খোঁজ



আমার কোনো কিছুই ঠিকঠাক গোছানো নেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঘরে-দোরে, রাস্তায়। আমি সেইসব খুঁজতে বার হই দিগবিদিকে। একদিন খুঁজে পেলাম আমার একটা চোখ পড়ে আছে শালবনে, গুলি খেয়ে মৃত একটা কিশোরের চোখ। খুঁজে পেয়েছি আমার সেই দুর্দান্ত হরিণ আর শম্বর শিকারের দিন। খুঁজে পেয়েছি তামার তৈরী বর্শাফলা। বহুবছর পর খুঁজে পেয়েছি আমার বেশ কিছু হৃদস্পন্দনও। বুকের ভিত্র অযত্নে পড়েছিল বিদেশী ঠিকানায়। আমি গুনে গুনে ফিরিয়ে নিয়েছি গ্রীনকার্ড পাওয়া সায়ন্তনী চক্রবর্তীর ফুসফুস থেকে।

আমার লেখা অনেকগুলো কবিতার লাইন দেখতে পেয়েছি সুনীল গাঙ্গুলীর গোপন নোটবুকে। আমি একদিন তাঁর কাছ থেকে ফিরিয়ে আনব সেসব। এখনও খোঁজ পাইনি আমার ওলটানো ঠোঁট, বৃষ্টিজলে ভিজে যাওয়া কলেজ ডায়েরির পাতা।


ফাঁসীর মঞ্চে উঠার আগে যেসব শ্বাস খন্ড খসে পড়েছিল আমার, জানতে চাই সেসব প্রত্নকণাদের কোথায় লুকিয়ে রেখেছে আমার স্বদেশ।
মিথ্যে এনকাউন্টারের নামে আমার পিঠে ছুঁড়ে দেওয়া বুলেটের ক্ষতচিহ্ন ছুঁয়ে থাকা ভোররাত্রির বাতাসগুচ্ছকে আরও একবার হাতে নিয়ে উল্টে পালটে দেখতে ইচ্ছে করে।
হাজার হাজার বছর ধরে ধুলো পায়ে আমি হেঁটে যাচ্ছি এসব খুঁজে আনবো বলে...







0 comments:

Post a Comment