Donnie Darko: সাইকোলজিক্যাল টাইম-ট্রাভেল



Donnie Darko’ হলিউডের মুভি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত মুভি। ক্রিটিক্যালি হাইলি প্রেইজড এই মুভিটি অন্যতম সেরা সায়েন্স ফিকশন মুভি অবশ্যই।


Donnie Darko
Year: 2001

Cast: Jake Gyllenhaal, Jena Malone, Drew Barrymore, Maggie Gyllenhaal
Written & Directed by: Richard Kelly

Genre: Science-fiction, Psychologiocal Dramma, Fantasy



জ্যাক ইয়েনেহাল এর লিড অভিনয়ের এই মুভি নিয়ে রিভিউ করা খুবই কষ্টকর। কারণ, কিছু লিখতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে অনেক।
যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, বাটারফ্লাই এফেক্ট সম্বন্ধীয় কাহিনী পছন্দ করেন, তাদের ওয়াচলিস্টে রাখা উচিৎ, দেখা উচিৎ এই মুভি।



মুভির দুটো দিক নিয়ে একটু বলা যায়, সিনেমাটোগ্রাফি আর সাউন্ড এডিটিং। বেশ ভালো লেভেলের ক্যামেরার কাজ, যেটা এই মুভির কাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় ছিল বেশ। আর সাউন্ড এডিটিং খুবই অসাধারণ। আরেকটা জিনিস ছিল, অসাধারণ কিছু গান। বিশেষ করে, শেষের ‘Mad World’।



মুভিটা একটু বেশিই স্লো। এছাড়া আর কোনো ঝামেলা নাই।



কাহিনী নিয়ে আমি বরং ব্যাখ্যাই দিলাম দ্বিতীয় অংশে। যারা দেখেননি মুভিটি, তারা অবশ্যই বাকি অংশ পড়বেন না। তারা বরং আগে দেখে ফেলুন



IMDB Raring: 8.2/10
My Rating: 9/10
Rotten Tomatoes: 85% Fresh


Chaptar  Two: “Donnie Darko” Explained (Spoilered):



মুভিটার মাঝেই প্রায় সব ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। “Philosophy of Time Travel” নামক বইটার যে পৃষ্ঠাগুলো দেখানো হয়, সেগুলো পড়ে কাহিনীর সাথে রিলেট করলেই বুঝতে পারবেন।
ইন্টারনেটে ‘Donnie Darko’ fan site এ বেশ সুন্দর করে ব্যখ্যাগুলো দেওয়া আছে। তারপরও এখানে আমি আমাদের ভাষায় সহজ করে ব্যাখ্যাগুলো আবার দেবার চেষ্টা করবো।

মুভিটা আসলে খুব প্যাঁচানো না। মুভিটাতে আসলে অনেক বেশি জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে বুঝার সমস্যাটা হয়। টাইম ট্রাভেল, ড্রিম, রিলিজিওন, সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম আর অন্যান্য সায়েন্স ফিকশন।

এবার আসি ডনি ডার্কো-এর কাছে।




মুভির ফিকশনাল যে বইটি, “Philosophy of Time Travel”, সেখানে বলা হয় বাস্তব ইউনিভার্স বা Primary Universe (PU) হচ্ছে আমরা বা মুভির সকলের বাস্তব ইউনিভার্স।
প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে আমরা যেটা সাধারণত জানি, একদম অন্য ডাইমেনশন এর একটি ইউনিভার্স, যেটা আমাদের এই ইউনিভার্সের মতোই, কিন্তু অনেক পরিবর্তন থাকে। মুভিতে প্যরালাল ইউনিভার্স না বলে বলা হচ্ছে ‘Tangent Universe’ (TU)। ট্যানজেন্ট মানে হচ্ছে “স্পর্শক”। TU বলতে একদম প্যারালাল বুঝানো হচ্ছে না, কারণ এখানে TU সবটুকুই PU এর কপি। TU বলতে তাই বুঝানো হচ্ছে PU কে স্পর্শ করে যাওয়া ইউনিভার্স। যেটা সংঘটিত হতে পারে বিভিন্ন কাজের কারণে। কারণ আমাদের একটি কাজের জন্য অনেক কিছু পরিবর্তশীল। যাকে বলে ”Butterfly Effect”।



TU মুভিতে শুরু হয়, ডনির ঘরে জেট ইঞ্জিন ভেঙে পরার আগে, সে স্লিপ-ওয়াকিং শুরু করা থেকে। ফ্রাংক, ভবিষ্যত থেকে আসা ভূত, বা প্রোজেকশন সাহায্য করে ডনিকে। এখানে আসছে স্বপ্ন। স্বপ্নে আমরা যা দেখি, তার সবই বাস্তবের প্রোজকশন। কিন্তু ডনির ক্ষেত্রে, ফ্রাংকের উপস্থিতি হচ্ছে ভবিষ্যত থেকে। কারণ সময়কে আপনি যদি একটি মুভির রিলের সাথে তুলনা করেন, একটি ফ্রেমকে বর্তমান ধরলে, আগেরটি অতীত, পরেরটি ভবিষ্যত। রিলের এই তুলনার মতোই ভবিষ্যত ‘অলরেডি হ্যাপেন্ড’। তাই ভবিষ্যতে ফ্রাংক মারা যায়, কিন্তু অতীতে প্রোজেকশন হিসাবে দেখা যায়। কিন্তু অতীতে কেনো? সে কথায় আসছি পরে।



