আমাকে জাগালো না কেউ

অবেলায় বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে সব, ভিজে যাওয়া পৃথিবীটা হাতে নিয়ে একা বসে আছি ... হে সুদূরের পরবাসী, তুমি যখন মেঘের ফাঁকে ফাঁকে খোঁজ কোনো রঙ্গীন সুতোর ঘুড়ি ,আমি তখন  দুহাতে চোখ ঢেকে সেই ঘুড়িটার বিদায় ভালোবাসী ...

সুদূর অতীত থেকে কে হঠাৎ কড়া নাড়ে শৈল্পিক
আমি তো বুঝি না শিল্পের ভাষা ও ছন্দ
আমার এখন ঘুমপর্ব
আমি আছি ঘুম মজ্জায়
কার এমন স্পর্ধিত অহংকার আমাকে জাগায়
কার এমন ভালোবাসার মোহন মুদ্রা
ঘুমের গভীর তলদেশে থেকে তুলে এনে
ছিঁড়েখুঁড়ে দেয় অভিমানী ঘুম?

কে আমাকে জাগাবে, এসো


আমি তো অপেক্ষা করে করে এখনও আছি প্রতীক্ষায়
কেউ এসে বলল না—ভালোবাসি
সেগুনমঞ্জরি হাতে কেউ এসে জাগাল না

আমাকে তো কেউ বলে দেয় নি জীবনচলার পথ
কেউ সন্ধান দেয় নি এতটুকু বিশুদ্ধ বাতাসের ঠিকানা
তবু জুতো ক্ষয় করে অনেক তো হেঁটেছি পথ
হাঁটতে                   হাঁটতে
                                      হাঁটতে               হাঁটতে
অনাগত ভবিষ্যতের দিকে গন্তব্যহীন ছুটে চলি অবিরাম

শাদা শাদা উড়ন্ত তুলো
সুতোকাট ঘুড়ি
ধাবিত অশ্বের ব্যস্ততা ক্রমশ ধাওয়া করে
আর আমি ব্যস্ততার পিছু ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে উঠি

বোধের গহিন গহ্বরে শায়িত
বিষঘুমে
আমকে জাগাল না কেউ

ভালোবাসার জীয়নকাঠি ছোঁয়ায় কেবল জাগাতে পারো আমাকে।


0 comments:

Post a Comment