ছেঁড়া ক্যানভাস



কেউ কখনো এসে বলেনি খুলে ফেলবো তোমার দরজা, অথচ তুমি যে ফুরিয়ে গিয়েছ এটা জানিয়ে দেবার দায়ভারও সন্তর্পনে এড়িয়ে যেতে চায় সবাই। রাত্তির জুড়ে শুধু ঝড়ো হাওয়া, নিঃশব্দে নামিয়ে রাখি ফোন। যারা রোদ্দুরের মতো হাসতে হাসতে আমাকে বৃষ্টিতে রেখে গেল, তারা জানলোও না বৃষ্টি মেঘেও কি সুখ!
নতুন করে কিছুই তো জানানোর নেই; সেই সাদা খাতা, সেই কুমকুমের রঙের ভোর; সেই আলো আঁধারে গলি পার করে বাড়ি-ঘর জানালা-দরজা, সাদা থানে মায়ের চোখ বারান্দায় ।

তবু তো ডাইরির পাতায় আমি কিছু না কিছু লিখে রাখি প্রতিদিন তোর জন্যে। একদিন তুই আসবি এই অন্ধকারে, নতুন কিছুই পাবি না নেই কোন গোপন চিন্তার প্রকাশ। তবু লিখি আমি তোর জন্যে, তোর জানা কথাগুলো আবার লিখি। লিখি কিভাবে রাস্ট্রই সৃস্টি করে সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর, কিভাবে ধর্মের কালো মুখ রাস্ট্র-নায়কের কালো হাতের সাথে মিলেমিশে একাকার হয় কর্পোরেট কার্পেট ।
লিখতে পারিনা সবুজ প্রেমের গল্প বহুদিন; ডাইরি পাতায় পাতায় আমি শুধু আমার জ্বালাটাই লিখতে
পারি অক্ষর বিন্যাসে ।

'রাত কত হইলো' রমজান আলি বা রতন সূত্রধরের জানা নেই, আমারও জানা নেই বারুদের ঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে গৈরিক সন্ত্রাসের আঁধারে। কুমকুমের রঙ ঠিক করে দেয় সকালের আঁধার ভূমিষ্ঠ শিশুর হাতে তলোয়ার; সে ছাড়পত্র পেয়ে গেছে নতুন সন্ত্রাসের আলো বা আঁধার ! কে জানে, জানিনা তুই ফিরে আসবি কিনা; পড়তে পারবি কিনা আমার অবিন্যাস শব্দের আঁকিবুঁকি। তবু লিখতেই হবে প্রতিদিনের জানা সব কথা কাগজে পেন্সিলে।

কি জানি যদি ফিরে আসি কোনদিন সেটা রাত বা দিন কি আসে যায় তাতে ।

এখন আর ভালোবাসার গল্প লিখতে পারিনা । রঙীন আলোগুলো নিভে যায় রোদ্দুরে।  স্মৃতির গল্পে অতর্কিত নেমে আসে বিষণ্ণ সানাইয়ে সূর । দূরে দূরান্তে শৈশব কেড়ে নেয় লম্পট পুরুষ।
কে যায় - রাতের অন্ধকারে হরি বলের ধ্বনিত্ব সূর, কান্নায় ভাঙে  ভোর।
বিবর্ণ আকাশ, হিজিবিজি লিখি নরকের কীটের মতো নাগরিক বার্ধক্যে। বহুবার বদল করেছি হৃদয়ের নিঃশব্দ গান । বিষাক্ত শরীর খোঁজে প্রেম বৃক্ষের ভয়ার্ত পাখিদের বুকে  লতানো নাভিমূলে।
হিংসার নিরুপায় সংকেত নিয়ে ফেরে প্রাচীন নাবিক আলোর তরঙ্গে আঁধারের জঙ্গলে  অবেলার ডাকে।
কোন এক অচেনা দ্বীপের কাছাকাছি ফেরে নাবিক আবছায়া আঁধারের রাতে। কে যায়  নিকট সন্ধ্যায় নিথর দ্বীপের আলোতে।কে ফেরে বিপরীত গণিতের পাঁজরের ভাষা নিয়ে। প্রশ্নগুলো দৃশ্যাতীত, কেউ কেউ উজানের টানে ভাসে নাগরিক প্রেম নিয়ে। কেউ কেউ যদিও জানতো বিবেচনাহীন একটা জীবনের গান প্রত্যঙ্গ রূপে বস্তুতঃ ব্যাকরণ পদ্ধতির আড়ালে আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম সুদীর্ঘ অতীত। কেবল উচ্ছ্বাসের বিষাদগুলো জেগেছিল রাত-ভোর  কুসুমিত অভীপ্সার যন্ত্রণা নিয়ে  নির্বিকার পাখির মতো এক ডালে।

