মানুষ নামের কলঙ্ক মুক্তির উপায়


অন্ধ ঘোড়ার খুঁড়ের তীব্রতা খুঁজে পাবে কি প্রাণাধিক প্রিয় অশ্বরোহীর ছায়া? বুড়িটা সারারাত দড়জায় কড়া নেড়ে ক্লান্ত হয়ে ফিরে গেছে চাঁদে; শেওড়া গাছের বামন ভুতটা অথবা ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীর পুরোনো খুনসুটির গল্প প্রভৃতি রূপকথারা একদিন হাতড়ে মরবে প্রিয় শ্রোতার খুঁজে অথবা শ্রোতারাও রূপকথা হবে। হায় মানুষ! সেদিন তোমার গল্প শোনার মত কেউ থাকবে তো? ঘোড়াটি কি ফিরে পাবে প্রিয় অশ্বারোহী আর অশ্বত্থের ছায়া ? নাকি তার ঠিকানা হবে ‘মিউজিয়াম’ নামক সভ্যতার ভাঁড়ার!

চরাচরে কেউ নেই, বিস্তীর্ণ শায়র জুড়ে থই থই ফুটে আছে 
শুধু পদ্ম আর পদ্ম;
হাওয়ায় লেগেছে তার রঙ;
সেই রঙে ভিজে গেছি এই আমি কৃষ্ণাভ সান্যাল... 

এই পংক্তিগুলি শোনার পর আমি একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পাচ্ছিলাম যা কখনও দেখিনি। সে এক বিশাল দিঘী যার সারা শরীর জুড়ে শুধুই পদ্ম আর পদ্ম। সেই পদ্ম ছুঁয়ে ছুঁয়ে হাওয়ার আনাগোনা আমাকেও স্পর্শ করছিল। কিন্তু তারপরই ঝেঁপে বৃষ্টি এসেছিল, আর বৃষ্টির রঙটাই আমাকে আক্রান্ত করল এক আশ্চর্য্য অসুখে।

দুইটি  বছর  কাটিয়ে দিলাম !  ঠোঁটের কোণের চড়ূই-
উড়িয়ে দিলাম, তাড়িয়ে দিলাম 
স্থায়ীভাবে  কাট্টি ।
বেখেয়ালেও, উঁকি  দিলেও  
ধরবো না তোর হাতটি  ।
ধরবো চেপে  ঠোঁটের টুঁটি  হতে চাইলে  তোর-অই;
সত্যি  বলছি -  মিস করিরে দুষ্ট  পাখি  চড়ূই ।

হায়! ময়ুরাক্ষীতে আজ আর জল নেই, ময়ুরাক্ষীর গতীপথে  আজ খরা।  তার ভেজা  পায়ের ছাপ থাকে না । পারিজাত ঘুঙ্গুর পাশে পড়ে আছে- তার পাশে উদাসী উর্বশী ভাবনারতা, গায়ের বসন পায়ে লুটায়
দু:শাসন এসেছিলো বুঝি ! দেবী  কি উর্বশী জানিনা, জানতেও চাইনা  তবে- হৃদয়ের নৈবেদ্য আর দু’ঠোটের চুমোয়  করতলে দেবো তুলে সহজিয়া প্রেম ।  নেবে?
তোমার উপমায় তোমাকে গড়ে বসাবো বেদীতে, প্রতিরাতে নারীরা যেমন পুরুষের দেবী হয়ে ওঠে।
তোমার শেখানো মন্ত্রেই হবে তোমার রতি পূজা, আনাড়ি এই পুরোহিতকে প্রণয়ের প্রসাদটুকু 
দিও। 

চলো, রূপকথারা চুপ থাকতে থাকতে দিগন্তে মিলাই ।
সূর্য লুকালে রাত্রের পেটের ভেতর,
জোনাক পোকার মতন হালকা আলো নিয়ে -
জ্বলে উঠবে কল্পনার কুশীলবরা সবে ।
ডান পাশের শিশুটি জড়াবে ভয়ে !
বামের পাশেরটি খিলখিলিয়ে উঠবে হেসে; 
দেয়ালের জাগরূক টিকটিকিটা দেবে সায় ।
আর সূর্য হানা দেবার ঢের বাকি থাকতেই
হেইডেস হামলে পড়ে কঙ্কাবতীর গায় !
রক্ত-নহর দেখে রূপকথারা ডুকরে উঠবার আগেই - 
চলো ‘মানুষ’ কলঙ্ক নিয়ে প্রেতিনীর গর্ভে লুকাই ।।







0 comments:

Post a Comment