদিনকার মতো।

রাত আড়াইটা বাজে, চৌকিদার হেঁকে যায় কখনো-সখনো,
ঘুম কি আসবে আজ? আমার চিন্তার
গা বেয়ে ক্রমশ নামে মাকড়সা, অষ্টবক্র মুণি,
তীরবিদ্ধ দুলদুল, কবরের মাটি-চেরা হাত, বৃষ্টিধারা,
আমার চিন্তার মোহনায় সদ্যমৃতা
সিমোন দ্য বোভোয়া দাঁড়ান, অস্তরাগে মুখ তাঁর
জরাকে তাচ্ছিল্য করে অপরূপ দীপান্বিতা, যেন
তাঁকে কোনো শহরতলিতে
দেখেছি কখনো হেঁটে যেতে চুপিসারে, টুপি-পরা
ক্ষেতে জংধরা কিছু রাইফেল পড়ে আছে কংকালের মতো,
দীর্ঘ ঘাসে ঢাকা হরিণেরা সবুজ রঙের ত্বক পেয়ে যায়,
ডান দিকে কবর খুঁড়ছে কারা ক্রমাগত এবং বাঁদিকে
কণ্ঠে এনে সমুদ্র কল্লোল কী প্রবল
গান গেয়ে হেঁটে যান পল রবসন।

0 comments:

Post a Comment