জন্মসূত্র

আগাম বৃষ্টির শব্দ শুনেছি আমি ভেবেছি এবার তাই, চলে যাব এ মৃত উপত্যকা ছেড়ে। বুকের পাঁজরে লুকিয়ে রেখেছিলাম কত গোপন ক্ষত। অদম্য ক্রোধ আর কত অভিমান ভুলে ছিলাম এতদিন।  আর নয় শুরার পেয়ালায় জলচুমু। এবার স্বপ্ন দেখব- সর্বহারাদের মত ....

 আমাদের বাহির উঠোনে ছিল কামিনী গাছের সারি
তার সেই সাদা ফুলের সুবাসে ভর করে কেটে যেত
উঠোনের অলস সময়। পাশেই এক কোণায় ছিল
বয়ঃ বৃদ্ধ ধ্যানী বকুলের গাছ—গাছ থেকে দিনমান
খসে পড়তো বকুলের ফুল। মনে হতো কেউবা উঠোনের
গায়ে বিছিয়ে দিয়েছে ঝরা বকুলের চাদর। সেখানে
খেলা করে বেড়াত ফুল কুড়ানির দল—সেখানে পড়ে
ছিল প্রেমিকের আবেগঘন অনুচ্চারিত ভালোবাসা।

অদূরে দিঘির পাড়েই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল
ফলবতী নারিকেল আর সুপারি গাছের দলবল,
আর দিঘির জলে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে
উঠতো গাছেদের দল। দিঘির বুক থেকে ভেসে আসা
বাতাস ভরা জ্যৈষ্ঠেও শীতল করতো প্রেমিকের মন।

এখন আর সেই উঠোনের কাটে না অলস সময়
খসে পড়ে না কোনো বকুল ফুল, দূরে ঝরা বকুলের
স্মৃতিচারণ করে বকুলেরই জারজ সন্তান।

সেই দিঘিটিও আর নেই, নেই তার বুক থেকে ভেসে
আসা শীতল বাতাস, তার বুকে এখন বেড়ে উঠেছে
ইটের দেয়াল—সঙ্গত, ফলবতী গাছেদের পতন
দেখে মুচকি হাসে সে দেয়ালে গজানো শ্যাওলার ঝোপ।

শ্যাওলার সেই হাসির মানে শুধু আমাদের এই উঠোনই বোঝে
অদূরে একা এক বৃহন্নলা নারিকেল গাছ তার জন্মসূত্র খোঁজে।



0 comments:

Post a Comment