ঘুমিয়ে পড়তে পারলে ভালো হতো কতগুলো মেঘের সাথে রাতে অথবা দিনে তোমার কাছে অথবা তোমার থেকে দূরে, ঘুমের মধ্যেই না হয় খুঁজে নিতাম হায়নার আলো ।
কখনো মাঠ পেড়িয়ে তোমাকে দেখেছি, কখনো মুখোমুখি তোমাকে চিনেছি; আসলে এই শরতে ঝিলমিল রোদের কথা বলতে পারিনি তোমাদের কাওকে ।
শুধু কিছু দল ছুট পাখিদের মতো খুঁজে ফিরেছি সেই পুরাতন কিছু স্মৃতি । অবয়বহীন রাতে কতবার তোমাদেরকে  বলতে চেয়েছি আমার কিছু নিষিদ্ধ ভাষা , আমার কিছু গোপন প্রয়াস । অথচ মেঘেদের দল এসে সব কিছু ভাসিয়ে  নিয়ে গেছে , শুধু কিছু ভেজা আসবাবের গায়ে লেখাছিল তোমার নাম
আর কিছু ছিলনা সেদিন ।
আর সেইদিন থেকে আমি হাঁটতে হাঁটতে  যেতে চেয়েছিলাম মেঘের মোহনায় । অনন্ত এক তামসিক আঁধার আমার শরীরের  বিন্দুর সাথে মিশে গেছে । এসেছে ঘুম। ক্লান্তির অবগাহন ছুঁয়েছে মন ।
অথচ হায়নার ছোবলের মাঝে আসেনি ঘুম , শুধু চেয়ে থেকেছি  আমার অচেনা শহরের মানুষের দিকে। চেনা মুখ, চেনা ভাষার শব্দের ছন্দে ঘুমোতে চেয়েছি  তোমার কাছাকাছি অথবা তোমার থেকে দূরে ।

কাল রাতে শব্দগুলো সাজিয়েছিলাম তোর জন্যে; মেঘের আকাশ কালো মেঘ নিটোল নাভির সেই মেয়েটি  আমার কৃষ্ণকলি ।

ভাঙছি সব তোর জন্যে আদুল গায়ে সেই কিশোরের স্বপ্নে যে তুই আজো আসিস । মাঝে মধ্যে হারিয়ে ফেলি কিছু কিছু শব্দরাশি । যেমন তোকে বলা আমার শেষ কবিতা, ছন্দবিহীন রাতের জোছনা
আমার সাথে হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে গেলো মিথ্যে কিছু কথার ভাঁজে।  তোকে দেখায় দ্রাক্ষাফলের এক বিঘত শহুরে মন । সব কিছুই আজ ওলট-পালট ; কখন যেন কেও এসে বলে ফেললো তোর কিছু স্মৃতির কথা ।

কেমন যেন বুদবুদে স্বপ্নগুলো; প্রতিদিন তোকেই দেখি ঘুম ভাঙার আগে ও পরে । কৃষ্ণকলি আজো যে তোকেই ভাবি দুপুর কিম্বা বিকেল হলে; ভোর রাতে যখন তুই একা ফিরিস  রাতের কবিতায় ক্লান্ত হয়ে।

মেঘের ওপারে একটা ঘর আমার জন্যে, শুকনো কাপড় ভীজে যাবার ভয় নেই। বৃষ্টি এখন অনেকটা দূরে। আয়নার সামনে দাঁড়ালেই তোর কথা মনে আসে। তোর সেই টিপটা এখনো লেগে আছে ড্রেসিং টেবিলে। বিকেলের রোদটা সরে গেলেই তুই বেড়িয়ে পড়তিস সেতার হাতে।তোকে দেখলেই আমার বসন্তকাল মনে হতো প্রতিদিন, সে বর্ষা,গ্রীষ্ম অথবা হেমন্ত ।
তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার স্পর্ধা আমার কখনোই ছিলনা। মিছিলের সেই মুখ, শ্লোগানে মুখর আকাশ, পারাপারে ক'জন আমরা  ঝান্ডা হাতে। মেঘের ওপারে আমার প্রিয় ঘরটাতে এখনো আকাশ  উঁকি দেয় ।



0 comments:

Post a Comment