একটি গ্রাম্য ষ্টেশন, অমল ও প্রশ্নেরা


শুধু শুকিয়ে যাওয়া কিছু চোখের জলের দাগ মুছবে না একদিন; কিছু দগদগে রসালো ক্ষত শুকাবে না একদিন; কিছু নিরাপরাধ আত্মার ফোঁপানো  কান্না বাতাসে ভেসে বেড়াবে,  বন্ধ হবে না কোনোদিন...
দূরে দেখা যায় গ্রাম, গ্রামের প্রান্তে ঘর
গাছপালা ঘেরা ঘর 
যেন টিয়া-রঙা দ্বীপ

মেয়েরা মায়েরা চান করে, নীল দীঘি
ছেলেরা ঝাঁপায়
ঘোলা হয়ে ওঠে জল
ওদের কেউ কি ঐ ঘরে বাস করে ?

লাল আঁকাবাঁকা পথে
টিনের বাক্স, হেঁটে যায় ফেরিওলা
ঐ ফেরিওলা কী কী ফেরি করে ফেরে ?
ও ঘরের লোকে কী কী নেয় ওর থেকে ?
আতর গন্ধ ?
টিপ কাজলের পাতা ?

ঘরের বাইরে টানটান করা দড়ি
কাপড় শুকোয় ? নীল ডুরে কাটা শাড়ি ?
সাবানগন্ধ যেটুকু কাপড়ে থাকে
কেউ কি নিয়েছে প্রাণে ভরে আঘ্রাণ ?

ঐ যে ছেলেটা ট্রেন থেকে নেমে গেল
ও কি ওখানেই যাবে ?
ঐ ঘরে বুঝি ওর আত্মীয় থাকে ?
নাকি
বাড়িটায় ওদিকে জানলা আছে
অমল বসেছে জানলার শিক ধরে
রাঙ্গা পথ ধরে দুপুরের দইওলা
“ভালো দই” বেচে, ছোট ছোট মাটি ভাঁড়ে

অমল শোনায়, না দেখা গ্রামের কথা
যেই গ্রামে ওর অনায়াস বিচরণ
যেই গ্রামে ক্ষেতে লাল-সাদা গাভী চরে
পাহাড়ে মেঘেতে সারাদিন ছুঁয়ে থাকা
প্রহরী মোড়ল ডাকহরকরা আসে
পাঠশালা ফিরে ছেলেদল খেলা করে
অমলের বুকে স্বপ্নেরা বাসা বাঁধে
স্বপ্নপ্রহর
রাজাবাবু চিঠি লেখে

এ কাহিনি জানা
জানা নেই শুধু কেন
বালক অমল অজানা অসুখে ভোগে
কোন অভিশাপে বাইরে বেরোনো মানা
রাজার চিঠির অপেক্ষা কেন করে ?
বাঁশি বেজে ওঠে
ছেড়ে দেয় রেলগাড়ি
ধীরে চলে যায় দীঘি আলপথ
গাছপালা … ঘরবাড়ি
ষ্টেশন প্রান্তে ছোট মেয়ে বসে বেচে
গাঁদা ফুল মালা, বেল দুব্বোর পাতা
ও কি সুধা ? ও কি রোজ ভোরবেলা
ফুল দিয়ে আসে ?
সাদা সাদা নীল ফুল ?
ওর কাছেও কি এর উত্তর আছে
অমল অজানা কোন রোগ নিয়ে বাঁচে ?

0 comments:

Post a Comment