About Time (2013)



Time traveler’s wife  মুভিটার কথা মনে আছে? এই মুভির সাথে সেই মুভির মিল হলো দুইটারই কাহিনী টাইম ট্রাভেল নিয়ে, আর দুইটার মধ্যেই Rachel Mcadams আছে। সত্যি কথা, Rachel Mcadams না থাকলে বোধহয় এটা দেখতাম ও না। যাই হোক, আপনাকে যদি বলা হয় আপনার টাইম ট্রাভেল করার ক্ষমতা আছে,আপনি কি করবেন? প্রথমতো সম্ভবত পৃথিবীকে সুন্দর করার কথা বলবেন। ২১ বছর বয়সী টিমকে যখন তার বাবা এই প্রশ্ন করে, টিম ঠিক করে তার ক্ষমতা দিয়ে সে একটা “গার্লফ্রেন্ড” যোগাড় করবে। বার কয়েক চেষ্টায়, টিমের দেখা হয় ম্যারির সাথে, যে কিনা কেইট মসের মস্ত বড় ফ্যান।তাদের বিয়ে হয়, সংসার হয়— জীবন যেভাবে চলে আর কি। এই জীবণনর বেশ কয়েকটা বড় বড় পর্যায়ে টিম কিভাবে তার টাইম ট্রাভেল ব্যবহার করে, তারই ঘটনা।

 মুভিটা ভালো লাগে, খুব সাধারণ ভাবে দেখানো নাটকীয়তার জন্য, আবার এই নাটকীয়তার মধ্যেই জীবনকে সাধারণভাবে দেখার জন্য। শুরুতে মনে হচ্ছিলো!! টাইম ট্রাভেল করার সুযোগ থাকলে কতো কি করতাম!!! প্রথম বার পরীক্ষা দিয়ে প্রশ্ন জেনে পরদিন টাইম ট্রাভেল করে আবার পরীক্ষা দিতাম। তারপর ঝগড়া শেষে বাসায় এসে মনে মনে যখন গজগজ করি “ধূৎ! এইটা বলা দরকার ছিলো! ঐটা বললাম না কেন” তখন টাইম ট্রাভেল করে পিছের দিকে গিয়ে বলে আসতাম কথাগুলো। কিন্তু পরে মুভি দেখে ভাবতা বসলাম, আসলে কি সেটা ভালো হতো? যদি জীবনটাকে বারবার ইমপ্রুভ করার সুযোগ আসতো, তাহলে তো আমরা কখনোই সুখী হতাম না। প্রত্যেক বার মনে হতো “ওহ আলমারীর ভিতরে ঢুকে চোখ বন্ধ করে, পিছনে গিয়ে ওভেনটা চেক করলেই তো খাবারটা পুড়তো না”, তারপর আসতো হিসেব করার ঝামেলা “আচ্ছা ওর সাথে কতোতম মিটিং এর সময় যেনো এই কথাটা বলছিলাম?” আরো কতো কি।


বিশাল ক্ষমতা হঠাৎ করে তো যে কেউই পেতে পারে (এহেম এহেম! ভাগ্য যদি ওরকম থাকে) কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে সেটাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে কয়জন পারে? দিন দিন টেকনোলজীর সাথে সাথে ব্রেকআপের সংখ্যা যেমন বাড়তেছে, তেমন ভাবে প্রতিটা মুহূর্ত যদি পিছে গিয়ে শোধরাতে পারা যাইতো, তাহলে মুহূর্ত গুলারই বা কি দাম আছে?

মুভির বাইরে অনেক কথা বলা হইসে। কিন্তু অতি সাধারণ মুভির মাধ্যমে অন্তত পক্ষে একটা বারের জন্য হলেও মনে হয় “বাহ! ভালোই তো আছি, কি দরকার চেন্জ করার। সব তো পারফেক্ট হইতে হবে না”



0 comments:

Post a Comment