কোজাগরী ও মৃত আলফাজনামা


বুঝতে চাইনা, তবে এখন আর কান্না পেলে কাঁদি না। যার সাথে পথ গেছে ডাউনটাউন, মালটিপল ফ্রিকোয়েন্সিতে তার টাইমলাইনে প্রেম জমেছিল।
তোমার বিশ্বাসের উল্টোদিকে চাইনিজ চেকার আর খুচরো চাট নিয়ে বসে আছি। বাড়িতে কাঁচা আমপোড়ার শরবৎ নিয়ে মা জানতোও না, আমি স্পেশাল কোচিং বা এক্সট্রা ক্লাস না, তোমার জন্য ফিরতে দেরি করতাম।

বিশ্বাসের সবসময় একটা প্রবলতম ব্যাতিক্রম থাকে। যেদিকে চায়ের দোকানে লাইন দিয়েও প্রাপ্য চুমুক মেলে না, যেদিকে মাথার উপর ব্যার্থ হয়ে ঘুরে চলেছে তিনটি ব্লেড ...

মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আসুরিক সাধনায়, তোমার চেতনার সাধের ঘর বানানোর বাবুই পাখীর স্বপ্নীল মেকানিজমটা রপ্ত করি। মিথ্যা নিগৃহীত হওয়ার সহজ ১০৮ টি উপায় এখন ইন্টারনেটে এভেলেভল...কিংবা বই চাইলে স্যামস এর "টিচ ইয়োরসেলফ ইন 69 ডেজ" এগুলোই কি তোমার পাঠক্রম ছিল?
একবার একটু ভৌতিক চরিতাবিধান থেকে বেরিয়ে এসে দেখো... এই আমৃত্যু রোলার কোষ্টারে পাড়ি দিয়ে জীবন খোঁজ করে যাওয়া বড় একঘেয়ে হয়ে উঠেছে। জানি, সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়া লিখতে হবে একবার। ইদানিং বুকের বাঁ দিক একটা ফোর লেন বাইপাশ তৈরী করেছে। নিত্য নৈমিত্তিক যাতায়াত সেখানে, কোনো স্থিরতা নেই।

এগুলোই কি ট্যাগ লাইন হয়ে গেল জীবনের? আর কতদিন নৈঃশব্দিক বিষন্নতায়  আমাকে পোড়াবে বসুন্ধরা? একদিন ভোরকে ফাঁকি দিয়ে আমিই ভোর হব।

একটা জন্মদিন সেলিব্রেশানের আগে টুকরো রোদ আচমকা পকেটের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে আমি কিউমুলোনিম্বাস হই তোমাকে ভেজাবো বলে। জানো তো, শূন্যতার ফাটলে তুমি আলতো আঙুল রাখলেই তোমার খোঁপার অরণ্যে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। আর আমি হ্যামলিওনের বাঁশিওয়ালা হয়ে তোমার অতল গহ্বরে ঝাঁপ দিই, লাভা স্রোতে ভেসে যাবো বলে, কিন্তু পারি কই?

আমাদের যুদ্ধের কোনো সহজ ইকুয়েশান ছিল না, তাই আঙ্গুলে আজও পালকের মত জড়িয়ে আছে আমার প্রথম ক্রাশ। তারপর এক থেকে ইনফিনিটিতে রেস...শহরের হেল্পলাইনগুলি মনরোগী এটেন্ড করে ক্লান্ত। হালকা বরফের চাদরে লবনাক্ত ফেনার নীলাভ উচ্ছাস বয়ান দিয়ে যাচ্ছে একটা অদৃশ্য ফারাকের...অকৃত্রিম দুরত্বে ঢাকা পরে যাচ্ছে স্কাইলাইন।

এখন আর প্রানহানী তাড়া করেনা, বোমারু শব্দেরা এখন শুধু লাইন অফ কন্ট্রোল। দাবার ছকে আজ আর পররাষ্ট্র নীতি নেই, অনাবিল ধূসর রাজা একা পড়ে আছে। সময়ের স্টেনসিলে কি লিখে যাবে মরুভূমির মত দিশেহারা এক মন! নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সময়ের কাছে জবাবদিহহি...এবার একটু বিশ্রাম চাই।।

ঝড় এলে ধুলোরাও দেশ ছেড়ে দেশান্তরে পাড়ি দেয়, পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিটের তোয়াক্কা করেনা। কাঁটাতারের বেড়া মানে না। মানে না ইমিগ্রেশানের ফ্রম।
যে মেঠো পথটা দিয়ে কিছুক্ষন আগেই রাখাল আজও গরুর পাল নিয়ে গেছে, তাদের সেই রাস্তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছিস তুই। হয়তো এক বালিঝড় এলে একমুঠো পাকিস্তান আর ভারত মিশে নো ম্যান্স ল্যান্ড তৈরী করে। আমি উড়তে চেয়েছিলাম, একটা পাখির তো কোনো দেশ নেই, বন্দুক নেই, অথবা লাইন অফ কন্ট্রোল।
আজ আমারও কোনো দেশ নেই, জাত নেই। শুধু আইন আছে, কিছু ফর্ম আর এক সজীব মাংস পিন্ড; যা দিয়ে একটা জীবন্ত টাইমলাইন জুড়ে কিছু ঘটনাবলি এঁকে দিয়ে যাবো। কারন ঝড় এলে ধুলোরাও দেশ ছেড়ে দেশান্তরে পাড়ি দেয়, আর আমরা সেখানে মাস্কুলার শব্দ চাষী।।




1 comment:

  1. ভালই লাগলো লেখাটা

    ReplyDelete