অদ্ভুত সিঁড়িতে, আবর্তিত অন্ধকার



১.

একটা সরু তার, নিচে প্রগাঢ় দোয়াতকালি ঢেলে দেয়া আঁধার । কী অশরীরী ভয় বিশাল হাঁ করে ধেয়ে আসে ! আমার সারা গা জুড়ে স্বেদবিন্দু, হাঁটি তারের ওপর । হরর ছবির লাইট-ইফেক্ট, লাশগন্ধ তীব্র ভয়শীতল কূপে । তবুও স্পষ্টতই আতঙ্কের দ্বীপই ঠিকানা, দুপাশের পাথুরে দেয়াল চেপে আসে, দ্রুত সিন ড্রপ করে দেয়ার জন্য সকরুণ প্রার্থনায় ডুবে যাই সহস্র ফ্যাদম অতলে । অস্ফুট গোঙানির শব্দ কূপের দেয়ালে ধাক্কা খায়, … 'ফেরাও হে অদ্ভুত নগর, আমি বসে থাকি অন্তত অন্য সব নাগরিকদের গা ঘেঁষে, সামান্য উষ্ণতায় ।’


নির্মম মানুষগুলো ক্রুরচোখ, ওদের আশ্চর্য বিধির হলুদাভ পাতায় আমার নাম লিখেছিল, কোনো এক রহস্যমোড়ানো দণ্ডের ফলকে । দণ্ডিত হতভাগ্য সামনে তাকায়, নির্নিমেষ । দৃশ্যটি ক্রমশ পাল্টাতে থাকে, মুছে যায় ভয়ের চিহ্ন, প্রচণ্ড শোরগোল নিস্পৃহ বোধশূন্য আবেশটুকুকে নিয়ে যায় কী এক উচ্চতায় । এবার অপেক্ষা শুধু তীক্ষ্ণধার অবসান কিংবা রজ্জুর শ্বাসরোধী দৃশ্যের । চলে যায় ভয় নিওরনের অসাড় অংশে ।

‘আর অল্প কয়েক মুহুর্তমাত্র ।’ কেউ ফিসফিসে গলায় বলে যায়, ‘তুমি এমনটি আর ভাববে না ।’
‘কেন ?’ আমার মুখে শ্লেষ্মা, সারা শরীর জুড়ে ভেজা চটচটে ভাব, ‘নতুন দেশ ? ওদেশে মস্তিষ্কের ব্যবহার নিষিদ্ধ ?’

কেউ কথা বলে না । বরং ধূসর মগজরেখায় ঘনিয়ে আসে অন্য এক ঝাপসা চলচ্চিত্র ।
শেষ করো এই অঙ্ক, যবনিকা নয় চলো সামনে অন্য জায়গায় ।

নতুন এক দেশ সামনে, ওখানে আলোও নেই আঁধারও নেই । ধূসর পাতমোড়া এক অন্য আলো, মন নামের শক্ত ধাতব পাতটির ওপর খেলে না অনুকম্পা-রঙের ছায়া । সেখানে নীতু নেই । অস্তিত্বে একটি হালকা প্রায় না-দেখা একটি কোমলরেখা ফোটে, 'নীতুর কাছে যাব’ । ওই যে, বারান্দা জুড়ে একটি তারে কার যেন জামা, পেছনেই অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাস, হাঁড়ি-বাসনকোসন, সে-ই আটপৌরে সংসারের ছবি । ও-দেশই নিষিদ্ধ ফিরে যাওয়া, বদলে যাওয়া ভূগোলকে এখন ধূসর মৃত্তিকা । নতুন গ্রহের গা । প্রাণের অঙ্কুর নেই পাথুরে বুকে ।

