জীবনের খোঁজে



অনিন্দ্য কথাঝরার শৈশব কোন এক চোত বিকেলে উদোম শরীরে নেচেছিল রাঙা পাহাড়তলির ঝর্ণাধারায় —-ধামসার তালে তালে সারা শরীর মন ছড়িয়ে যেত পাহাড়ের কোল ছাড়িয়ে দূরে–আরো অনেকটাই দূরে…লাজ রাঙা আলোর পরতে পরতে কারা যেন চাউর করেছিল উছল জীবনের মেদুর কথাকলি –সে কি আনন্দ!
–শরীরী বৈভব বিভঙ্গে বিভঙ্গে মাতোয়ারা —কলকল খলখল সুরের মূর্ছনায় যৌবন জাগত –জাগাত জগত;
সন্ধ্যা নামতেই খোঁপার বনফুল খুলে মহুল্যা মুখী পুরুষটির হাতে দিত তোলে –ঠোঁট কামড়ে মদনবানে কাত করতে করতে হাত ধরে টেনে তুলত আঁধারি পাহাড় ঘেষা পরাণ কুটিরে –সব দিয়ে সব নেবার খেলায় ;
নড়বড়ে ইচ্ছেরা চাগাড় দিত বাঁচার অমিত বিক্রমে –কোন বাধাই আর বাধা থাকত না –জারিত পুরুষ চার্জড হয়ে রাত ফুরানো ভোরকে লজ্জা দিত — বেরিয়ে পড়ত শিকারে –প্রেয়সীর মুখ মনে রেখে……শুধু সুখ সুখ আর সুখ……!

অতীত মাধুকরি করতে করতে পৌঁছেছিলাম সেই মন ভুলানো পাহাড়ের দেশে —জীবনের সন্ধানে —
অনড় অটল পাহাড় আজো রয়ে গ্যাছে জীবন ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে —শুধু কারা যেন দেওয়াল তুলেছে কোল ঘেঁষা ঝর্ণায় —স্বার্থের বয়ানে —কলকল খলখল জীবনের গান আর ধামসা মাদলের জীবন উল্লাস আর চোখ কান টানে না;
সেই সব উদোম মনের শরীরী বিভঙ্গও আর কোথাও খুঁজে পাই না;
……পোশাকি আব্রুতায় তারা নাকি এখন নিয়নের আলোয় বেআব্রুর খেলায় শহরের আনাচে কানাচে!
—সেই সব বনফুল কবেই মরে ভূত –শুধু একটুকরো বুক কাপড়ের আড়ালে অতীত ঝর্ণাধারা বাঁধা পড়েছে বিভাজিকার লোভনীয় লাস্যে –উষ্ণ ধারায় জমছে শুধু গান্ধী মার্কা রঙীন কাগজ —মৃতপ্রায় স্বাধীনতা অধীনতার বন্ধনে !

মন খারাপের মাধুকরি শেষে যখন ফিরব ফিরব করছি —
ঠিক তখনই পাহাড়ের ওপার থেকে উড়ে আসা জীর্ণ হলদেটে পাতার দলে আটকে পড়লাম –কান খাড়া করে শুনতে পেলাম ঝরা পাতার উড়ো খবর —-

কবি ,মন খারাপ করো না
এখনও সব শব হয়ে যায় নি
দ্যাখো দূরে –অই সব ন্যাড়া গাছেদের মাথা –নতুন জীবন আবার জাগতে চলেছে –অন্য মাত্রায় –অন্য অনুভবে; কলমটা পাল্টে ফ্যালো কবি;
নতুন ভাবে লিখতে বসো নব জীবনের গান –জীবন কখনো ফুরিয়ে যায় না—;

চোখ খুলে গেল

ভাবলাম বাড়ি ফিরেই কলম ধরব আর লিখব —-
নব জীবনের নবতর অধ্যায় —
জীবনের বরাভয়ে –নতুন কলমে —!!

(পুনশ্চ:তবে কানে কানে বলি –এখনো সময় করে উঠতে পারি নি –লিখব লিখব মনে আশায় বেঁচে আছি–)




0 comments:

Post a Comment