এপ্রিলের বৃষ্টি


চ্ছা এমন কেন হয়, আমাদের জীবন থেকে একে একে হারিয়ে যায় এপ্রিলের বৃষ্টি! দিনলিপি জুড়ে শুধু ঝরাপাতার হাহাকার। কিছু হাস্যকর জলছবি চোখের পাতা ভিজিয়ে দিয়ে যায়...জমা-খরচের হিসেব গুলো শুধু ভুলেই ভরে যায়। হাফপ্যান্ট থেকে যে জীবনের শুরু সেই জীবন ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় জিন্সের ছেঁড়া পকেটে। যে নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াই , বিষন্ন দুপুরের ভাঁজে কতগুলি আলো কিনেছি অন্ধকারের জন্ম তিথিতে,  আমাদের বৃত্তবদ্ধ সময় জুড়ে হাসে উড়ন্ত বিকেল, কবিতা হয়ে যায় নির্জন দুপুর...

ইদানিং বদলে যাচ্ছে আমাদের কথাগুলি...যে পরিচিত নেবুর গন্ধে ঘুম আসেনা, কুয়োর পাশে সেই নেবু গাছটি ভীরু চোখে উঁকি দেয় আমাদের জানালায়। আমরা ভুলে যাই পাপ পুণ্য হাসিমুখ....
রাতগুলোতে হট করে হয়ে যাওয়া মনখারাপ...আমরা কতকাল ধরে ভালো নেই...আমরা শহরের ভুলভাল ওলিগলিতে খুঁজে চলি অর্থময় প্রেম। অনেক রাত করে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যায় আমাদের চিঠিরা। মরে যায় একের পর এক সহজ মানুষ। যাওয়ার আগে কেড়ে নিয়ে যায় আমার প্রিয় কোনো রঙের শিশি, প্রিয় কোনো শব্দের আদর। আচ্ছা বকুল, তোর চিলেকোঠার খবর তো আমার জানা, উত্তরের হাওয়ারা তোর খবর আমাকে পৌঁছে দেয় অনবরত, আমার মন কেমন করে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে সেই গল্পের কথা, যে গল্পের খোজ কেউ রাখেনা। প্লিজ, আমাকে বল না তোর সেই গল্পের কথা... সেই ঢেউএর কথা ...সেই নদীর কথা যার সবকটা ঢেউয়ে তোর নাম লেখা ছিল। 

আচ্ছা বকুল, আমায় একটা ঋণ দিতে পারবি! কিছুটা বাউল মাটি কিনবো, সুদ হিসেবে একটা রাস্তা বানাবো, শেষ হবে একতারায়...ত্রিকোনামিতির কস থিটা বাই ট্যান থিটা আজ কাল আর ফ্রক পরে আসে না; আমি সম্পাদ্যের বৃত্তকে অনেক কষ্টে দু'ভাগ করতে শিখেছি বকুল, তারপরেও বুঝতে পারি তোর চোখের তারা কোনো কম্পাসেও গোল হয় না। আজরাতে থামিয়ে দিস যদি জীবনের সব লেনদেন, জীবনের ট্রেন ঝিক ঝিক ছুঁয়ে ফেলে প্লাটফর্ম শেষ স্টেশানের। যদি ভাবিস আর কিছুই বাকি নেই, সব গল্প ফুরিয়ে গেছে, সব পাখি ফিরে গেছে ঘরে, ফিরে আসিস আমার কাছে; তোকে আমি শোনাবো এক বিষন্ন বালকের গল্প, মাঝরাতে যার উঠোনে ঝরে পড়ে কুয়াষা, আফসোস করিস না বকুল, ঘুরে ফিরে দেখা হয়েই যাবে প্রিয় মুখ, বসন্ত আর বুলবুলের সাথে...

কেউ জানতে পারল না, বুকের ডানদিকে কারফিউ রেখে গেল কফি রঙের মেঘ। দেখা দেয় হঠাৎ একটা ছবি, আঁকতে আঁকতে কারা যেন উঠে গেছে কুহু ডাকে... এভাবেই শেষ হয় কোনো গল্পের উপাখ্যান। শেষের সাদা পাতায় আরও কিছু লেখা যেত হয়তো; থাক, ওটা অলিখিতই থাক। তুমি ফিরে এসে ইচ্ছেমত রঙ চড়িও উপসংহারে... 

0 comments:

Post a Comment