ছুটতে থাকি, সারা শরীরের বাঁধন চেপে রাখে মৃতের মতো স্থিরতায় । ছুঁতে পারি না । এইসব দৃশ্য দেখানো হচ্ছে । ভুল দৃশ্য । পেছনে ফেলে আসা সেলুলয়েড । অর্থনীতি । নগরযাপন । সবুজের বুক উপড়ে তৈরি সওদা, বিনিময়, চাহিদা-যোগান । নগরগুলো সাজে পুরু মেকআপ প্রলেপে, ব্লাশ অন্ । সেখানেই নীতু হারিয়ে যায়, অপসৃয়মান হালকা একটি ছায়া তিরতির কাঁপে দূরদরোজার চৌকাঠে । কাঁপতে থাকি, থরথর কাঁপন । ফেরার আকুতি, মিউট করা চিৎকার, অক্ষিগোলকে অনুনয়, 'ফিরতে চাই ।’ এক্সপ্লোসিভ ডেটোনেটরে তস্করের হাত, বিস্ফোরণ, উচ্চমাত্রার ঘাতক শকওয়েভ … এভাবেই কি অন্য পৃথিবীর জন্ম হচ্ছে ?

নাহ, কেটে যায় অদ্ভুত ইস্পাতআঁধার, আলো ঠিকরে পরা সিডিএ এভিন্যুর জনমগ্ন কষ্টকর ফুটপাত ধরে হাঁটতে থাকি, আসলে সরল এক ঘুমঘুম ছবিতে একটি মানুষ । আশৈশব কচিকলাপাতা অ্যাক্রাইলিক-রঙের ব্রাশ বদলে যায়, খুঁটি গেড়ে বসা মরচেপড়া সময় । ফেরে, আবার পর্দা নেমে আসে, এপিসোড জুড়ে অকরুণ খড়গ ।

২.

আবার গাঢ় একটি স্ক্রিন । ওই যে ! অন্য এক ভূমি । আমাকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে । এখন সীমান্তরেখায়, সঙ্গে কেউ নেই । শুধু মিশমিশে কালো কী যেন গা ছুঁয়ে অভয় দেয় । বাঁধন খুলে মুক্ত একজন ঘোরলাগা মানুষ, ছুটতে থাকি প্রাণপণে । ওপাশেই আলো, আর একটু গেলেই … আলোর দ্বীপ !

গাঢ় অন্ধকারে একবার আলোর বলের তুমুল নাচানাচি দেখে ভয় পেয়েছিলাম, সম্ভবত আলেয়া, এখনও বুক জুড়েই সেই তীব্র অপার্থিব ভয়-আলোর নাচন, অথচ সে-ই আমার ত্বকে রোমকূপ-জাগানো অন্ধকার, যে অন্ধকারের এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত নেই, ডুবে থাকি ৷ অনেক আলোর বালব লাগাই, তবুও নিশুতি রাত, রেটিনা-করোটি গ্রাস করে তুমুল অন্ধকার ৷

সমাজপ্রথা-গ্রন্থগত রীতিরা আমার চারপাশে খড়িমাটির বর্ডার লাইন টেনে বলত, এর বাইরে যেয়ো না, যেতে নেই ৷ যদি স্বাভাবিক-অন্ত্যজ ভয় আঁকড়ে ধরে নৈঃশব্দ্যের একটানা মাতম বাজতো, চুপ করে থাকি । দেখি অতিপ্রাকৃত দৃশ্যাবলি, তোমাদের সঙ্গে প্রায়শই একমত হয়ে যেতে থাকি, তোমরা সাহসী যোদ্ধার মতোই বিদ্রুপ করতে, 'অতোটুকু পরাক্রম-সাহস নেই প্রকাশের' ! কিন্তু একটা আকাশ, একটা ঘুড়ি … ওড়ে, বিবর্ণ ঘুড়িটির গতিপথ ক্রমশ নিচের দিকে নেমে আসতে থাকে । এনলার্জড ফ্রেমে একটি ধূসর দৃশ্য ফোটে, একটি বিষথলে-ভরা ব্ল্যাক উইডো আটপায়ে, হিমহিম … একটি নিঃশব্দ-অগোছালো গৃহকোণ !

