এইসব দুপুর বিকেল

আফশোস কোরো না গালিব একটা লম্বা জীবন চাও আল্লা মিয়ার কাছে ঘুরে ফিরে দেখা হয়ে যাবেই প্রিয় মুখ, বুলবুল আর বসন্তের সাথে...





ঠিক ঠিকানা পেছনে ছড়িয়ে রেখে হেঁটে এসেছি অনেকটা। যেখানে এসেছি; পেছন ফিরলে আর চোখে আসেনা বসতজমি। এইখানে একটা টেরাবেঁকা মাচা লকলকে লাউডগা পিঠে মস্ত বড় ফসল নিয়ে শুয়ে রয়েছে। রোদ্দুরটা পিছলে গিয়ে পঞ্চাননের চাতালে ইকিরমিকির খেলছে। কয়েকটা পাতিহাঁস পুকুরে ভেসে আছে একমনে। জলের রং সবুজ; কালচে সবুজ। বেশকিছু কচুরিপানার মাথায় বেগুনী ফুলের মুকুট। আমি ওদের ডিঙিয়ে জল দেখছি। মাথাভর্তি রোদ্দুর রং।

- এই এখানে ভেবে নাও হারিয়ে গেলাম।

- ভেবে নিলাম।

- এসো একবার নেড়েচেড়ে দেখি শুকনো পাতার বুকে রাখা বিচ্ছেদ।

- এখন মুঠোয় আঙ্গুল; তবে বিচ্ছেদ কেন আসবে? আসলে মহুয়ার জ্বর আসুক। রাখালের গামছার সুখ, ঘাসফড়িং মন, ভো কাট্টা পথঘাট অথবা নিদেন একটা প্রেমের স্বপ্ন আসুক!

- প্রেমের স্বপ্ন এল, তারপরে?

- তারপরেও হেঁটে যাচ্ছি। বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যে আসবে। রাস্তার পাশে বুনোঝোঁপ। একটা কালাচ হিসহিসিয়ে পা ছুঁয়ে ঢুকে যাচ্ছে গর্তে। আমরা হাঁটছি। পেরিয়ে যাচ্ছি কথাবার্তা। ফিরে আসাও পেরিয়ে গেলাম। আকাশে অল্প একটু চাঁদ। আমি তারা চিনিনা তখনও। তুমি দেখালে শুকতারা। সে একাই জ্বলছে। ভালবাসলে নাকি একাই জ্বলতে হয়?

- তবে? শেষমেষ সেই একলা হলে? দুজনে বহুদূর গেলাম; তবুও ফেরাটুকু থেকেই যায়।

এরপরে সন্ধ্যে গাঢ় হলো। আমরা ছবি তুলছি। নদী, পুকুর, সমুদ্র . . . মাঠ, জঙ্গল, ধুলোবালি সব জমিয়ে রাখছি। মাথার পেছনে ক্ষয়াটে চাঁদ। একে একে খসে যাচ্ছে নাম, ঠিকানা, গোত্র। আমরা খুলে যাচ্ছি। পরতে পরতে জ্যোৎস্না। পরতে পরতে সুগন্ধ। তখনও ভেতরে মায়াবী নীলচে আগুন। নিষিদ্ধ বলে যাকিছু বারণ করো সেসব পুড়িয়ে বেড়িয়ে আসছে হৃদয়। আমরা কেউ নাl আমাদের কোন ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের অতীত ছিলনা। আমাদের পরিচয় নেই। আমরা শুধু মিশে যাচ্ছি। আমরা শুধু পুড়ে যাচ্ছি; ভালবেসেছি তাই।


0 comments:

Post a Comment