বইটি লেখেন রবার্টা স্প্যারো। কাহিনী অনুযায়ী তিনি নিজেও ডনির মতো অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন, এবং পরে নিজের ঘটনা নিয়ে বইটি লিখেন।
এই বইতে বেশ কিছু টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রথমে আসি ‘The Artifact’ এ।
সাধারনত, টাইম ট্রাভেল এর থিওরি অনুযায়ী, কোনো বস্তু টাইম ট্রাভেল করে ফেললে, সেটি একটি ‘anomaly’ বা অসংগতি তৈরি করে। মুভিতে বলা হয়, “TU তৈরি হলে, একটা মেটালিক বস্তু অবশ্যই পাওয়া যাবে, যেটা নির্দেশ করবে, একটি TU তৈরি হয়েছে। কারণ একটি অসংগতি এটা।”
এটা কোনো থিওরি নয়। এটা বরঞ্চ বই এর লেখিকার যে এক্সপেরিয়েন্স ছিল।  কিন্তু মুভির জন্য এটি থিওরি, কারণ TU বুঝার সূত্র এটি। তো, এই সূত্র অনুযায়ী মেটালিক অবজেক্টটা ছিল ভাঙা জেট ইঞ্জিন। এবং ভাঙা জেট ইঞ্জিনটা ডনির ঘরে পড়ার কারন TU সেখান থেকে তৈরি হয়।



‘Living Receiver’ হিসেবে বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে TU এবং PU এর মাঝে একটা সম্পর্ক স্থাপিত হবে। যার বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্ট্রেন্থ, আগুন ও পানি ব্যবহারের প্রবণতা, হ্যালুসিনেশন; এগুলো থাকতে পারে। এবং ডনি এগুলো পূরণ করে, যে কারণে তার (ঘর) থেকে TU শুরু।



‘Manipulated Dead’ বলা হচ্ছে তাদের, ‘Living Receiver’ এর সাথে সম্পর্কিত যারা TU তে মারা যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু ফ্রাংক কেনো? কেনো গ্রেচেনও নয়য়? কারণ ফ্রাংক আর গ্রেচেন একই স্থানে ডনির সামনে মারা যায়। এর কারণ হতে পারে ফ্রাংককে নিজে হত্যা করা। আর ‘Manipulated Living’ বলা হচ্ছে, যাদের মাধ্যমে ‘Living Receiver’ সাহায্য পাবে। এখানে সেটা ছিল মিসেস পম্রি (ব্যারিমোর)। কারণ তার পড়ানো ‘Destruction’ বই ডনিকে সাইকোলজিক্যালি ম্যানিপুলেট করে, বা তার বোর্ডে লেখা ‘Celler door’ একটা সূত্র ছিল। ডনি লিভিং রিসিভার, এটা সে আস্তে আস্তে বুঝতে পারে। এবং সে কারণে পরে সে ‘Celler door’ একটা সুত্র, এটা বুঝতে পারে।



‘The Ensurance Trap’ বলা হয়েছে,  ‘Manipulated Dead’ বা ‘living’ এর দ্বারা, রিসিভারের প্রভাবিত হয়ে, তার পরের ‘কনসিক্যুয়েন্স’গুলোকে। ডনি, ডেড ফ্রাঙ্ক বা মিসেস পম্রি, দুইজনের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছে।



যেমন, ডনির সাথে গ্রেচেনের কথা হয় সেইদিনই, যেদিন সে স্কুল ভাসিয়ে দিয়ে আসে। এবং সেটা করে ফ্রাঙ্কের কথায়। এবং গ্রেচেনকে সে ভালোবেসে ফেলে। যে কারণে সে শেষে ফ্রাঙ্ককে মেরে ফেলে, গ্রেচেনের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে। এভাবে যা হবার সেটা হয়; ফ্রাঙ্ক মারা যায়। কিন্তু ঘটনা যেটা ঘটে, এই ট্র্যাপের কারণে গ্রেচেনের সাথে সম্পর্ক হয়। এবং গ্রেচেনকে বাঁচাতে চায় ডনি। এবং এখানেই মুভির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



আর্টিফেক্ট হিসাবে কেনো জেট ইঞ্জিন কেনো ডনির ঘরে গেল? মুভির শেষে ডনির বাড়ির উপরে একটা ভর্টেক্স ক্রিয়েট হয়। যেটা আল্টিমেটলি একটা ওয়ার্মহোল টাইম ট্রাভেলের, যেটার আরেক প্রান্ত হচ্ছে ২ অক্টোবর। লিভিং রিসিভারের আরেকটা বৈশিষ্ট্য ছিল ‘টেলিকাইনেসিস’। মুভির একটা সিনের ডায়লগ বলি-

Gretchen – “Donnie Darko…what the hell kind of name is that? It’s like a superhero or something.”
Donnie – “What makes you think I’m not?”