আমার একটা নিজস্ব-কোণ ছিল, কার্পাসতুলোওড়া ভোর ছিল, একটা ধোঁয়াওঠা চায়ের টেবিল, রূপকথার সোনার জিয়নকাঠির সুবাস খেলে যাওয়া শ্যাওলাআঁকা টেরেসে । ক্যালকুলেটরের ডিজিটগুলো ফেইল করত, লবণমরিচের হিসেবটাই ধরত না উলটে যাওয়া গণিতে । তবুও একটি সমকোণ জ্যামিতিতে উচ্ছ্বাস বেজে উঠত, ‘মনমানসী বইসা আছে প্রেমের বৈঠা লইয়া, যা রে নাইয়া যেদিক খুশি পীরিতের পাল তুইলা ।’

মুখ গুঁজে সে কোণে একটি অতি-ছোট ভাবনার ডানাপরী-সুখ, তোমরাই বললে, 'বেরোও, পৃথিবীটা বীরভোগ্যা !’


৩.

আমি পরাক্রম-শৌর্য-বীরত্ব চাইনি । আমার কী ভীষণ আনন্দ ছিল মায়ের খুব কাছ ঘেঁষে পরনির্ভরতায়, তোমরাই জানালে নিশ্চিতভাবেই, জিতে যেতে হয় যোগ্যতা-বিক্রমের এক বিশাল অশ্বারোহণে, তবেই আমি মানুষ হব ! আমি তোমাদের এই সুনির্মিত কাঠামোর বুক ঘেঁষেও অতিবর্ণিল রঙকে ভয় পেতাম, রঙের একটি অন্যটিকে গ্রাস করে বলে, আমি পেন্সিল-কলম-কালো-ধুসরক েই বেছে নিতাম, নীলিমাও বিবর্ণ-বাস্তব হয়ে তোমাদের পরাবাস্তব পৃথিবীর কাছে আশ্রয় চাইতো না ৷ কিন্তু তোমরা বললে, রং দাও, ভরাট করো, মানুষ বর্ণিল সুখী-সাম্রাজ্য খুব খায় !



৪.

‘আমাদের ওই রাজ্যের নিয়ম জানো ?’ ঝরনার জল, পাহাড়ের চুড়ো, সুন্দরতম প্রজাপতির ডানা দিয়ে আঁকা ল্যান্ডস্কেপ, একটি ছোট্ট পাখি আমাকে পৃথিবীর পাঠ শেখায়, ‘তোমাকে রেইসে অংশ নিতে হবে ।’ ডানার সব সুন্দর জড়ো করে প্রজাপতি সুর বলে দেয়, ‘এভাবেই গাইতে হয় গান ।’ কাঁটাতার চিরে ওপাশে যেতে হলে তোমার গা ভরে গজাবে সাহসের পাখা । অনিন্দ্য পরাক্রমে আমি ওদের হাত ধরি । আস্থা দিয়ে বাসা বোনে পাহাড়চেরা শীতল জলকণা । জমতে থাকে - জমতে থাকে । ওরা আমাকে বলে, রং দাও, অনেক সুন্দর সুন্দর রঙে ভরিয়ে দাও, আকাশ অনেক বড়ো ।

পুরাকৌশল-সূত্র আমাকে বলে, 'কাঠামোর ওপর ভবন দাঁড়ায়, জানো তো ?’
কতো শতাব্দ পেরোল, লৌহের যুগ পেরিয়েছে সে-ই প্রাক-সভ্যতায় ! কিন্তু আজও আমার নির্মিতির স্তরে স্তরে লৌহনির্মিত বিষখঞ্জর । আমি জানতাম না ।

আমি জানতাম না, গড়া আর ভাঙা শুধুই নদীর সর্পিলতায় নয়, মানুষ, তোমাদের ইটপাথরেও তার গন্ধ থাকে !

