প্রমিস ডে

ভালো মন্দ মিশিয়ে দিব্যি দিন কেটে যাচ্ছিল। ঠিক এমন সময় ব্যাপারটা ঘটলো।
দুপুরবেলা তার বরাদ্দ দুধভাতটা রোদের আদুরে ভাবের সাথে চেটেপুটে খেয়ে মেনি সবে পাঁচিলের গায়ে উঠে বসেছে, ঠিক সেই সময় ঘটলো ব্যাপারটা।
ফটিক স্কুল থেকে ফিরে জলখাবার খেয়ে মনে মনে ভাবছে আউটসুইং না ইনসুইং—কী করে ট্যাঁপাদের সেরা ব্যাটসম্যানকে জব্দ করবে, ঠিক সেই সময় ঘটে গেল সেই ব্যাপারটা।
নিজেদের ট্রেডমার্ক রান্নাগুলো না—এবার ভিনদেশি মানে,চাইনিজ-কন্টিনেন্টাল—এইসব রান্নায় ঘটি-বাঙাল—কার দম কত সেটা বুঝতে পাড়ায় একটা ‘রান্নাবাটি জমজমাটি’ নামে একটা রান্না কম্পিটিশন আয়োজন করবেন বলে সবে ভাবনা শুরু করেছিলেন রাধারমণবাবু। ঠিক সেই সময়েই ব্যাপারটা ঘটল।      

আফটারনুন ওয়ার্কআউট সেশনের আগে কানে হেডফোন গুঁজে সবে দঙ্গলের টাইটেল ট্র্যাকটা চালিয়েছিল ব্যায়ামবীর মাসেলদা, ঠিক এমন সময়েই তার চোখের সামনে ঘটে গেল ঘটনাটা।
বাবলুকাকুর ছেলে সবে ডোনার হাতটা হাতে নিয়ে তিন দিন ধরে মুখস্থ করা প্রমিস ডে-র স্পীচটা দেবে বলে বুকভরে কচি বসন্তের হাওয়া টেনে নেবে বলে ভাবছে, এমন সময় সেই ঘটনাটা ঘটেই গেলো।

মেনি নিজের গা চাটতেও ভুলে গেলো। ফটিকের ইনসুইং-আউটসুইং-বিরাট কোহলি-অঙ্কের স্যার-মোবাইল ফোন—সব ঘেঁটে গেল। রাধারমণবাবুর মাথায় রান্না কম্পিটিশনের বদলে আগামী ডার্বির প্ল্যান এন্ট্রি নিতে গিয়েও মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে গেল। মাসেলদার কানে দালের মেহেন্দির বদলে যেন হানি সিং শুরু হল। ডোনাদি হাত ছাড়িয়ে উত্তেজনায় ঠোঁটের লিপস্টিক চেটে ফেললো।
যখন পাড়ার বিখ্যাত চুল্লুখোর তার বউ কে বলছে, “বিশ্বাস করো, আজ এই প্রমিস ডে-তে বলছি, আমি আর ওসব খাবো না।”

কাকেশ্বর হিসেব করে বলল, “একশো আট বার হল।” 




0 comments:

Post a Comment