বেনামি গল্পেরা

যে ছেলেটা থেকে থেকে চোখের জল লুকোয় তোমার পাশের বাড়ির চিলেকোঠায় , মায়া ভরা চোখ নিয়ে শুধু তাকিয়ে থাকে, কথা বলতে চেয়ে যার আটকে যায় গলায় মাংসপিন্ড, বোবা যন্ত্রনা গিলে নিয়ে তিনরাত্তির জেগে থাকে, তুমি তাদের জন্যে লিখো দু-এক কলি।  তারপর,  বুকপকেটে কলম রেখে বেরিয়ে যেয়ো তোমার পচা শহরের  রাস্তায়,যেখানে দূষণ শুষছে অক্সিজেন। সবাই যখন গ্রামের পথে শান্তি খুঁজতে ব্যস্ত, মনের অথবা ফুসফুসের, তুমি অশান্তি খুঁজো কলকাতার বস্তিতে, ফুটপাথে, এমনি।

যে মেয়েটা দু-রাত্তির ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েছে চুবড়ি আর হাফ-ডজন ভাই বোনের মধ্যে, যার কথার মাঝে  অকথ্যের ভিড়...তাকে একটা হাওয়াই মিঠাই কিনে দিও। তার পর চক্ররেলে চড়ে চলে যেয়ো মিলেনিয়াম। যে প্রেমিকযুগল ঝগড়ায় খুন করছে প্রেম, তাদের বেঞ্চটাকে পছন্দ কোরো বসার জন্যে। ওদের বিরক্তি, কান্না বা তুমুল কথাকাটাকাটির মধ্যে একবার গিয়ে বোলো, "দাদা, আগুনটা দেখি-"
ওরা অবাক হবে। তার পর হয়তো এগিয়ে দেবে দেশলাইয়ের বাক্স-চরম বিরক্তি নিয়ে। তুমি সিগারেটে আগুন ছুঁইয়ে ফিরে আসার ঠিক আগে মুচকি হেসে বলে এসো, "ভীষণ অসম্ভবে, তোমাকে চাই-"
তারপর বিকেলের রোদ মেখে ফিরে এসো নিজের চোরাকুঠুরিতে-

লিখে ফেলো ওদের কথা, উপন্যাস করে। যেখানে ওই মেয়েটা ফুটপাথ থেকে মাথা তুলে গিয়ে দাঁড়াবে অলিম্পিকের স্টেডিয়ামে-ওই ছেলেটা নিশ্চিন্ত আরামের ঘুম ঘুমাবে, রোজ রাত্তিরে। আর ওই দু'জন, বাস্তবে দাঁড়িয়েই রচনা করবে এই মিলেনিয়ামের রূপকথা!
আর তুমি একরাশ ছাই, ভাঙা বীয়ার বোতল আর পোড়া সিগারেটের মাঝখানে বসে লিখে যাবে চিত্রনাট্য।

তুমি ওদের জন্য লিখো।
তুমি ওদের জন্য বেঁচে থেকো।


0 comments:

Post a Comment