মফঃস্বলের রুপকথারা



এরকম একটা সময়ে আমি হঠাত্‍‌ বুঝতে পারি যে আদতে আমরা কেউই কারো প্রতি আর তেমন বিশ্বস্ত নই। সকলেই ঠকছি, সকলেই ঠকাচ্ছি, সেসব বুঝতে পারছি, কিন্তু প্রবল গরমের দিনে রিকশাওয়ালার মাথায় একটা ছাতা ধরতে পারছি না।একটা ছাতা ধরার হয়ত মানুষ নেই আশেপাশে। আমরা অনেকে যারা এক সময় বিপ্লবে বিশ্বাস করতাম যারা এখন কেবল কয়েকটা নেকুপুষু প্রতিবাদে বিশ্বাস করি।আমরা যারা এক সময় আগুন লিখতাম,তারা এখন লিখি ‘ইচ্ছে নদীর’ স্ক্রিপ্ট। আমরা যারা ‘বলাই’ হতে চেয়েছিলাম তারা এখন হয়েছি যশোর রোডে গাছ কাটার লোক।

এবং আমাদের এঁচোরে পাকা সবকিছুকে খিল্লি করা যৌবন কেমন সদ্য বাচ্চার ন্যাপি বদলানো এক একটা রাত হয়ে গেছে।বাচ্চাও কাঁদছে,আমরাও।কেউ কারোর কান্না থামাতে পারছে না।শুধু বহুদিনের রূপসী প্রেমিকা প্রেমের আবেদনে ঝাঁঝিয়ে সারা দিয়ে হটাত কেমন বউ হয়ে গেছে।ঝড়ে কত আম পড়ে থাকে কুড়নোর লোক তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। লোকের আম কুড়নোর থেকে টাকা কুড়নোর ইচ্ছে এখন অনেক।পাড়ার সারদা মুদিখানার দোকানকেও আজকাল লোকে বড্ড সন্দেহের চোখে দেখছে।গোলাপের বাগিচাতেও লোকজন এখন আর তেমন যাচ্ছে না।

কন্যাশ্রী চালু হয়ে অনেক মামনি নাকি বিয়ের পিড়ি থেকে উঠে গেছে।নতুন সাইকেল নিয়ে সিঁড়ির ঘরে ফেলে রেখেছে কেউ কেউ,বাবাকে বলেছে নতুন মডেল কিনে দিতে। হাসতে হাসতে নাকি পাহাড়ের একটা দাঁত পড়ে গেছে।
একটা কালো অন্ধকার ধোঁয়া আমাদের ক্রমাগত গ্রাস করে চলেছে তা টের পাই। কীভাবে টের পাই। কেন টের পাই ঠিক জানি না। কেবল এটুকু জানি আশেপাশের মানুষগুলো হঠাত্‍ কেমন বিচ্ছিরি রকম ভাবে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। খুব অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এতে করে আর কিছু না, তাঁদের সঙ্গে আমার যোগাযোগের সুতোটা ক্রমাগত আলগা হয়ে যাচ্ছে। এতে করে দিনের শেষে খুব কষ্ট হয়। তারা কি ভাবে, কি বলে, কি করে কোনও ঠিকঠাক নেই। সবাই যেন একটা মস্ত বড় সরাইখানায় খুব আপোষে জীবনকে বয়ে চলেছে। এই অন্ধকার ধোঁয়ায় আমি একমুঠো ঘাস খুঁজি। খুব সহজ আমার খোঁজা। যতটাই সরল সে খোঁজা হোক না কেন, যতটা ছেলেমানুষে এই খোঁজা হোক না কেন, এটাই জীবনে সত্যি আমার কাছে। যেমন মাঝে মাঝে ট্রেন থেকে নেমে পড়েছি বিশরপাড়ায়। অনেক রাতে কখনও চুপ করে বসে থেকেছি। মন খুব খারাপ লেগেছে। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে এই সমস্ত দৌড়াদৌড়ি থেকে একটা ব্রেক নিতে আমি নেমে পড়ি...



0 comments:

Post a Comment