আমি চলে যাব

আমিও একদিন মানুষের হৃদয়ের ব্যাথা হব, দুজনের নাবলা কথা হব দুফোঁটা চোখের জলে হব বর্ণহীন তাহাদের মত আমিও একদিন নিঃশব্দে একান্তে বড় একান্তে ঝরে যাবো।




একদিন আমি ঝরে যাব অবসাদ বালিশে মাথা রেখে, ঝরা পাতাদের মত উড়ে যাব বসন্তবৌরি হয়ে । চলে যাব আমি নিস্তল সন্ধায় আধাঁরের করতলে হাত রেখে । পানিহীন মাছের মত ছটফট করা ইটকাঠের খাঁচায় বন্দীদের ছেড়ে, জোনাকির বাতিঘরে দীর্ঘরাত্রি ক্ষয় করে চলে যাব লক্ষকোটি নক্ষত্রের পন্যরথে ।

আমি হেঁটে হেঁটে চলে যাব বিরজা নদীর পাড় ধরে, পানকৌড়ির কুশলতায় সুর্য হয়ে ডুব দিবো দিকচক্রবালে । একদিন আমি ছেড়ে যাব সব, নিরেট হলুদ রাতের ভিতর দিয়ে ক্লান্ত বাতাস ফুড়ে, কফিনবদ্ধ কৃষ্ণতম সন্ধা গুলোকে বাতাস টেনে নিয়ে যাবে মৃতমাঝির দাড় বেয়ে নক্ষত্রের মাস্তুলে । মেঘের ব্লেডে ক্রমাগত কেটে যেতে থাকবে পৃথিবীর কালোবৃক্ষরাজী । আমি চলে যাব, চোখ বেয়ে নেমে আসা অনুভবজাত ভায়োলিনের সুর ঝিনুকের রেটিনায় ঝরবে অতীন্দ্রিয় আলো হয়ে । জলজসিম্ফোনি থেমে এলে নিহত নদীর জলছবিতে ডুবে যাবে ওফেলিয়া পৌষের রাতে । শামুক হয়ে নৈশব্দের তমসতনু বেয়ে হেটে হেটে চলে যাব শান্ত হরিনের মত ।

আকাশের ধোঁয়াসাগ্রস্থ অপস্রীয়মান নীলগুলো ক্রমশ জমা হতে থাকবে ডাকপিয়নের ইনবক্সে । রৌদ্রজ্জল শহর অশ্লীল নেবুলাস্তরে আচ্ছন্ন হয়ে আসবে । অভিকর্ষের স্ফীত মেদ পাড়ি দিয়ে চলে যাব আমি শতশত আলোকবর্ষ দূরে নক্ষত্রসিমেট্রির জ্যোৎস্নাকুঞ্জে । নিয়ন আলোর এই মাতাল শহরে গোফওয়ালা দার্শনিক শ্লিশের মত দাড়িয়ে থাকবে স্তব্ধ মনোলিথগুলো । মেঘের বিষন্নতার অসুখগুলো দেখে যাব আমি বিমর্ষ বিড়ালের চোখে, গির্জার ডিংডং শব্দে হয়তো আর্তনাদে কেঁপে উঠবে অ্যাজমাগ্রস্থ শহরের মৃতপ্রায় প্রবৃত্তিগুলো ।

চৈত্রের দুপু্রে কচিডালের সেতু পাড়ি দিবো শুয়োপোকার ট্রেনে । চলে যাব আমি রেললাইনের স্লিপার ধরে, মিশে যাব প্যারাবোলার অসীম তটে । কাঠফাটা রোদের ভিতর হারিয়ে যাব আমি অস্তগামী ফুল হয়ে । পিলসুজের তলায় উঠবে জমে আধাঁরের তহবিল । লোকাল ট্রেনের ধোঁয়ার আড়াল থেকে ধেয়ে আসবে আঁধার রাত ।



0 comments:

Post a Comment