কোথাও একজন কেউ অপেক্ষায় থাকুক

যেদিন আর কথা থাকবেনা বলার, সেদিন দেখা হবে পথের মোড়ে।  একটা একটা বাতি জ্বলে উঠবে ল্যাম্পপোষ্টে, আর আঁৎকে উঠে হাতড়াবো কথার হাতবাক্স, বড্ড বিব্রত হয়ে হয়তোবা বলেই ফেলবো, "চিরকুট সব নিজের ডানা এঁকে পালিয়েছে, কিছু বলো,"  দোহাই সেদিন ও ফের হেসোনা, বড্ড বিব্রত হবো, থমকে চুপ হয়ে যাবো, মুহুর্ত ছুটে পালাতে পালাতে বলে যাবে শেষ সন্ধ্যায়, "কথা হয়ে গেছে।"

বাবার হাত ধরে সীমান্ত পেরুতে পেরুতে ভেতরে ভেতরে বড়ই ছলছল করে উঠেছিল মারবেলের লুকোনো বাক্স, আর লাটাইয়ের সুতো জড়িয়ে ধরেছিল দুপুরের ছাদ। তোমাকে সেই বেদনার কথা বা চোখের জলের কথা কিছুই বলিনি। সামনে পশ্চিমের আকাশে দিনের শেষ সূর্য্যটা একেবারে ঝুলে পড়েছে। 

হতে পারে ভুবনডাঙার মোড় অথবা উধাও হয়ে যাওয়া তিন প্রহরের প্রান্তর;না-হয় নিতাইগঞ্জের বাসস্টপই হোক,নতুবা ময়নাপাড়ার উঠান –কেউ একজন থাকুক দাঁড়িয়ে কোথাও।পরনে থাক নলসোঁদার শাড়ি, কপালে খয়েরি টিপ,মুখখানা না-হয় দেখাক কিছুটা মলিন। না-হয় রয় যেন দাঁড়িয়ে,  ডুমুরিয়া নদীর বাঁকটি এসে মিশেছে যেখানে খালমনার সাথে, সেখানে;অথবা অভয়দাস লেনের সরু গলির মাথায় –কেউ যেন তবু থাকে অপেক্ষায় উদাস, একা। 
অথবা থাকুক স্টেশনরোডের উলটোদিকে দূরের সিগন্যাল বাতির মতো নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে।নয়তো লাউয়ের মাচাটি ধরে অপেক্ষা করু উন্মনা কেউ; ছনে-ছাওয়া ঘরের পাশে খয়েরি রঙের পাকা ধানক্ষেতের উপর দিয়ে তখনএঁকে-বেঁকে উড়ে যাক কাকের দল,ঝিমিয়ে পড়া দিনের শেষে। কারো সঙ্গে তবু দেখা হোক একবার –কেউ একজন বলুক: দেরি হলো যে বড়ো? পথ ভুলে গেছ বুঝি!


0 comments:

Post a Comment