এপ্রিলের মলাটে লেগেথাকা খরকুটো



মলকান্তি একবার রোদ্দুর হতে চেয়েছিল শুনেছিলাম। জাম আর জামরুলের পাতায় যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে তেমনই এক রোদ্দুর। সেটা কলেজের কবিতা ক্লাসে যথেচ্ছ কাটাকুটি করবার পর অমল রেগে গিয়েছিল কিনা জানি না তবে আমার বন্ধু সুদীপ কবি হতে চাওয়াতে তার বাবা অমল বাবু বীভৎস খেপে গেছিল।
অমল বাবু মারা গেছেন বছর দুই, সুদীপের একটা বউ হয়েছে, নিজের কবিতার বইটা আর… সুদীপ আর আমার সব থেকে দামী শখ ছিল সকাল বেলা উঠে মাঠের দিকে চলে যাওয়া, দীঘির দিকে চলে যাওয়া। সুদীপ বলতো ওর খুব মৃত্যু ভয় লাগে, সবসময়। আমার কাছ থেকে শেষ যে বইটা নিয়েছিল আর ফেরত দেয়নি সুদীপ। আমি জানতাম সুদীপের বউ সুদীপকে অনেক মিথ্যে কথা বলে, সুদীপ ধরতে পারে না। আমি ভয়ানক ভাবে এই মিথ্যেগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখেছি কারণ জীবনের সাথেও এরকম অনেক মিথ্যে বলি আমি। ভালো মন্দ, নৈতিক অনৈতিক বোধগুলোর সাথে ক্রমাগত একটা মিথ্যে বলে যাই। কিন্তু আমি শেষ যে কবিতাটা লিখেছিলাম, পরশু, তার সাথে সুদীপের একটা অদ্ভুত মিল আমি খুঁজে পাচ্ছি আজকাল।

মনে হচ্ছে আমার কবিতা সুদীপ কেমন অধিকার করে নিচ্ছে।আমি আজকাল আর সকালে উঠে বেড়িয়ে যাই না,মানুষদের মিথ্যে বলা-গুলো চেয়ে চেয়ে দেখি না শহরের নানা শহীদ মিনারে বসে।আমি এখন নিশ্চিত সুদীপের সন্ধেবেলা গলা সাধা ছোট বোন এখন আর আমাকে নিয়ে গোলাপি উড়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে না।

প্রতিদিন আমি ভয়ে ভয়ে বাঁচি হয়ত একদিন সুদীপের বই প্রকাশ পাবে আমার নামে।সেদিন হয়ত ঘরের আয়নাটার জন্য একটা মোটা কভার কিনে আনতে হবে বাজার থেকে…

রোজ রাতে একটি অখণ্ড শব্দ ভাসতে ভাসতে চলে যায়,
এই আমি আটকাতে পারছি না কিছুতেই
আটকাতে পারছি না আর একটা ভোর হওয়াকে, আর
সেই ভোর আলো হাতে উড়ে যাচ্ছে তোমার ঘুমন্ত
                                                     জানলায়।

অদূরে জঙ্গলের মধ্যে সবাই বোঝাপড়া করে নিচ্ছে তাদের সহবাস,
আমার এই
লেখার থেকে তোমার দিকে উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে
জল পাহাড় বন ডুংরি।

না পেয়েও পেয়েছি ভেবে লিখে রাখি প্রেম
লিখে রাখি মনীরা খানম, লিখে রাখি হেম
কিছুই ফেলি না, রেখে দিই নষ্ট পোড়া চাঁদ
রেখে দিই না রাখা কথার কষ্ট নিনাদ।

খড়কুটো সরালে সামান্য স্মৃতি
মাটিতে সদ্য গজানো ঘাসের ঘ্রাণ
আমাদের বাড়ির উঠোনে পড়ে আছে এইসব...




0 comments:

Post a Comment