ব্যাক্তিগত কথাকাব্য

১।

আমার বাড়ির পুবের দিকে
এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে এক বুড়ো তালগাছ,
যেখানে আসমানি ঘ্রাণ বিলিয়ে বাবুই পাখিরা
দলবেঁধে সাম্যবাদী কোরাস গায়।

২।

দেয়ালে ঝুলে ছিল শব্দ '' আজ কিন্তু রবিবার'' আপামর চোখ খুঁজতো আমাদের স্কুল প্রতিবেশে...ওরকম বাউন্ডুলে বসন্ত আর আসেনি.....শব্দের পথচলা-মাথা থেকে রাস্তা বেরিয়ে একদিকে চলে যাওয়া...থাকা আর না থাকা ! রঙ-তুলি নিয়ে .... লাইলী-মজনু ক্যান্টিনের ঘেরাটোপে...কত শব্দ ....সন্ধায়...চায়ের কাপ গুলো সাক্ষী অনবদ্য সেসব দিনের !

৩।
আজকাল বই পড়ার অভ্যাস বলতে গেলে ভুলেই গেছি, অবশ্য একবার হাতে নিয়ে আর না রাখতে পারার মত ভালো বইও হাতের নাগালে আসে না খুব বেশি।
কিছু বই জমে আছে, টু ডু লিস্টে ঘুমন্ত অবস্থায়। পড়ার মুডটাও পাই না সবসময়। আর মুড ছাড়া পড়তে বসে পড়ার মজা নষ্ট করার কোন মানে পাই না। ছেলেবেলা মিস করি খুব মাঝে মাঝেই, একটু ছুটি পেলেই কোন একটা বইএর ভেতর টেনশনবিহীন ডুব – রূপকথা মনে হয় আজকাল।
গত কয়েকদিনে একটু একটু করে পড়ে শেষ করলাম সঞ্জীবের গল্পসমগ্র ১, ২ আর ৩। টানা পড়ার মতন ভালো, বেশিরভাগ গল্পই মনে একটা দুটা দাগ রেখে যায়। অনেকেই দেখি দিব্যি গড়গড় করে প্রিয় ছোটগল্পের লিস্টি বানিয়ে ফেলে।
আমি পারি না। পড়ার চাইতে না পড়া গল্পের লিস্টিটাই বড় বলে হয়তো। তবুও কিছু গল্প একটু বেশিই ভালো লেগে যায়। রমানাথ রায়ের ‘কমলালেবুর গাছ’, বিমল করের ‘সুখ’। চলার পথে হারাতে হারাতেই নিজেকে আরেকটু ফিরে পেতে মন চায়।


0 comments:

Post a Comment