রিটায়ারমেন্ট



আজকাল সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না মিলনবাবুর। একেই কাজ ছাড়া তাঁর চলে না, জীবনে দুদণ্ড জিরিয়ে নেওয়ার অভ্যেস তাঁর নেই। তার ওপর আবার তিনি রিটায়ার করেছেন এই মাসের সাত তারিখ নাগাদ।রিটায়ারমেন্ট। মানেই অখণ্ড অবসর। প্রথমে তো বুঝতেই পারেননি যে এবার থেকে সারাদিন কী করবেন। সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি। তবে কয়েকটা দিন কেটে যাওয়ার পর একটু ধাতস্থ লাগছে পুরো ব্যাপারটা। সকালে মোবাইলের অ্যালার্মের রিনরিনে বিপদঘণ্টি শোনার উৎকণ্ঠা নেই। যদুবাবুর বাজারে মাছওয়ালার “কানকো টিপে দেখুন, ফ্রেস মাল” বলে আশ্বাস নেই। শাকওয়ালার “জঙ্গিপুরের পুঁই, দাদা, নিয়ে যান...এক আঁটি তিন টাকা”র আহ্বান নেই। বাজার থেকে ফেরার সময় মদনদার দোকানে ভয়ে ভয়ে একটা শিঙাড়া আর দুটো জিলিপি পেটে চালান করার নির্মল আনন্দ নেই। অফিস যাওয়ার তাড়া নেই, উঠতে বসতে গোমড়ামুখো বসের হুংকার আর সিড়িঙ্গে কলিগদের টিটকিরি নেই। বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় বাস পাওয়ার দুশ্চিন্তার মাঝখানে বসন্ত কেবিনের ফিশফ্রাইয়ের পাগল-করা গন্ধের অনুপ্রবেশ নেই। ভিড় বাসে “দাদা,একটু চেপে দাঁড়ান” কিংবা কন্ডাক্টরের “এগিয়ে যান,এগিয়ে যান”বলে প্রত্যক্ষ মদত নেই। নিদেনপক্ষে ভিড়ের মধ্যে কোন তন্বীর গায়ে সুবেশী ভদ্রলোকের ভুঁড়ি চেপে ধরা দেখে রাগ, ঘৃণা, বিতৃষ্ণা, লজ্জার নৈসর্গিক ককটেলও নেই। বাড়ি ফিরে গিন্নির হাতের ঘন দুধের চা নেই। কিছুই নেই। সন্ধ্যেবেলা বাংলা সিরিয়ালের নায়িকার টাইট টপ আর রাতে হিন্দি সিনেমার নায়িকার উদ্ধত যৌবন দেখে গিন্নির ভয়ে লালা আর দীর্ঘশ্বাস চেপে রাখা নেই। আর রাতের খাস্তা লুচির সাথে কচি পাঁঠার ঠ্যাং তো নেই-ই।


থাকার মধ্যে শুধু ফ্রেমে বাঁধানো একটা ছবির ওপর চন্দনের ছাপ আছে। আর কয়েকটা ধুপের একঘেয়ে গন্ধের সাথে সাদা শাড়ি পরা গিন্নির মনখারাপ লুকোচুরি খেলে বেড়াচ্ছে। 



0 comments:

Post a Comment