এপ্রিলের কবিতাগুচ্ছ



কাল সারারাত কেঁদেছিলাম একটি শিশুর মৃত্যুদন্ড দেখে। আমার সাথে জেগেছিল দুরবর্তি তারারা চোখে মুখে দমকা বৃষ্টি মেখে।
এ তো পৃথিবীতে প্রতিদিন দু'বেলা ঘটছে। এই নিয়ে জীবন। এই জীবনের গায়েও একটা আলগা মায়া লেগে আছে।

কিছুদিন ধরেই মনটা পালাই পালাই করছে। মনে হচ্ছে, আমি একটা ভুল জায়গায় আছি, আমার অন্য কোথাও থাকার কথা ছিল। এক একদিন বন্ধু বান্ধব কেউ থাকে না। আমার অভিমান হয়, কেউ একবার ভাবল না, আমি কি করে সন্ধ্যেবেলা একা থাকব? বার বার নিজেকে বলি, কেউ মনে রাখেনি, আমায় কেউ মনে রাখেনি। তারপর একসময় পুরো ব্যাপারটাই যে একটা হাস্যকর ছেলেমানুষি, তা বুঝতে পেরে বাড়িতে ফিরে ফের ঘুমিয়ে পড়ি।

তবে কেন বুকের মধ্যে এই অকারন উথাল পাথাল! সব মানুষই এক অসমাপ্ত কাহিনী। ওই নীচে অন্ধকার ভূখন্ডে আরও কত কাহিনী রচিত হচ্ছে, যার সবটুকু শেষ হওয়ার নয়। জীবনের অনেকটা বাকি থাকতে থাকতেই অনেকেই খেলার মাঠ ছেড়ে চলে যাবে; দেনা পাওনার হিসেব মিলবে না। তবুও বুকের মধ্যে মৃদু ঢেউ, দোল দিচ্ছে, ঘা মারছে, বলছে কপাট খোলো।

উত্তরের এই অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। পাহাড়ও বহু দূরে, তবু টের পাই শেষ পর্যন্ত্য এক মহা পর্বতই কোল পেতে থাকবে। দুঃখ, দৈন্য, দুর্দশা, অপমান, স্মৃতিভার থেকে শীতল মুক্তি...
আবাহন কিংবা বিসর্জন কিছুই নেই আমার কাছে, একবুক জল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তিতাস,  আত্মায় আটকে থাকে গতজন্মের পাপ-পূন্য। ঘুম থেকে জেগে দেখি নুতন আর এক সকাল, শুধু রয়ে যায় বিষন্ন এক আমি যা ছিলাম গতকাল। যে সমুদ্র আগে কখনই ছোঁয়নি, এক নিস্তেজ চড়ুই বারবার বলে যায় তার কথা।
ফেরিওয়ালা দুপুরগুলো হেঁকে যায় নৈমিত্তিক পসরা যাপনে, একে একে সবাই পেরিয়ে যায় কালবৈশাখির রংরুট; অচল সুখের বিনিময়ে কিনে নিই কলঙ্কিনী রাধা। অতঃপর অনেক প্রলম্বিত শীত এবং স্বল্পায়ু কিছু বসন্ত, বুকের বামপাশে ছড়ানো তোমার সবুজ; কতদিন যেন এইখানে আর কোনো ঋতু আসেনা...ধীরে ধীরে কাঁপতে থাকা আমার শহর মিশে যায় স্যাঁতস্যাঁতে চায়ের দোকানে। হয়তো আমাদের ফুটপাথে কয়েক লক্ষ বছর ধরে কিছু একটার অভাব জমে আছে এপ্রিলের মলাটে জমে থাকা বৃষ্টির  জলের মত। তারপর আমাদের চিরাচরিত যন্ত্র হয়ে বেঁচে থাকা সত্তায় হৃৎপিন্ডের সিউডো পর্যায়বৃত্ত আন্দোলন। কুড়ি বছরের হিসেবে আমাদের থাকে কিছু হাস্যকর মুখের জলছবি।
অথচ সবকিছুর মাঝে কি যেন একটা নাই...

শেষের কবিতায় এক ছন্নছাড়া বিকেল এসে বারবার ঢুঁ মেরে যায়, মেঘেরা গোপনে লুকিয়ে রাখে অন্য  এক আকাশ, মুখচোরা খামে বসন্ত নামে, বিকেলের ফুটপাথে অবিকল ভেসে যায় কাগোজের নৌকো, অবেলার বর্ষা এসে ভিজিয়ে দিয়ে যায় স্কুলের ব্যালকনি; পৃথিবীর হৃদয় রোমন্থন করে আকাঙ্খার পরিবার পাড়ি দেয় তোমার শহরে,  নিয়ন আলোয় লুটোপুটি খায় গোপন স্বপ্নেরা... আমার সময়, আমার শহর ভিষন ভাবে খুঁজছে তোমায়...বহুদিন দেখা হয় নাই তোমার সাথে..... তোমার উদ্দেশ্যে এই নাও জীবনের অভিশপ্ত পৃষ্ঠাগুলোর থেকে কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে দিচ্ছি, হাত পাতো, নাও।




0 comments:

Post a Comment