একটি শিলালিপিতে উৎকীর্ণ প্রাচীন অক্ষর, কোনো এক প্রত্নবিশারদ পাঠোদ্ধার করেন, ‘মানুষ, তোমরাই তো প্রকৃতির রাজ্য হতে বেরিয়েছো, রঙিন সভ্যতায় পা রেখেছো, যা তোমরা প্রাক-সভ্যতাপর্বেই ভেবে নিয়েছিলে !’ বধ্য-চিৎকার অবোধ্য ধনুক-টানটান স্বরে । কাহিনির সবটুকু তোমাদের হাতে । রেডিও ওয়েভে উত্তাপ । সহস্র পিক্সেলেট স্কেচে ফুটে ওঠে, শিরোপাজয়ের এপিসোড । দাঁড়িয়ে থাকি অবসন্ন পদাতিক । জনমানবহীন প্রান্তরে বীভৎস রসায়নে লিখে যাও তোমাদের নতুন এক নিঃশব্দ মহাযুদ্ধ জিতে যাওয়ার বিবর্ণ স্ক্রিপ্ট । একটা কুৎসিত মাথার খুলিআঁকা বিলবোর্ড, হাইওয়েতে ধারালো ব্যারিয়ার । এক অশীতিপর বুড়ো লাল কাপড় ফেলে দেয়, তীব্র বিবমিষায় থুথু ফেলে পিচে, ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলে, 'ওহ ম্যান, ওয়ে অফ নো রিটার্ন হে !’ জনাকীর্ণ বিজিতনগরে নীতুর পোর্ট্রেটটি প্রচারিত হয়, এই যে নো ম্যানস ল্যান্ড, নিভৃত কোণ, এক একাকী সরীসৃপ-সঙ্কুল দ্বীপ ।

কোনো এক উত্তরণপর্বের কোনো এক আদি-অনাদি-অদ্ভুত সিঁড়ি, আবর্তিত মানুষ । কেউই জানতে চাইছে না, অথচ সাদা ফ্ল্যাগে সিজফায়ারের কোনো আভাস নেই । কোথায় একটা ভায়োলেন্ট মুভির হিংস্র গর্জন । অথচ … আমি তীব্র নীলচে আলোর ফেটে পড়া আবহের মধ্য দিয়ে সুর তুলি । কণ্ঠে সুর নেই । তবু আমাকে শুরু করতেই হবে । প্রাণপণে মনে করতে থাকি, কীভাবে ইন্দ্রজালিক সুর সকল ডাকিনী মায়া কাটিয়ে দেয়, কী যেন সুর … কী যেন সুর … মনে পড়ে যেতে শুরু করে, কুয়াশার ফিনফিনে আস্তরণ ভেদ করে জেগে ওঠে বোধ ।

৫.

কোলাহল-শহরে মুরাদপুর হতে বাসে উঠি, যেখানে খুশি নেমে যাবো । ইচ্ছে করে, আমি ও নীতু সুখী শহরের নগরবাসী সুখ হই । শত বছর হই, ক্রমান্বয়ে সহস্র । এই শহরের কেউ কেউ বসন্তে গাঢ় হলুদ, কেউ কেউ শুধু এক থালা জুঁইফুলের মতো ভাত । কেউ হাসপাতালের বেডে পোড়া-পোড়া প্রহর । বাস থামে। অস্পষ্ট কথা, হর্নের শব্দ সব একটি চেনা গর্জন-ধাঁচ ঢাকের ভয়-ভয় আবহ । কেউ একজন চড়াগলায় ভাড়া নিয়ে তর্ক-চিৎকার করছে কন্ডাক্টরের সঙ্গে। পাশের মধ্যবয়সী মানুষটি বিষণ্ণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন বাইরের দিকে ।

নীতু আমার বিভ্রমে হেঁটে যায়, আমি বলি, স্বপ্নের মানুষ। নীতু কী করে জানো, আমি-তুমি মিশে যাবো বিপ্রতীপ কোণে, পরস্পর-জড়ানো আমাদের আঙুল ছাড়িয়ে নিয়ে !