ডনি মুভির শেষদিকে, TU এর শেষে গ্রেচেনকে বাঁচাতে, টাইমলাইন রিসেট করতে ভর্টেক্স এর মাধ্যমে জেট ইঞ্জিন টেলিকাইনেসিস এর সাহায্যে অক্টোবর এর ২ তারিখ পাঠিয়ে দেয়। এবং এখানে মুভিতে ফ্ল্যাশব্যাক এর মাধ্যমে পিছনে যাওয়া হয়, PU তে যাওয়া হয় আল্টিমেটলি। এখানে ডনি ঘুম ভেঙে উঠে হাসতে থাকে। আল্টিমেটলি মনে হয় অনেকের এখানে, TU এর পুরোটা আসলে ‘লুসিড ড্রিম’ ছিল; আসলে তা নয়, বরং টাইম ট্রাভেলই ঘটে। কারণ জেট ইঞ্জিন এবার PU এসেছে, এবং PU এর হিসাবে কোনো অরিজিন ছাড়াই। সুতরাং টাইম ট্রাভেল ঘটেছে।




এখন , ডনি ঘুম ভেঙে উঠে আবার শুয়ে পড়ে। কারন ও এবার ভবিষ্যতের সবটুকুই জানে, কী হবে। গ্রেচেনকে বাঁচাতে তাই সে আর ঘর ছেড়ে চলে যায় না। কারণ যেকোনোভাবে আবার সব ঘটনা রিপিট হয়ে যেতে পারে। চাইলে সে বেঁচে থেকেও বাঁচাতে পারতো। কিন্তু শতভাগ নিশ্চিতের জন্য, নিজের মৃত্যুটাই ভালো অপশন মনে হয় নিজের কাছে।



কিন্তু ডনি এবার কীভাবে মনে রাখলো সব? এর উত্তরে আগের দেওয়া মুভির রিল আর টাইমলাইনের তুলনার উদাহরনটা আনছি আবার। মুভিতে এভাবে বলা আছে, সবার জন্য ফিউচার গডের মাধ্যমে আগেই সেট করা।
যেহেতু ‘একটি ভবিষ্যত’ বা TU তে ঘটনাগুলো ঘটার পর, টাইম রিসেট করা হয়, তাই লিভিং রিসিভার হিসাবে সবটুকুই মনে থাকে ডনির। টাইম-ট্রাভেল কন্টিনিউয়াস লুপ। এবং সামনের ঘটনা ‘অলরেডি হ্যাপেন্ড’, যে কারণে ফ্রাঙ্কের ভূতকে ডনি  ফ্রাংকের মৃত্যুর আগেই দেখতে পায়, হ্যালুসিনেসন হিসেবে, কারন কন্টিনিউয়াস লুপের কারণে, ডনি ভবিষ্যতটা জানতে পারবে। লুপের ব্যাপারটা আসলে যে একবারেই হয়েছে এমনটা না। ব্যাপারটা অনেকবার ঘটতে পারে। কিন্তু আমাদের দেখার জন্য শুধুমাত্র একবার PU এবং একবার TU দেখানো হয়। এবং সেই একবারই দেখানো হয়, যেখানে লুপ ব্রেক করে, টাইম আসলেই রিসেট করা হয়।
কিন্তু সবার কেনো মনে থাকেনা? শুধু ডনির কেনো মনে ছিল? আসলে সবারই কমবেশি মনে ছিল। লিভিং রিসিভার হিসেবে ডনি সবটা মনে রাখে। অন্যরা সেটা ড্রিম হিসেবে আর গুরত্ব দেয় না তেমন, কিন্তু ভাঙা ভাঙা স্বপ্নের মতো মনে থাকে। টাইম রিসেটের পর PU তে সবার ঘুম ভাঙলে কিছু সূত্র দেওয়া হয়। যেমন, PU এর জীবিত ফ্রাঙ্ক ডান চোখে হাত বুলায়। আবার, গ্রেচেন আর ডনির মা একে অপরকে PU তে না চিনলেও, হাত নাড়ায়, ‘যেন মনে পড়ে’ এরকমভাবে।




TU এর শুরু কোথায়? এটা আসলে টাইম প্যারাডক্স। টাইম-ট্রাভেলের লুপ তৈরির কারণে কোনো স্টার্টিং পয়েন্ট নেই TU এর।



একটা জিনিস খেয়াল করবেন, ডনির শিক্ষক তাকে বলে, “She changed in one night”। রবার্টা স্প্যারো নিজেও একজন রিসিভার ছিলেন। এবং ওনার ক্ষেত্রে টাইম রিসেট হলেও তিনি কন্ট্রোল করে, নিজের ক্ষেত্রের TU কে তৈরি হতে দেননি। অর্থাৎ, লিভিং রিসিভার হিসেবে মৃত্যু না হলে TU থামানো যাবে না, তা নয়। কিন্তু ডনি এটা করে, শতভাগ নিশ্চয়তার জন্য।







0 comments:

Post a Comment