রোদ্দুর

যেতে চায় যাক জগত মিলেছে অন্তর্জাল পাড়ায় চিলে কোঠা থেকে দেখা মেলে পৃথিবীর সুখের ব্যাসার্ধে কোথায় উঠল মেঘ-ভাঙা কমলা রঙের রোদ;   পরীরা ছড়িয়ে আছে মহাদেশে মহাদেশে...





শিউলিগাছের পাতা থেকে নামতে নামতে রোজ ধরা পড়ে যায় মায়ের আঁচলে।বমুঠি করে ধরে নেয় মায়ের ওম, নেমে আসে বাগান পেরিয়ে উঠোনে। বারান্দায় বড় হতে থাকে চিকচিকে পাতাবাহার। রোদ্দুর এগিয়ে যায় আরেকটু। তুই বুঝিসনি আজকেও, তোর পাশে ও বসেছিল খানিক, জানলার ধার ঘেঁষে, আমার সে ছোট্ট রোদ্দুর। 

হঠাৎ ডাক পাঠালো আমগাছের চিরচিরে মুকুলেরা, ছুটছুট ছুট, তোর গাল ছুঁয়ে এক ছুট্টে পেরিয়ে যায় ঘর, সরে যায় পর্দারা। ব্যস্ত হয়ে পড়ে উনুনের আঁচ, ফুটতে থাকে রোজনামচা। পাঁচিলের ওপাশ থেকে উঁকি মেরে টুকি দেয়, ঘুলঘুলি নকশা সেজে ঢুকে পড়ে একদম মায়ের পুজোর ঘরে। গুটিসুটি বসে থাকে লক্ষ্মীর ঘট ধরে, কত বলি সর, সর, সর। একদম কথা শোনেনা, আমার সে একরত্তি রোদ্দুর। 

এঘর, ওঘর, সেঘর, বারেবারে এসে দাঁড়ায় পাশটিতে। এক্কা দোকা খেলে চলে দেওয়াল ঘড়ি। বাবার টেবিল থেকে তুলে নেয় আজকের কাগজ। খবরের পাতা টাতা সরিয়ে দুলে দুলে পড়ে চলে "মিতুলসাহা। বয়স ১৭। পরনে ছিলো চেক চেক জামা। যেখানেই থাকো ফিরে এসো, মা অসুস্থ"। স্নান বাকি, অগোছালো কাজ বাকি, সবখানে ফাঁকি হয়ে ধরা পড়ে এমনি বেভুল। বকা দিলে সাত সমুন্দর চোখে তুলে তাকাবেই, আমার সে অভিমানী রোদ্দুর। 

রাগ করে গাল ফুলি হয়ে লুকিয়ে পড়ে আলমারির পেছনটিতে, ছায়াদের একদম কোল ঘেঁষে। মাকড়সারা বুনতে থাকে জাল। এদিকে তুই হয়ত সবে স্নান সেরে পরিপাটি হবি, তাকিয়ে দেখবি একরাশ আলো আয়নায় মায়ের টিপের পাশে আটকে গেছে কি করে। ধরে পড়ে চিকমিক করে ওঠা জলছবি রঙ হয় আমার সে টুকি দেওয়া রোদ্দুর। 

এদিকে ততক্ষণে কুলুঙ্গিতে নেমে এসেছে সুজ্জি, পশ্চিমের জানলায় হেলান দেয় ক্লান্তি। ঘুঘুর ডাক ফিরে গেছে ফেরিওয়ালার সাথে। দেওয়াল জুড়ে বারোমাসের গদ্য। ইশকুলের ঘণ্টিও খেলতে যাবে, রেডি। আকাশ জুড়ে বাড়ি ফেরার তাড়া। আরও একবার গুছিয়ে নিলো সব, তুই তবুও শুনলিনা সে, "আসি"। শহর জুড়ে সাঁঝের শামিয়ানায় ডানা মেলে উড়ান দেয় আমার সে আদরের একমাত্র রোদ্দুর। 

0 comments:

Post a Comment