পুনশ্চ অথবা শেষের পর..



কোথাও যাওয়ার নেই, তবু যাওয়া থেকেই যায় মানুষের। কেন যে যায়! থেমে পড়লেই তো হয় মাঝপথে। কেন কেবল যেতেই হবে!
কি প্রকান্ড এই আকাশ। কি বিরাট শূন্যতা চারিদিকে,  আর কি ভয়ংকর শক্তিমান। এসব দেখলে নিজেকে তুচ্ছ লাগে বড়। মাঝে মাঝে নিজেকে তুচ্ছ ভাবতে কি যে আনন্দ হয়। হঠাৎ পৃথিবীর সব দারিদ্র মোচন করে শাঁকালুর মত ক্ষয়া এক চাঁদ তার দুধ ঝরিয়ে দেয় চারিদিকে। সাদা ধবধবে ইউক্যালিপটাশের ডাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে স্বপ্নেরা। ফুলের গন্ধে ম ম করে বাতাস। নির্জন রাস্তায় বেভুল দাঁড়িয়ে পড়ি।
সারাদিন নীল একটা হাওয়া বয়ে যায় আমার জন্যে। মুখ গুলো ভেসে বেড়ায় একে একে, আমি ঠিক চিনতে পারি না, বুঝতেও পারি না।
আজ মনে পড়ে তোমার প্রথম শাড়ি পরবার দিন। যা পেয়েছিলাম এককথায় তার তুলনা হয়না, কিন্তু আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে হারিয়ে গেছে সময়। কি সাবলীল ভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে সবাই।

ভাবি, এবার কথাবার্তা বলবো। বলবো এবার তোমাদের কচকচি থামাও তো!
অথচ চায়ের দোকানে যাই; আর ফ্যাসফেসে গলায় দোকানদারকে বলি
দিয়াশালাই আছে?
চা দিন;
খবরের কাগজটা একটু দেবেন?
ছোট্ট একটা ঘরে পাক খেতে খেতে জীবনটা উধাও হয়ে গেল।
হাজারবার যদি পৃথিবীতে ফেরার সুযোগ পাই 
হাজারবারই ফিরে আসবো আমি।
আকাশী রঙের এক প্রজাপতি হয়ে বসে থাকবো
তোর চিলেকোঠায়...

তোমাকে একদিন আমার শূন্যতার গল্প শোনাবো, তোমাকে একদিন শোনাবো আমার জলোচ্ছাস্বের
স্বর, যখন নির্জীব, নিস্পন্দ বসে থাকি সেই জলোচ্ছাস্বের স্বর আচ্ছন্ন করে আমাকে, তোমাকে একদিন ধুধু তেপান্তরের দৃশ্য দেখাবো যেখানে সারি সারি এপিটাফ, বন্ধুর কবর, ভীষন একঘেয়ে শূন্যতা খাবি খেতে খেতে কেমন গড়িয়ে যাচ্ছে দিগন্তের দিকে। তোমাকে একদিন এক রাত্রি নিবিড় অলিঙ্গনে
জড়িয়ে রাখবো অন্ধকার মুড়ে, আমার ভেতরের অন্ধকার, আমার ভেতরের ঘর, আমার ভেতরের খাদ
আমার ভেতরের শূন্যতায় আছড়ে পড়া স্মৃতির ভয়াবহ স্রোত...

আমি ছেড়ে যাব একদিন
আমার চেয়ার থেকে নিঃশব্দে উঠে 
একদিন আমি অদ্ভুত নির্বাসনে চলে যাবো। গ্রীষ্মের দুপুরে
কুকুর গুলো ঝিমোতে ঝিমোতে অতীতের কথা ভাবে?
আমি জানি না, জানিনা আমি-অর্থহীন বারান্দা
শুধু শুধুই জেগে উঠে বুকের ভেতর।
হায় জীবন
আমার আর কিছুই মনে পড়ে না...

মাথা অনেক বেশি শূন্য লাগছে আজকাল। অনেক বেশি শূন্য। যেন ফাঁকা খোলামেলা একখানা ঘর। মাঝে মাঝে শুধু একটি কি দুটি শালিক কি চড়ুইয়ের আনাগোনা। এরকম ভালো। এরকম থাকা ভালো। আমি জানি। তবু মাঝে মাঝে যখন ভিড়ের মধ্যে রাস্তায় চলি তখন হঠাৎ বড়ই দিশেহারা লাগে। যখন মাঝরাতে হঠাৎ কখনও ঘুম ভেঙ্গে যায় তখন লক্ষ্য করে দেখি পাথর হয়ে জমে আছে আমার অনেক আক্ষেপ। আয়নায় নিজের মুখ দেখে চমকে উঠি। মনে কয়েকটা কথা বৃষ্টির ফোঁটার মত কোনও অলীক শূন্য থেকে এসে পড়ে। তুমি যে এসেছিলে কেউই তা জানলো না।
যদি কখনও মনে হয় এরকম শান্ত জীবন হওয়ার কথা ছিল না আমার, আরও দূরতর, ভিন্ন অনিশ্চয় এক জীবন আমার হতে পারতো, তখন সঙ্গে সঙ্গে হাতের কাছে যা পাই- হয়তো ওষুধের শিশি, ফাউন্টেন পেন কিংবা পাথরের দিকে চেয়ে থেকে আস্তে আস্তে মনকে একটা বিন্দুতে নিয়ে আসি। অতীত এবং ভবিষ্যত থেকে ফিরিয়ে নিই আমার মুখ। আস্তে আস্তে বলি এরকমই ভালো, আমাদের এরকমই থাকা ভালো।

সরু রাস্তার মতো, লম্বা করিডোর
শুধু একটা চেয়ার, আজ সমস্ত রাত, বসে থাকবে করিডোর
ঝোপ থেকে
লাফ দিয়ে উঠে আসবে চাঁদ; 
সিঁড়ির কোন থেকে বিড়াল আজ সরে যাবে উনুনের পাশে;
শুধু একটা আলপিন, আজ সমস্ত রাত, দোল খাবে হাওয়ায়
শুধু একজন মানুষ, আজ সমস্ত রাত
খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকবে।।





0 comments:

Post a Comment