'নীতু, চলো হাঁটি দগ্ধ-মানুষ-নগরে, এই বসন্তে আমরা বজ্রনিনাদ হই, তীব্র-ব্যথাকাতর মানুষদের পাশে বসে থাকি !’ স্থির অচঞ্চল মণি, বলি, 'চলো, নীতিপ্রণেতা হই। ঠিক করে ফেলি, এখানে কাউকে আর আকাশ ছিনিয়ে নিতে দেবো না ।’

'ওয়াসা, লালখানবাজার, জিইসির মোড়', চিৎকার, বাসের গায়ে হেলপারের নির্দেশসূচক করাঘাত, কী সুন্দরতম পথনির্দেশ ! মানুষ-ঠাঁসা বাসটি একটূও পথ ভুল করে না। অথচ দেশ-ভূগোলময় কতো সুনিপুণ বাদকেরা কতো কী যে ভুল করেন !

আমার একদল ক্রুদ্ধ নৃপতিকে মনে পড়ে, দীর্ঘ ছায়া, তাঁদের ইচ্ছের কাছে বধ্য হতে হয় মানুষ। অবাক দেশের মানুষ, চিৎকার করে, পোড়ামানুষগন্ধবুক কাঁদে, নৃপতিরা ঠা ঠা হাসে ।'

'আপনার শ্বেতশুভ্র ঊষ্ণীষ, পালক, অবাধ্যের বধ্য মাথাটি কেটে নেয়ার জন্য অব্যর্থ তরবারি কোনোটিই মানানসই নয় হে রাজন্য !’

আমার কি ইল্যুশন হচ্ছে ! ক্রুদ্ধ নৃপতি এগিয়ে আসেন, আমার দিকে, যেন বাতাসে ভেসে আসা ছায়া। এর মধ্যে আমি দেখতে পাই, নীতুর হাত, আমি ছুঁতে পারছি না, নীতু মিলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ ।

নীতুর হাত মুঠোয় ধরে রাখতে চেয়েছি বলে মধ্যযুগের এক ক্রীতদাসের মৃত্যুদণ্ডের মতো নির্মম শিরশ্ছেদ হবে, প্রকাশ্য বাজারে, রক্ত গড়াবে রাষ্ট্রনীতির ভ্রষ্ট গল্পের মতো। রাষ্ট্র-দেশ-মানুষ নয়, নৃপতিদের অহমই মুখ্য, অহমে আঘাত সইতে পারেন নি বলে সান্ত্রীসেপাই-বন্ধু-ভ� ��ই মুণ্ডুচ্ছেদ করেন সগর্জনে, যেমন আওরঙ্গজেব দারাশিকোর ।

তুমুল শব্দ, ব্রেক, আগুন ।
নিমিষে তুমুল বিস্ফোরণ, তীব্র দাউদাউ ।

আমি-নীতু-শতাব্দ-ইতিহাস গুঁড়িয়ে যায়, বিষণ্ণ বসন্ত আর ধুসর ভ্যালেন্টাইন । গা-ভর আগুন-ছোবল, যখন ধোও অগ্নিদগ্ধ ত্বক, পৃথিবী কাঁপে, ব্যান্ডেজের সঙ্গে উঠে আসে চর্ম-রক্ত-আর্তনাদ । আমি নীতুকে খুঁজি। এই ভূ-গোলকে না হলে অন্য এক বিগ ব্যাং হই, আরেক বিস্ফোরণে অন্য এক মৃত্তিকা শীতলতর হোক। নতুন এলিটেরা শোষণ ভুলে যাক। জনপদ হোক জন-মানুষের সুখ-সুখ কলরব ।

নীতু নেই, দিগন্তরেখায় অসীম শূন্যতা, আকাশ ও ভুমির মিলন-রেখার আশ্চর্য মিথে।

0 comments:

Post a Comment